করোনা আবহে সংক্রমণ রুখতে ঘট পুজো করবে ভূপালপুর রাজবাড়ির পরিবারের সদস্যরা

237

রায়গঞ্জ: করোনো আবহে সংক্রমন রুখতে এবার ঘট পুজো করবে রায়গঞ্জ ব্লকের ভূপালপুর রাজবাড়ির বংশধরেরা। এখানকার পুজোর বয়স প্রায় পাঁচশ বছর। রাজবাড়িতে রাজা না থাকলেও রয়েছেন তাঁর বংশধরেরা। ঐতিহ্য মেনেই প্রতিবছর পুজো করেন তাঁরা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর জৌলুস অনেকটা কমলেও প্রাচীনত্বের ঐতিহ্য মেনে পুজোকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন প্রত্যেকে। কিন্তু এবছর করোনা আবহে সংক্রমন রোধে শুধুমাত্র ঘটপুজো হচ্ছে রাজবাড়িতে।

তবে সমস্ত রীতিনীতি মেনেই হবে পুজো। নিয়ম মেনে কালিঘাটের  পুরোহিত পুজো করবেন। তবে পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবার যে আয়োজন হয় তা এবারে থাকছে না। তাই পরিবারের সদস্যদের মন ভালো নেই। জানা গিয়েছে, শেরশাহের আমলেই এই পরিবারে দুর্গাপূজার প্রচলন হয়।

- Advertisement -

প্রথমে ইটাহারের চূড়ামন রাজবাড়িতে এই পুজোর সূচনা হয়, পরে কৃষ্ণচন্দ্র রায় চৌধুরী, ভূপাল চন্দ্র রায়চৌধুরীর হাত ধরে পুজো শুরু হয় ভূপালপুর রাজবাড়িতে। সেই ঐতিহ্য মেনে পরবর্তী প্রজন্ম দেবী দুর্গার আরাধনা করে আসছেন। পুজোকে কেন্দ্র করে বংশধরেরা রাজবাড়িতে মিলিত হন।

গ্রামবাসীরাও শামিল হন পুজোতে। পুজোর চারদিন ধরে চলে হৈ চৈ। কিন্ত ঐতিহ্য মেনে পুজো হলেও বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে এখানকার পুজোতে। আগে মহালয়ার দিন থেকেই দেবী আরাধনায় মেতে উঠতেন রাজপরিবারের সদস্যরা। দেবীর কাছে মহিষ ও ছাগ বলির প্রথা ছিল। কিন্তু বর্তমানে দেবীর বোধন হয় ষষ্ঠীতে। বলিপ্রথাও আর নেই। দুর্গা প্রতিমার সঙ্গে থাকা অসুরের গায়ের রঙ ঘন সবুজ হয়। দুর্গাপ্রতিমার মাথার উপর থাকে গঙ্গা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের অবস্থান। দেবী মূর্তির দুদিকে থাকে রাম ও লক্ষ্মণের মুর্তি।

পরিবারের সদস্য অভিজিৎ রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাড়িতে বয়স্ক ও শিশুরা রয়েছে। তাই সকলের কথা মাথায় রেখেই এবারে ঘট পুজো হচ্ছে। সেই কারণে পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেকের মন খুবই খারাপ। প্রতিবছর জাঁকজমকভাবে পুজো হয়। এবারে সেটা হচ্ছে না।

উচ্চশিক্ষা এবং জীবিকার কারণে রাজবাড়ির সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রয়েছেন। কিন্তু পুজোর সময় প্রত্যেকে বাড়িতে আসেন। ফলে পুজোর চারটে দিন যেন আগের মতোই জমজমাট হয়ে ওঠে রাজবাড়ি। পুজোকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম হয়। তিনি বলেন, এবছর কোভিড আবহের কারণে সবকিছুই বন্ধ রাখা হয়েছে।

ঘটপুজোর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাতৃ আরাধনায় মাতবেন রাজপরিবারের সদস্যরা। ভূপালপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক কাঞ্চিরাম রায় বলেন, রাজবাড়ির পুজো মানেই আলাদা আনন্দ। রায়গঞ্জ ও ইটাহার থেকে বহু দর্শনার্থী এখানে আসেন পুজো দেখতে।

পুজোর আয়োজন ছোট হলেও রাজবাড়ির পুজোর প্রতি আলাদা একটা অনুভূতি আছে প্রত্যেকের। এবারে করোনা আবহের জন্য রাজবাড়ির সদস্যরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই সকলে সুস্থ থাকলে আবার সকলে মেতে উঠব এখানকার পুজোয়। স্থানীয় বাসিন্দা বাসুদেব বর্মন, কলাবতী রায়, গনেশ রায়, সুব্রত দেবপাল সহ আরও অনেকেই করোনা সংক্রমন রুখতে রাজ পরিবারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।