তিস্তার জলে আজও বঞ্চিত কৃষকরা

138

জলপাইগুড়ি : বাম আমলে শুরু হয়েছিল তিস্তা সেচপ্রকল্পের কাজ। বিগত ১০ বছরেও তৃণমূল সরকার প্রকল্পের কাজে তেমন অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। যার ফলে সেচের জল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। কৃষিক্ষেত্রেও সার্বিক বিকাশ ঘটছে না এলাকার। দীর্ঘ চার দশক ধরে তিস্তা ক্যানাল কাটা হলেও জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দেউনিয়াপাড়া, কোরানিপাড়া, ঝাঁকুয়াপাড়া সহ সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার কৃষক সেচের জল পাচ্ছেন না। ক্যানাল আগাছায় ভরে গিয়েছে। ক্যানালের ওপরে গোরু-ছাগল চরে বেড়ায়। অথচ সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা হাত গুটিয়ে বসে আছেন বলে অভিযোগ। সেচের জলের সংস্থান হলে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের একফসলা জমি সহজেই তিনফসলা হতে পারে। চাষিরা আশায় বুক বেঁধে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলেও সেচের জলপ্রাপ্তির বিষয়টি অধরাই থেকে গিয়েছে।

দেউনিয়াপাড়া এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। সেচের জলের সংস্থান হলে নিশ্চিতভাবে এই এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেত। প্রতিকূলতার মধ্যেও এখানকার চাষিরা এবারে ভালো আলু উৎপাদন করলেও আলুর দাম পাননি। দেউনিয়াপাড়ার পাশাপাশি কোরানিপাড়া, ঝাঁকুয়াপাড়া সহ সংলগ্ন এলাকার কৃষকরা প্রচুর পরিমাণে আমন ধানের চাষ করেন। এই চাষের ক্ষেত্রে অন্তরায় সেচের জল। কৃষক হরি রায় বলেন, সেচ দপ্তরের উচিত এলাকার কৃষকদের সমস্যার কথা মাথায় রেখে সেচের জলের সংস্থান নিশ্চিত করা।

- Advertisement -

অগ্রগামী কিষান সভার জলপাইগুড়ি জেলা নেতা গোবিন্দ রায় অভিযোগ করেন, বামফ্রন্টের আমলেও তিস্তা সেচপ্রকল্পের কাজের গতি তেমন ছিল না। বর্তমান সরকারের দশ বছরের শাসনেও তিস্তা সেচ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ঘটেনি। বৃহত্তর জনস্বার্থে অবিলম্বে তিস্তা সেচপ্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ঘটানো প্রয়োজন।

সংযুক্ত কিষান সভার জেলা নেতা বিনয় বর্মন বলেন, সেচব্যবস্থার অগ্রগতি না হলে জলপাইগুড়ি জেলার কৃষির সার্বিক বিকাশ ঘটবে না। জলপাইগুড়ি সদর ব্লক সহ অন্যান্য ব্লকেও সেচের জলের সমস্যা রয়েছে। তৃণমূল কিষান খেতমজদুর কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, রাজ্য সরকার কৃষকদের স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়। তিস্তা সেচপ্রকল্পের কাজে অগ্রগতি ঘটানোর জন্য আমরা সংগঠনগতভাবে রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। সেচ দপ্তরের পদস্থ এক কর্তা জানান, তিস্তা সেচপ্রকল্পের সমস্যা সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তাঁরা আশাবাদী, দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গৃহীত হবে।