স্লুইস গেট সেচপ্রকল্পের কাজ হয়নি, জল পাচ্ছেন না কৃষকরা

243

শান্ত বর্মন, জটেশ্বর : তিন বছর আগে আলিপুরদুয়ারের জটেশ্বর বাজার সংলগ্ন বীরকিটি নদীতে স্লুইস গেট সেচপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। দীর্ঘদিন কাজ চলার পর বীরকিটি নদীর বিশাল এলাকাজুড়ে দেওয়া হয় নদীবাঁধ। দুটি স্লুইস গেটও বসানো হয় সেই সময়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তার পর এক ইঞ্চিও কাজ এগোয়নি। প্রকল্পটি আজও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে চাষের জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জটেশ্বর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের কাঁঠালবাড়ি, ডালিমপুর সহ বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষকরা। তিন বছরেও প্রকল্প চালু না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার কৃষকরা। যদিও বর্ষার পরে প্রকল্পটির কাজে হাত দেওয়া হবে বলে সেচ ও জলপথ বিভাগের তরফে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সেচ ও জলপথ বিভাগের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের এগজিকিউটিভ প্রিয়ম গোস্বামী বলেন, এলাকাটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ওই প্রকল্প চালু করতে প্রায় তিন কিলোমিটার ক্যানাল খুঁড়তে হবে। কিন্তু লকডাউন পরিস্থিতির কারণে কাজ পিছিয়ে গিয়েছে। বর্ষার পরে কাজের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের বহু মানুষই কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। এলাকার তিন ফসলি জমিতে ধান, পাটের পাশাপাশি উন্নত প্রজাতির শাকসবজিও উৎপাদিত হয়। ফলে কৃষিকাজের ক্ষেত্রে সারাবছরই সেচের জলের প্রয়োজন হয়। বিকল্প সেচ ব্যবস্থা না থাকায় দ্বিগুণ অর্থ খরচ করে পাম্পের জলের উপরই ভরসা করতে হয় কৃষকদের। সেদিক থেকে স্লুইস গেট সেচপ্রকল্পটি চালু হলে সেচের সমস্ত খরচ থেকে রেহাই পাবেন এলাকার কৃষকরা। স্থানীয় কৃষক তরণী সন্ন্যাসী বলেন, দীর্ঘদিন হয়ে গিয়েছে স্লুইস গেট প্রকল্পটি চালু হয়নি। জলের অভাবে আমাদের চাষ করতে খুবই সমস্যা হয়। সবার পক্ষে টাকা খরচ করে সেচের ব্যবস্থা করা সম্ভব না। আমরা চাই দ্রুত প্রকল্পটি চালু করা হোক। আরেক কৃষক দিলীপ বর্মন বলেন, সেচপ্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ায় আমরা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কাজটি অজানা কারণে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমরা হতাশ। জমিতে সেচের জন্য দ্বিগুণ অর্থ খরচ করতে হচ্ছে আমাদের। ফলে লাভের মুখ দেখতে পারছি না। আরেক বাসিন্দা স্বপননাথ ভৌমিক বলেন, জটেশ্বরে সেচপ্রকল্পটি চালু করা হলে অন্তত ৩০ হাজার কৃষক সেচের জল পাবেন। আমরা চাই দ্রুত সেচপ্রকল্পটি চালু করা হোক।

- Advertisement -

সেচপ্রকল্পটি চালু না হওয়ায় শাসকদল তৃণমূলকেই দায়ী করেছেন এলাকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সারাভারত সংযুক্ত কিষান সভার আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদক জ্ঞানেন দাস বলেন, তৃণমূল সরকারের ১০ বছরের শাসনকালে সেচ ব্যবস্থা গুরুত্ব পায়নি। ফালাকাটা একটি কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়া সত্ত্বেও বীরকিটি স্লুইস গেট সেচপ্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে জটেশ্বর এলাকার কৃষকরা চাষের জল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সেচের বিষয়ে তৃণমূল সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন। বিজেপির ১৩ নম্বর মণ্ডল সভাপতি অঘোরনাথ রায় বলেন, স্লুইস গেট সেচ প্রকল্পের নামে সেখানে সমস্ত টাকাই আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাই কাজটি সম্পূর্ণ হয়নি। কৃষকরা সেচের জল না পেয়ে দ্বিগুণ টাকা খরচ করে জলসেচ করেন অথচ শাসকদল নির্বিকার। তৃণমূল কংগ্রেসের ফালাকাটা ব্লকের যুগ্ম সম্পাদক তথা ফালাকাটা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুরেশ লালা বলেন, কাজটি চালু হওয়ার পরেই টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। যাতে ফের কাজটি চালু করা হয় তা অবশ্যই দেখব।