হাতির ভয়ে কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছেন চাষিরা

গৌতম সরকার, কামাখ্যাগুড়ি : হাতির ভয়ে কাঁচা ধানই কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা। ভুটান সীমান্তবর্তী বক্সা বাঘবন লাগোয়া তুলতুরিখণ্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঞ্জালিবস্তি এলাকার ঘটনা। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যা নামতেই জঙ্গলের হাতির দল হানা দিচ্ছে ধানখেতে। বিঘার পর বিঘা জমির ধান খেয়ে ফেলছে। ক্ষতির মুখে পড়ে ঘরে কিছু ধান তুলতেই সময়ে আগে কাঁচা ধান কেটে নিতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, হাতি তাড়ানোর বিষয়ে বন দপ্তরে জানালেও সঠিক সময়ে তারা আসে না। বন দপ্তরে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হলেও তা দীর্ঘদিন পরে মেলে। কখনও কখনও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ মেলে না। বহু কৃষক জমির কাগজপত্র ঠিক না থাকার জন্য ক্ষতিপূরণের আবেদন জানাতে পারেন না। হাতির ভয়ে সিটিয়ে থাকেন ওই এলাকার মানুষ।

বক্সা বাঘবন লাগোয়া ভুটান সীমান্তবর্তী কাঞ্জালিবস্তিতে কয়েকশো মানুষের বসবাস। সেচের কোনও সুবিধা না থাকায় ওই এলাকার মানুষ বৃষ্টির জলের উপর ভরসা করে বছরে শুধু আমন ধানের চাষ করেন। ওই দিয়ে চলে সারা বছরের খাওয়া-দাওয়া। এ বছর ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশায় বুক বেঁধেছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু ধান পাকা শুরু হতেই হাতির হানায় তাঁদের সব আশাই মাটি হয়ে যেতে বসেছে। প্রতিদিনই বিঘার পর বিঘা জমির ধান সাবাড় করার পাশাপাশি নষ্ট করছে হাতির দল। টংঘর বেঁধে রাতপাহারা দিয়ে হাতির হানা ঠেকাতে পারছেন না বাসিন্দারা। ঘরে কিছু ধান তোলার জন্য কাঁচা ধানই এখন কেটে নিচ্ছেন বাসিন্দারা। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, বস্তিতে হাতির হানা রোধে বন দপ্তরে বারবার বিদ্যুতের বেড়া দেওয়ার দাবি জানালেও আজও পর্যন্ত উদ্যোগী হয়নি বন কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

গ্রামের বাসিন্দা ইসাখ টোপ্পো জানান, কিছু ধান ঘরে তুলতেই কাঁচা ধান কেটে নিচ্ছি। ধানের ক্ষতিপূরণের দাবি জানালেও এক থেকে দেড় বছর পরে ক্ষতিপূরণ মেলে। তার পরিমানও খুবই কম। ওই এলাকার অপর বাসিন্দা ইসিকা টোপ্পো জানান, বনে হাতির খাবার নেই। খাবারের লোভেই বস্তিতে হানা দিচ্ছে হাতির দল। বন বিভাগ বনে বন্য জীবজন্তুর খাবার ভালো ব্যবস্থা করলে বস্তিতে হাতির হানা কমবে বলে জানান তিনি। বন দপ্তর বাসিন্দাদের অভিযোগ মানতে চায়নি। তারা জানায়, হাতি তাড়াতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নির্দিষ্ট ফর্মে আবেদন জানালে ফসলের ক্ষতিপূরণ মিটিয়ে দেওয়া হয়।