ধান কেনার দাবিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কৃষকদের

322

গাজোল: আবার কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল গাজোল। অতি দ্রুত ধান কেনার দাবিতে এদিন কিষাণ মান্ডির সামনে ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কৃষকেরা। তাদের দাবি অবিলম্বে ঘটনাস্থলে বিডিওকে এসে ধান কেনার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তা না হলে এই অবরোধ চলতেই থাকবে। অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুই দিকে আটকে পড়ে বহু যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী গাড়ি। সকালের ব্যস্ত সময়ে পথ অবরোধের জেরে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষেরাও। তবে সাধারণ মানুষও দাঁড়িয়েছেন কৃষকদের পাশে। তাদের অভিমত এ বিষয়ে প্রশাসনকে সচেষ্ট হতে হবে। কৃষকেরা যাতে সবাই ধান বিক্রি করতে পারেন তার জন্য প্রশাসনের উচিত উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা। উল্লেখ্য, গত সোমবার অতিদ্রুত ধান কেনার দাবি নিয়ে কৃষক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিল গাজোল কিষাণ মান্ডি। সেদিন গাজোল থানার পুলিশ, বিডিও এবং সহ কৃষি অধিকর্তা এসে কোনওরকমে অবস্থা সামাল দেন। কৃষকদের দাবি সেদিন বিডিও এসে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নতুন করে আরও কয়েকটি কাউন্টার খোলা হবে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি’।

কৃষক মামুদ হাসান, আক্তার হোসেন, আক্রামুল ইসলাম, সুনীল বাস্কে, দিবাকর সরকার রা জানালেন, গাজোল কিষাণ মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে এসে দিনের পর দিন ঘুরতে হচ্ছে তাদের। এখানে এসে কৃষকরা পাচ্ছেন শুধু “তারিখ পে তারিখ, আর তারিখ পে তারিখ”। অথচ পেছনের দরজা দিয়ে ফড়েরা ঠিক তারিখ পেয়ে যাচ্ছে এবং ধান বিক্রি করে চলে যাচ্ছে। আর ধান বিক্রির তারিখ না পেয়ে বাধ্য হয়ে চাষিরা খোলাবাজারে এইসব ফড়েদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমানে যে ধান চাষীরা পেয়েছেন তা বিক্রি করে অনেকে ব্যাংকের ঋণ শোধ করবেন। মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ও শোধ করবেন অনেক চাষি। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার চাষিরা এই ধান বিক্রি টাকা দিয়ে আলু সহ অন্যান্য ফসলের চাষ করবেন। কিন্তু ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম সমস্যার মধ্যে পড়ছেন চাষিরা। এখানে ধান বিক্রি করতে আসলে শুনতে হচ্ছে ধান বিক্রির তারিখ পাওয়া যাবে মার্চ, এপ্রিল, অথবা মে মাসে। কিন্তু এতদিন রাখা সম্ভব নয়। তাই অনেক চাষি বাধ্য হয়ে খোলাবাজারে কুইন্টাল প্রতি ৫০০-৬০০ টাকা কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ধান বিক্রির তারিখ অতি দ্রুত পাওয়ার জন্য গত সোমবার এই কিষাণ মান্ডিতে কৃষকরা বিক্ষোভ করেছিলেন। সেদিন বিডিও এসে আশ্বাস দিয়েছিলেন দু’চারদিনের মধ্যে নতুন করে একটি কাউন্টার খোলা হবে। কিন্তু সাত দিন পেরিয়ে গেলেও সে কাউন্টার খোলা হয়নি। আজকে এসেও সেই একই কথাই শুনতে পাচ্ছি আমরা। অথচ আমরা জানতে পেরেছি পেছনের দরজা দিয়ে প্রায় চার হাজার স্লিপ ইস্যু করা হয়েছে। এই খবর শুনে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন চাষিরা। কৃষক মান্ডি থেকে বেরিয়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে সকাল সাড়ে নটা থেকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা।

- Advertisement -

অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে গাজোল থানার পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ আলাপ আলোচনা চালিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সাড়ে এগারোটা নাগাদ রাস্তা অবরোধ মুক্ত করতে সমর্থ হয় পুলিশ। দীর্ঘক্ষণ ধরে রাস্তা অবরোধের জেরে প্রবল যানজটের সৃষ্টি হয় জাতীয় সড়কে। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিডিও উষ্ণতা মোক্তান জানিয়েছেন গাজোল ব্লকে কৃষকের সংখ্যা প্রচুর। সেই জন্য আমরা তিন জায়গাতে ধান কেনার শিবির করেছি। গাজোল কিষাণ মান্ডি ছাড়াও দেওতলা এবং বাদনগরা মোড়ে ধান কেনার শিবির চলছে। তবে গাজোলে যাতায়াতের সুযোগ সুবিধা বেশি থাকার জন্য সব এলাকার কৃষকরা এখানে ধান বিক্রি করতে আসছেন। তাই এখানে ভিড় হচ্ছে বেশি। সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। কৃষকদের আমরা বলেছিলাম নতুন একটি কাউন্টার খোলা হবে। কিন্তু কিছু টেকনিক্যাল কারণে সেই কাউন্টার খোলা সম্ভব হয়নি। আগামী শনিবার থেকে সেই কাউন্টার খোলা হবে বলে আমরা আশা করছি। এদিন আমরা কৃষকদের সেই কথা জানিয়েছি। নতুন কাউন্টার খোলা হলে সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে।