ইয়াস আতঙ্ক, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধান কাটছে চাষিরা

100

মুরতুজ আলম, চাঁচল: কালবৈশাখীর তাণ্ডবে ব‍্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন চাঁচল মহকুমা এলাকার চাষিরা। শিলাবৃষ্টিতে মাঠের পাকা ধান ঝরে পড়েছিল, পাট ও সবজি খেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। কয়েক হাজার কোটি টাকার ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন কৃষকরা। ফের নতুন করে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে চাষিদের মধ্যে। তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মাঠের অবশিষ্ট পাকা ধান কেটে নিচ্ছে চাষিরা।

চাঁচল-১ নম্বর ব্লক কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার এই এলাকার ১০৪টি মৌজায় প্রায় ৩৮০০ হেক্টর বোরো ধান চাষ হয়েছে। তারমধ‍্যে প্রায় ৫০০ হেক্টরের বেশি ধান নষ্ট হয়েছে বলে অনুমান। চাঁচল-১ এর মৌজাগুলিতে এবার প্রায় ৩০০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তার মধ‍্যে প্রায় ১০০০ হেক্টর জমির পাট নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে ধানের তুলনায় পাটের ক্ষয়ক্ষতি বিপুল পরিমাণে হয়েছে বলে কৃষি দপ্তরের দাবি। এছাড়াও ওই ব্লকের মৌজা গুলিতে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়ে থাকে। শিলাবৃষ্টির জেরে সবজিতেও ক্ষতি হয়েছে।

- Advertisement -

চাঁচল-১ ব্লকের কৃষি অধিকর্তা দীপঙ্কর দেব জানান, মাঠের সিংহভাগ জমির ধান কাটা হয়েছে। যারা এখনও পযর্ন্ত পাকা ধান কাটেন নি সেই চাষিদের শীঘ্রই ধান কাটতে বলা হচ্ছে কৃষি দপ্তরের তরফে। সামসীর এক চাষি খুরশেদ আলম বলেন, ‘এবার মাঠে তাঁর তিন বিঘে বোরো ধান ছিল। কিন্তু গত দু’সপ্তাহ আগে ব্যাপক শিলাবৃষ্টিতে বেশির ভাগ ধান শীষ থেকে ঝরে পড়েছে। ধানের ফলন নেই। শুধু ধান গাছের নাড়া টুকু দাঁড়িয়ে আছে। এবার ধান চাষ করে লাভের অংক দূরের কথা পুঁজি টুকুও উঠবেনা। তাই সরকারের কাছে আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকার চাষিরা।’

চাঁচলের বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ বলেন, ‘ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে যেসব কৃষক ভাইয়েদের জমির ফসল নষ্ট হয়েছে তাঁদেরকে খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি দপ্তরে(এডিএ) অফিসে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ জানিয়ে সাদা কাগজে দরখাস্ত করতে বলা হয়েছে। সঙ্গে দরখাস্ত জমা দেওয়ার রিসিভ কপিও নিতে বলেন কৃষক ভাইদের। ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে ডিএম সাহেবের সঙ্গেও কথা বলেন। যাতে এলাকার কৃষক ভাইয়েরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পান।’

জেলা কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন বলেন, ‘গত দু’সপ্তাহ আগের ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গোটা চাঁচল মহকুমার ছয়টি ব্লক জুড়ে আনুমানিক তিরিশ হাজার হেক্টর বোরো ধান ও আঠারো হাজার হেক্টর পাট ক্ষেতের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝরে পড়েছে কাঁচা আমও। ব্যাপক সবজি ক্ষেত ও নষ্ট হয়েছে। টাকার পরিমাণে আনুমানিক কয়েকশো কোটি ছাড়িয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্লক কৃষি দপ্তরে কৃষকদের আবেদন করতে বলা হয়েছে। যেসব কৃষক কৃষক বন্ধুর টাকা পান তাঁরা সকলেই বাংলা শস্য বীমা যোজনার আওতায় ক্ষতিপূরণ যাতে পান সে বিষয়টি দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘রাজ্য সরকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘোষণা করলে আলাদাভাবে ক্ষতিপূরণ মিলবে। ইয়াসের জন্য আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান সকলকে।’