বাংলা ধারাভাষ্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র অজয় বসু

858

হরিপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় : আজও কান পাতলে রেডিওতে তাঁর কণ্ঠস্বর শুনতে পাই। “ইডেন উদ্যান থেকে বলছি অজয় বসু”। বাংলা ধারাভাষ্যের স্বর্ণযুগের অধীশ্বর ছিলেন তিনি। শুধু ইডেন কেন, যে কোনও মাঠ থেকে অজয় বসু বলছি শুনলেই লাখো লাখো মানুষের হৃদয় উদ্বেল হয়ে উঠত। পরিপাটি ধুতি-পাঞ্জাবি পরে ষোলোআনা খাঁটি বাঙালি অজয় বসু যেখানেই যেতেন সকলের চোখ পড়ত তাঁর দিকে। ভগবান প্রদত্ত কণ্ঠস্বর ছিল তাঁর, যা তাঁকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছে দিয়েছিল। বাংলা ধারাভাষ্যের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ছিলেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কমল ভট্টাচার্য। রণজিতে বাংলার প্রথম বোলার হিসেবে শতাধিক উইকেট পাওয়া কমল ভট্টাচার্যকে পরের প্রজন্ম খেলোয়াড় নয়, আদ্যোপ্রান্ত ধারাভাষ্যকার হিসেবেই চিনেছে। অজয়দা থাকতেন বাগবাজারে। যৌবনে খেলাধুলায় নামী সাংবাদিক ছিলেন। ছিলেন যুগান্তরের ক্রীড়া সাংবাদিক। কিন্তু তাঁর সাংবাদিক পরিচয়কেও ছাপিয়ে গিয়েছিল ভাষ্যকার হিসেবে তাঁর তুমুল খ্যাতি। তাঁর অবিস্মরণীয় কণ্ঠস্বর এবং কমলদার নাটকীয় ভঙ্গির যুগলবন্দি ক্রিকেটকে বাঙালির হেঁশেলে ঢুকিয়ে দিয়েছিল। বাংলা ধারাবিবরণীর সেরা জুটি। যে কোনও সেলিব্রিটির সঙ্গে জনপ্রিয়তায় এই দুজন পাল্লা দিতে পারতেন।

পাঁচের দশকে ফুটবল ম্যাচ দিয়ে বাংলা ধারাবিবরণী শুরু বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের হাত ধরে। তারপর প্রবেশ অজয় বসু, কমল ভট্টাচার্যের। ফুটবলের সঙ্গে শুরু পাঁচ দিনের টেস্ট ম্যাচ। তখন ম্যাচের একটা টিকিট পাওয়ার জন্য রাত জেগে লোক লাইন দিত। কিন্তু মাঠে ঢোকার সুযোগ পেতেন ভাগ্যবানরাই। আর অগণিত ক্রিকেটপ্রেমীর ভরসা সেই অজয় বসু, কমল ভট্টাচার্যর‌্য। এরপর এই জুড়ির সঙ্গে যোগ দেন পুষ্পেন সরকার এবং রণজির এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া বোলার প্রেমাংশু চট্টোপাধ্যায়। আমি জীবনের প্রথম ধারাভাষ্য দিই ৭৫-এর দলীপ ট্রফিতে কমল ভট্টাচার্যের সঙ্গে। পুষ্পেন সরকারের সঙ্গে ধারাভাষ্য দিয়েছি এবং অজয় বসুর পাশে বসেও। ৮২-র নেহরু কাপে ভারত-ইতালি ম্যাচে, সেই ইডেন উদ্যান থেকেই। আজও সেদিনের কথা মনে পড়ে। একটু নার্ভাস ছিলাম। অজয়দাই পরিবেশটা সহজ করে দিয়েছিলেন। সেই সুখস্মৃতি আজও মনকে নাড়া দেয়। বলার কথা, এবছরই অজয় বসুর জন্মশতবর্ষ। প্রবাদপ্রতিম ভাষ্যকারকে আমার সশ্রদ্ধ প্রণাম।

- Advertisement -