পেট চালাতে আমন ধান গাছ কেটে বিক্রি করছেন চাষিরা

1027

পার্থসারথি রায়, দিনহাটা :  করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকের হাতে পয়সা নেই। সংসার চালাতে হিমসিম অবস্থা। শেষমেশ খেতের আমন ধানের গাছ কেটে নিয়ে তা আঁটি বেঁধে হাটবাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন দিনহাটার কৃষকদের অনেকেই। সোমবার দিনহাটা-১ ব্লকের পেটলা বাজারে ধান গাছ বিক্রির এই দৃশ্য দেখা গেল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে করোনা পরিস্থিতির জেরে অন্যান্য জায়গার মতো দিনহাটা মহকুমার সিতাই, দিনহাটা-১ ও ২ ব্লকের বিশেষ করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র কৃষকরা চরম আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন। চলতি বর্ষা মরশুমে ধারদেনা করে অনেকেই জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। কিন্তু আর্থিক দৈন্যদশায় পড়ে আমন চাষিদের অনেকেই খেতের ধান গাছ কেটে তা আঁটি বেঁধে গোখাদ্য হিসেবে হাটবাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। উল্লেখ্য, এবছর এখনও বর্ষার ধারাবাহিকতা চলছে। গত ছয় মাস ধরে একটানা বর্ষার প্রকোপ থাকায় বিভিন্ন এলাকায় প্রাণীর বিশেষত গোখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গৃহপালিত প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত খড় বেশিরভাগ প্রাণীপালকের বাড়িতেই শেষ হয়ে গিয়েছে। চারদিকে গোখাদ্যের আকাল পড়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে গোসানিমারি, কৃষিমেলা, ভেটাগুড়ি প্রভৃতি হাটবাজারে আমন ধানের গাছ অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।  পেটলা বাজারে আমন ধানের গাছের আঁটি বিক্রেতা মণিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ধানের প্রতি আঁটি ১২ থেকে ১৫ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। তাতে বিঘে প্রতি ১৫ হাজার টাকার বেশি হাতে আসছে। কিন্তু ধান বিক্রি করে বিঘে প্রতি এর থেকে অনেক কম দামে পাওয়া যেত। করোনার সংকটকালে ধান গাছ বিক্রি করা এই বাড়তি অর্থ সংসার চালাতে অনেকটাই কাজে লাগবে।

- Advertisement -

অপর আমন চাষি ভবেন বর্মন বলেন, সাধারণত আমন ধান চাষ করলে আমার গোটা বছর সংসারে আর ভাতের চিন্তা থাকে না। কিন্তু এবার করোনার জন্য বাধ্য হয়ে খেতের ধান গাছ কেটে গোখাদ্য হিসেবে বাজারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অজিত রায়, অন্নদা রায় প্রমুখ আমন চাষিদের কথায়, আমরা ধান চাষ করি নিজেদের খাবার জন্য। প্রতি বছর উত্পন্ন ফসলের উদ্বৃত্ত অংশ বিক্রি করে সংসারের অন্যান্য প্রযোজন মেটাই। কিন্তু এবার এরকম কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি। অন্যদিকে, সিঙ্গিমারি নদীর ভাঙনে দিনহাটা-১ ব্লকের অনেক চাষির আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের কবল থেকে চাষিদের জমি বাঁচানোর উপায় নেই। বাধ্য হয়ে সেই সমস্ত খেতের ধান গাছ কেটে তার আঁটি হাটবাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে বলেই নদীতীরবর্তী চাষিদের অনেকেই জানিয়েছেন। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি দীনবন্ধু রায় বলেন, জীবনে এই প্রথম দেখলাম যে খেতের ধান গাছ কেটে তা বাজারে গোখাদ্য হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।