বাহান্নবিঘায় সবজি খেতে কীটনাশকের পরিবর্তে সোলার ট্র্যাপ

হরষিত সিংহ, মালদা : সবজি খেতে পোকা দমন করতে কীটনাশকের পরিবর্তে মালদায় প্রথম চালু করা হল সোলার ট্র্যাপ। পরীক্ষামূলকভাবে মালদা জেলার ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের বাহান্নবিঘা এলাকায় এর ব্যবহার শুরু হয়েছে।

সবজি বাগানের মধ্যে একটি সোলার লাইট বসানো হয়েছে। রাতের অন্ধকারে এই আলো যখন জ্বলে উঠবে তখন আশপাশ থেকে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ সেই আলোর দিকে ছুটে আসবে। এই আলোর নীচে একটি পাত্রে জল ও কেরোসিন তেল রাখা হয়েছে। আলোর দিকে ছুটে আসা যে কোনও পোকা ওই পাত্রে পড়ে মারা যাবে। সবজি খেতে পরীক্ষামূলকভাবে এই আলো বসিয়ে অনেকটাই সুফল মিলছে বলে জানাচ্ছেন কৃষকেরা। কীটনাশক প্রয়োগ না করেই সবজি বাগানে সহজে পোকা মারতে পারছেন কৃষকেরা। কীটনাশক ছাড়াই সবজি ফলাচ্ছেন কৃষকেরা। মালদা জেলা কৃষি দপ্তরের উদ্যোগে আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে এই পদ্ধতিতে পোকা মারার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইংরেজবাজার ব্লক ছাড়াও ইতিমধ্যে বামনগোলা ও গাজোল ব্লকেও এই পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

- Advertisement -

মালদা জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এই পদ্ধতির তেমন ব্যবহার নেই। এই প্রথম মালদা জেলায় এই পদ্ধতি শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে মহারাষ্ট্র সহ উত্তর ভারতের একাধিক রাজ্যে এই পদ্ধতিতে সবজি খেতে পোকা মারা হয়। কীটনাশক ব্যবহার করলে দ্রুত পোকা মরে যায়। কিন্তু সোলার লাইটের সাহায্যে সমস্ত পোকা মারতে সময় লাগলেও জমিতে পোকা একেবারে নির্মূল করা যায়। কৃষি জমিতে বসানো একটি সোলার লাইট প্রায় এক একর ব্যাসার্ধ জুড়ে পোকা মারতে পারে। এই আলো যতদূর পর্যন্ত যাবে সেখান থেকে পোকা উড়ে আলোর কাছে আসবে। একটি সোলার লাইট বসাতে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ পড়ে। একবার এই লাইট বসানোর পর আর তেমন খরচ নেই। মাঝেমধ্যে আলো কমে গেলে শুধু লাইট বদলাতে হয়।

এই পদ্ধতিতে কীটনাশক ব্যবহারের থেকে কম খরচ পড়ে। সোলার সিস্টেম হওয়ায় দিনের বেলায় সূর্যের আলোয় ব্যাটারি চার্জ হয়। সন্ধ্যা নামলেই নিজে থেকে বেগুনি আলো জ্বলে ওঠে। কারণ, বেগুনি আলো বেশি তীক্ষ্ন। এই আলো কীটপতঙ্গ সহজে দেখতে পায়। আলোতে আকৃষ্ট হয়ে কাছে আসলেই পাত্রে রাখা জলে পড়ে পোকা মারা যায়। ফলে ধীরে ধীরে জমি পোকামুক্ত হয়। এবিষয়ে ইংরেজবাজার ব্লকের সহ কৃষি আধিকারিক সেফাউর রহমান জানান, কীটনাশক প্রয়োগে সবজি গাছের পোকা দমন সহজে হয়। কিন্তু সেই কীটনাশক দেওয়া সবজি আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। চাষের জমির পোকা মারতে তাই আতমা প্রকল্পের মাধ্যমে এই সোলার ট্র্যাপ পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে কিছু কিছু জায়গায় এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। কৃষকেরা এই পদ্ধতিতে উপকৃত হচ্ছেন। ভালো ফল মিললে সমস্ত কৃষি জমিতে এই পদ্ধতি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত প্রায় সাত মাস ধরে নিজের জমিতে এই সোলার ট্র্যাপ ব্যবহার করছেন ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম পঞ্চায়েতের বাহান্নবিঘার বাসিন্দা দেবকুমার দাস। বর্তমানে তাঁর জমিতে বেগুন, ফুলকপি, পটল, লাউ সহ অন্য সবজি রয়েছে। গোটা মাঠে তিনি একটিমাত্র লাইট বসিয়েছেন। তাতেই ভালো ফল পাচ্ছেন বলে দেবকুমারবাবু। তিনি জানান, আগে সবজিতে মাসে এক থেকে দুইবার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হত। তারপরেও পোকার হাত থেকে সবজি রক্ষা করা যেত না। কিন্তু সোলার লাইট ব্যবহার করে আমি বর্তমানে একমাসে মাত্র একবার কীটনাশক ব্যবহার করেছি। এখন যা পরিস্থিতি তাতে কীটনাশক ব্যবহার না করলেও হবে। এই লাইট ব্যবহার করে অনেক খরচ বাঁচছে। কীটনাশক ছাড়া সবজি চাষ করা যাচ্ছে। এই লাইট ব্যবহার করলে আগামীতে আমার হয়তো আর কীটনাশক ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না।