সরকারি কেন্দ্রে ফড়েদের দাপট, ধলতার চাপে নাজেহাল কৃষকরা

368

তপনকুমার বিশ্বাস, ইসলামপুর : একদিকে ফড়েদের দাপাদাপি এবং অপরদিকে অতিরিক্ত ধলতার চাপে নাজেহাল উত্তর দিনাজপুর জেলার কৃষকরা। এমনই দাবি উত্তর দিনাজপুর জেলার সারা ভারত কৃষকসভার। তাদের অভিযোগ, ভালো ধান আনার পরেও ধান কেনার দায়িত্বে থাকা সরকারি অফিসারদের সামনেই চাষিদের কাছ থেকে কুইন্টাল পিছু ধানে ৬ থেকে ১২ কেজি ধান ধলতা হিসাবে অতিরিক্ত নেওয়া হয়। চাষিদের অভিযোগ, ওই অতিরিক্ত ধানের কোনও দাম দেওয়া হয় না। কোনও চাষি তা দিতে না চাইলে তাঁর ধান কেনা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিনে পয়সায় বাড়তি ধান দিচ্ছেন চাষিরা। চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনার প্রক্রিয়াতেও ওজনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে সারা ভারত কৃষকসভা। তাদের অভিযোগ, জেলার মিল মালিকদের আনা বৈদ্যুতিন দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে ওজন হচ্ছে। তাতে কৌশলে কম দেখিয়ে চাষিদের ঠকিয়ে ধান কেনা চলছে। যদিও জেলা খাদ্য দপ্তরের কর্মীরা  অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

জানা গিয়েছে, জেলায় গত ২ নভেম্বর থেকে উত্তর দিনাজপুর জেলার নয়টি ব্লকের কিষান মান্ডিতে ধান কেনা শুরু হয়েছে। আগের মরশুমে ধানের ন্যূনতম সহায়কমূল্য ছিল কুইন্টাল পিছু ১,৮১৮ টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১,৮৬৮ টাকা। এছাড়া সরকারি নির্ধারিত সেন্টারে ধান বিক্রি করলে কুইন্টাল পিছু আরও ২০ টাকা বেশি দেওয়া হয়। প্রতিটি শিবিরে আগাম নথিভুক্ত চাষিদের কাছ থেকে ধান কেনা হচ্ছে। পাশাপাশি, অনথিভুক্ত চাষিদের সচিত্র সরকারি পরিচয়পত্র ও জমির নথি দেখেও ধান কেনার কাজ চলছে। খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিকদের নজরদারিতে বিভিন্ন চালকল মালিকরা চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনছেন।

- Advertisement -

করণদিঘি ব্লকের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অসীম সরকার ১৫০ কুইন্টাল ধান ফলিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি করণদিঘি কিষান মান্ডিতে ৩০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করেন। তিনি বলেন, মোট ১৮০ কেজি ধান অতিরিক্ত দিতে হল। দামও মেলেনি! চোপড়ার বাসিন্দা মহম্মদ হানিফের অভিযোগ, ধান কেনার কাজ শুরু হওয়ার পর গোড়ায় চাষিদের কাছ থেকে কুইন্টাল পিছু ধানে কখনও ৮ কেজি আবার কখনও ১০ বা ১২ কেজি করে অতিরিক্ত ধান নেওয়া হচ্ছিল বিনে পয়সায়। দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি সহায়কমূল্যে সাধারণ কৃষকদের ধান বিক্রি করার যে ব্যবস্থা রয়েছে সেই ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অত্যন্ত কম দামে কৃষকদের থেকে ধান কিনে নিচ্ছে ফড়েরা। তারপর কৃষকদের থেকে কম দামে কেনা সেই ধানই সরকারি সহায়কমূল্যে খাদ্য দপ্তরে বিক্রি করা হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়- বিক্ষোভকারী কৃষকদের দাবি, মন প্রতি ৮ কিলো ধান ধলতা হিসেবে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সারা ভারত কৃষকসভার উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক সুরজিৎ কর্মকার বলেন, সকলেই জানতে পারছে যে কৃষকরা বর্তমানে তাঁদের ধান ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটা ধান ক্রয়কেন্দ্রে ফড়েদের দৌলতে ধান বিক্রির ন্যায্য টাকা থেকে  বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন কৃষকরা। চোপড়া ব্লকে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করার সুযোগই পান না। সেখানে ফড়েদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ চাষিরা ধান বিক্রি করতে পারেন না। হাট থেকে ফড়েরা ১,৪০০ টাকা কুইন্টাল দরে ধান কিনে সরকারি দরে ধান বিক্রি করছে। কৃষকদের সমস্যা এবং ফড়েদের দৌরাত্ম্যের দ্রুত সুরাহার দাবি জানাচ্ছি। এদিকে, জেলা খাদ্য সরবরাহ আধিকারিক অভিজিৎ ধাড়া বলেন, চাষিরা খারাপ ধান আনলে তা বাদ দেওয়া যায়। কিন্তু কোনওভাবেই বাড়তি ধান নেওয়া যায় না।