কোচবিহারে সরকারকে ধান বিক্রিতে আগ্রহ কম কৃষকদের

239

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : সরকারি সহায়কমূল্যে ধান দিতে আগ্রহী, এমন ৪০ হাজার কৃষকের নাম নথিভুক্ত আছে কোচবিহারে জেলা খাদ্য দপ্তরে। অথচ গত পাঁচদিনে কোচবিহারে সরকারি সহায়কমূল্যে মাত্র ১৯৭ জন কৃষক ধান বিক্রি করেছেন। সহায়কমূল্যে ধান বিক্রিতে কৃষকদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই কেন, এমন প্রশ্ন এখন খাদ্য দপ্তরের কর্তাদের মধ্যেও ঘুরছে। এমনকি, জেলায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা আদৌ পূরণ করা যাবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ধান কেনায় গতি আনতে জেলায় বিভিন্ন সোসাইটি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে মাঠে নামানো হয়েছে। তারপরেও গতি বাড়বে কিনা, তা নিয়ে ধন্দে রয়েছে প্রশাসন।

করোনা সংক্রমণের জেরে গত ১৮ মার্চ থেকে সরকারি সহায়কমূল্যে ধান কেনা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তা বন্ধ ছিল। এরপর ১ মে থেকে ফের ধান কেনা শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। কোচবিহার জেলায় খাদ্য দপ্তর জেলার ১২টি ব্লকে ১২টি ক্রয়কেন্দ্রে ধান কেনা শুরু করেছে। কিন্তু ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত পাঁচদিনে মাত্র ২৮৩ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে নিতে পেরেছে খাদ্য দপ্তর। আর এই ধান মাত্র ১৯৭ জন কৃষক বিক্রি করেছেন। খাদ্য দপ্তরের একাংশই বলছে, ৪০ হাজার নথিভুক্ত কৃষকের এক শতাংশও যদি ধান বিক্রি করতেন তা হলেও এই সংখ্যা দ্বিগুণ হত। এই পরিস্থিতিতে লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ করা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়েছে খাদ্য দপ্তরের। এদিন থেকে জেলায় ৩২টি সোসাইটি ও ৩৫টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী ধান কেনার কাজ শুরু করছে। তারা বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট দিনে শিবির করে ধান কিনবে। বুধবার একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠী দিনহাটার পুঁটিমারিতে ক্যাম্প করে ধান কিনেছে।

- Advertisement -

বিভিন্ন সূত্র থেকে এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, খোলা বাজারে ধানের দাম ১৭৫০ টাকা থেকে ১৮০০ টাকা কুইন্টাল। সেখানে সরকারি সহায়কমূল্যে ধানের দাম ১৮১৫ টাকা প্রতি কুইন্টাল। খোলা বাজারে ধানের দাম ভালো থাকায় এবং ফড়েদের কাছে ধান বিক্রি করতে কোনও সমস্যা না হওয়া, হাতে নগদ টাকা পাওয়া, বাট্টা কাটার ঝামেলা না থাকায় সেদিকেই ঝুঁকছেন কৃষক। অথচ সরকারি সহায়কমূল্যে ধান বিক্রিতে বাট্টা কাটা, নিয়ে যাওয়া, প্রচুর তথ্যপ্রমাণ দেওয়া ও পরে টাকা পাওয়া এমন অনেক ঝামেলা থাকে। ফলে কৃষকদের সরকারি দরে ধান বিক্রিতে তেমন আগ্রহ নেই। খাদ্য দপ্তরের এক আধিকারিক বলছেন, সবে তো ধান কেনা শুরু হল। তাই এখনই বলার মতো কিছু হয়নি। যত দিন যাবে ধান কেনার গতি বাড়বে। লকডাউনের আগে জেলার প্রায় ৩৫ হাজার কৃষক প্রায় ১ লক্ষ মেট্রিক টন ধান বিক্রি করেছেন বলে তিনি জানান। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ধান মাত্র উঠছে। এখন ধান কৃষকরা শুকোচ্ছেন। বাজার থেকে সরকারি দাম বেশি। আর কয়েকদিন লাগবে পরিস্থিতি ঠিক হতে।