লকডাউনে চাষী গৌরমাঙ্গি, রংমিস্ত্রি রালতে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : ফুটবলার থেকে ক্রীড়ামন্ত্রী- লকডাউনের এই কঠিন সময়কে অন্যভাবে কাজে লাগাচ্ছেন সকলেই। রবার্ট রয়তে, গৌরমাঙ্গি সিং, লালরিনডিকা রালতে অথবা জেজে লালপেখলুয়া, সকলেই খেলার বাইরে কোনও না কোনও কাজ করে যাচ্ছেন।

মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী রবার্ট রয়তে নিজে খেলাধুলোর জগতের মানুষ। আইজল এফসির মালিক, সফল ব্যবসায়ী। নিজের কাজ, রাজ্যের কাজ যেমন করছেন তেমনি পথে নেমে মানুষের জন্যও কিছু কিছু কাজ করছেন। তিনি অবশ্য এ বিষয়ে কোনও কথাই বলতে রাজি নন। তবে স্থানীয় এক মহিলা হঠাৎ তাঁর একটি ছবি টুইট করেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে, গৃহহীন এক পরিবারের জন্য বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছেন তিনি। শুধু জিনিসপত্র বা টাকাপয়সা দিয়ে তৈরি করে দেওয়া নয়, নিজেই বয়ে নিয়ে আসছেন বাড়ি তৈরির জিনিসপত্র। কাজে হাত লাগিয়েছেন রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গেও। কারণ দ্রুত বর্ষা আসছে পাহাড়ে। আর করোনার সময় পথে থাকা নিরাপদ নয় বুঝেই তাঁর এই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। ইতিমধ্যে মিজোরামে তিনি খেলাধুলোকে রাজ্যের এক নম্বর ব্যবসার মর্যাদা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।

- Advertisement -

তিনি যখন গৃহহারাদের জন্য কাজ করছেন, তখন বর্ষা নামার আগেই বাবা-মার বাড়ি রং করে দিচ্ছেন লালরিনডিকা রালতে। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইস্টবেঙ্গলের মিজো ব্রিগেডকে নিয়ে সড়কপথেই বাড়ি পৌঁছেছেন ডিকা। এমনিতে ডিকার বাড়ি আইজল শহর থেকে অনেকটা দূরে। ফলে তাঁর পৌঁছোতেও খানিক বেশি সময় লেগেছে। বাড়ি পৌঁছে প্রথমে সাধারণের জন্য করা কোয়ারান্টিন সেন্টারে থাকতে হয়েছে তাঁকে। পরে আবার হোম কোয়ারান্টিন। এখন অবশ্য সেই সময়টাও পার করে ফেলেছেন। বাবা-মার জন্য নতুন করে বাড়ি করে দিয়েছেন ডিকা। হঠাৎ লকডাউন হয়ে যাওয়ায় সেভাবে মিস্ত্রি পাওয়া যাচ্ছে না বলে এখন সেই বাড়ি নিজেই রং করছেন ডিকা। জানালেন, এখন তো কিছু করার নেই। মিস্ত্রিও পাচ্ছি না। তাই ঠিক করলাম বাড়ি রং করার কাজটা নিজেই করব। এতে কিছুটা পরিশ্রমও হবে। ফলে ফিটও থাকতে পারব। জেজে আবার পাড়ার বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির আশপাশের অঞ্চলে সাইকেল চালিয়ে নিজেকে ফিট রাখা ছাড়াও লোকজনের সুবিধা-অসুবিধার খবর নিচ্ছেন। ইযং মিজো ব্রিগেডের হয়ে ইতিমধ্যে রক্তদান শিবির করেছেন। কারণ, এই সময়ে মানুষের রক্তের প্রয়োজন হলে যাতে সমস্যা না হয়। এছাড়া চেষ্টা করছেন, অন্য মানুষের প্রয়োজনে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে।

গৌরমাঙ্গি সিং আবার এই সময়ে বাড়ির জন্য অর্গ্যানিক সবজির চাষ করা শুরু করেছেন। বাড়ির খুব কাছেই তাঁদের প্রায় এক একর মতো জমি আছে। তিনি নিজেই জানান, এক একরের কাছাকাছি একটা জমি ছিল আমাদের। সেখানে বছর দুয়েক হল একটা কিচেন গার্ডেন করা হয়েছিল। এখন লকডাউনের সময়ে আমাদের কিছু করার নেই বলে ভাইবোনেরা মিলে ওটাকে বাড়ানোর কাজে লেগে পড়েছি। রোজ কয়েক ঘণ্টা করে সময় দিচ্ছি ওখানে। দারুণ লাগছে কাজটা করতে। ওই জমিতে লংকা, আদা, হলুদ, স্কোয়াশ, করোলা, কুমড়ো, লাউয়ে মতো সবজি ফলাচ্ছেন গৌরমাঙ্গি। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, এতে শরীর ও মন দুটোই খুব তরতাজা থাকছে। সঙ্গে নিজেরাও তাজা সবজি খাচ্ছি। এতে শরীর-স্বাস্থ্যও ভালো থাকছে। এই অভ্যাসের পাশাপাশি খালি সময়কে বই পড়ার কাজেও লাগাচ্ছেন বলে জানান গৌরমাঙ্গি।