পাইকাররা শেডঘরে, কৃষকরা বসছেন খোলা আকাশের নীচে

348

রামকৃষ্ণ বর্মন, জামালদহ : সুপার মার্কেটে একাধিক শেডঘর রয়েছে। তবে অভিযোগ, সেগুলি পাইকারদের দখলে চলে গিয়েছে। এর জেরে খোলা আকাশের নীচে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে চাষিদের। এই নিয়ে জামালদহের কৃষক মহলে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র জামালদহ বাজার। সুটুঙ্গা নদীর ধারে অবস্থিত এই বাজারের সুপার মার্কেটে কৃষিপণ্য কেনাবেচার জন্য পাঁচটি শেডঘর রয়েছে। কিন্তু সুপার মার্কেটের সমস্ত শেডঘর পাইকার এবং ফড়েদের দখলে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে শেডঘরগুলি ব্যবহার করতে না পেরে ঝড়-বৃষ্টি, চড়া রোদ সহ্য করে কৃষকদের খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকদের এই দুর্ভোগ বছরের পর বছর ধরে পোহাতে হচ্ছে। অথচ, এ নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনের কেউই ভাবছেন না বলে কৃষকদের ক্ষোভ চরমে উঠেছে। অবিলম্বে পাইকারদের হটিয়ে শেডঘরগুলি ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার দাবি তুলেছেন স্থানীয় কৃষকরা। এ বিষয়ে জামালদহ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান গীতা বর্মন বলেন, জামালদহ সুপার মার্কেটের নানা সমস্যা রয়েছে। সেগুলি মেটানোর চেষ্টা চলছে। কৃষকরা শেডঘর কেন ব্যবহার করতে পারছেন না, সে বিষয়ে খোঁজ নেব।

মেখলিগঞ্জের বিধায়ক অর্ঘ্য রায়প্রধান বলেন, বিষয়টি জানা নেই। গ্রাম পঞ্চায়েতকে খোঁজ নিয়ে দেখতে বলেছি। সপ্তাহে মঙ্গল এবং শুক্রবার- এই দুদিন জামালদহের সুপার মার্কেটে হাট বসে। হাটবারে ধান, গম, তামাক, পাট, সুপারি সহ নানা ফসল বিক্রি হয়। হাঁস, মুরগি, গোরু, ছাগলও কেনাবেচা হয়। কিন্তু সবটাই চলে খোলা আকাশের নীচে। অথচ সুপার মার্কেট চত্বরে পাঁচটি শেডঘর রয়েছে। বিভিন্ন কৃষিপণ্য কিনে সেই শেডঘরগুলিতেই মজুত করে রাখছেন পাইকাররা। দিনের পর দিন ধরে এমন চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পাইকারের বক্তব্য, শেডঘরগুলি  ফাঁকাই পড়ে থাকে। তাই মাঝেমধ্যে তা ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া এই নিয়ে কোনও পক্ষ থেকে এতদিন বাধাও আসেনি। এখন কেউ ব্যবহার করতে চাইলে শেডঘরগুলি ছেড়ে দেওয়া হবে। সমস্যার কিছু নেই।

- Advertisement -