কমিশনের ক্ষতিপূরণ পায়নি রাজকুমার রায়ে পরিবার

দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোটকর্মীর দাযিত্ব পালন করতে গিয়ে ইটাহারের একটি ভোটকেন্দ্র থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যান করণদিঘি হাই মাদ্রাসার ইংরেজি শিক্ষক রাজকুমার রায়। নির্বাচনের পরদিন রায়গঞ্জের গোলইসরাতে পাওয়া যায় তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ। রাজকুমারবাবুর নৃশংস মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যের সর্বত্র ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণ চেয়ে গঠিত হয় রাজকুমার রায় হত্যার বিচার চাই মঞ্চ। রাজকুমারবাবুর পরিবারের সদস্যরা তাঁর এই মৃত্যুর সঠিক বিচারের দাবিতে সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি মতো রাজকুমারবাবুর পরিবার প্রাপ্য ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এখনও পায়নি। মৃতু্য়র ১৬ মাস পরেও ক্ষতিপূরণ না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন স্ত্রী অর্পিতা রায় বর্মন ও পরিবারের সদস্যরা। বাড়ি তৈরির জন্য প্রয়াত রাজকুমারের নেওয়া ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় তাঁরা বাড়ি ক্রোকের আশঙ্কায় ভুগছেন। ইতিমধ্যে এলআইসি হাউসিং ফিনান্স কর্তৃপক্ষ অর্পিতাদেবীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করছে। কিন্তু তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারছেন না। অর্পিতাদেবী তথ্য জানার অধিকার আইনে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রতিশ্রুতি অনুয়াযী ক্ষতিপূরণের ২০ লক্ষ টাকা এখনও প্রদান না করার কারণ জানতে চেয়ে আবেদন করেছিলেন। নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে, এবিষয়ে জেলা নির্বাচন আধিকারিকের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এবং অনুষঙ্গে বলেছে, রাজকুমার রায়ের কেস বিচারাধীন থাকায় এর নিষ্পত্তি সম্ভব নয়। যদিও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মামলার নিষ্পত্তির সঙ্গে ক্ষতিপূরণ সম্পর্কহীন।

- Advertisement -

প্রাথমিকভাবে অর্পিতাদেবী জেলাশাসকের দপ্তরে চাকরি ও পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ২০ লক্ষ টাকা তিনি পাননি। তিনি বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি মতো এখনও ২০ লক্ষ টাকা পাইনি। কবে পাব বুঝতে পারছি না। বাড়ি তৈরির জন্য উনি প্রায় ২০ লক্ষ টাকা এলআইসি হাউসিং ফিনান্স থেকে লোন নিয়েছিলেন। প্রতি মাসে ১৮, ৫০০ টাকা কিস্তি ছিল। ১৬ মাস ধরে কিস্তি বন্ধ থাকায় এলআইসি হাউসিং ফিনান্স কর্তৃপক্ষ চাপ সৃষ্টি করছে। এই অবস্থায় তারা বাড়ি ক্রোক করে নিলে কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। তাই ক্ষতিপূরণ বাবদ ২০ লক্ষ টাকা পেলে লোনের টাকা শোধ করে দিতাম। ছোটো ছেলেমেয়ে নিয়ে অথই জলে পড়েছি। কী করব বুঝে উঠতে পারছি না।

রাজকুমার রায় হত্যার বিচার চাই মঞ্চের অন্যতম আহ্বায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য জানান, আমরা সংগঠনের তরফে জেলাশাসকের সঙ্গে শীঘ্রই দেখা করে দ্রুত রিপোর্ট পাঠানোর জন্য আবেদন জানাব। অর্পিতাদেবীর পরিবার দ্রুত ক্ষতিপূরণ না পেলে আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। গত ২১ অক্টোবর আমরা আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিকাশবাবু জানিয়েছেন, রাজকুমার হত্যার সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে যে মামলা চলছে, তার সঙ্গে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেওয়া উচিত।