‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধার দাবি কৃষকদের

216
প্রতীকী

ইসলামপুর: ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা সব চাষিকে দেওয়ার দাবি উঠল উত্তর দিনাজপুর জেলায়। জমির রেকর্ড বা যথাযথ নথি না থাকলে এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারছেন না চাষিরা। শুধুমাত্র নিয়মের যাঁতাকলে পড়ে জেলার ষাট হাজারেরও কৃষক এই প্রকল্পের সুবিধা পাওনা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এবার সেই বিষয়টিকে সরলীকরণ করার দাবি উঠেছে। এবিষয়ে সারা ভারত কৃষকসভার উত্তর দিনাজপুর জেলা সম্পাদক সুরজিৎ কর্মকার বলেন, ‘নিয়মের গেরোয় সব কৃষক এই সুবিধা পান না। সকলেই যাতে এই সুবিধা পান, তার জন্য নিয়ম শিথিল করার দাবি তোলেন তিনি।’

কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে কৃষকের চাষ জমির রেকর্ড থাকা বাধ্যতামূলক। ফলে অনেকেই জমির রেকর্ডের অভাবে ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে আবেদন করতে পারছেন না। উত্তর দিনাজপুরের কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের দাবি, এই প্রকল্পে আবেদনের সরলীকরণ হলে জেলার ষাট হাজারেরও বেশি কৃষকের উপকার হবে। জেলার উপকৃষি অধিকর্তা (প্রশাসন) বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, ‘কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আবেদন করতে হলে কৃষকের নামে জমির রেকর্ড থাকা বাধ্যতামূলক। নানা কারণে অনেকের নামে জমির রেকর্ড না থাকায় তাঁরা আবেদন করতে পারছেন না। তবে শোনা যাচ্ছে এ বার জমির রেকর্ড না থাকলেও ওই ঘোষণাপত্র দিয়ে আবেদন করা যাবে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনও নির্দেশিকা আমরা এখনও হাতে পাইনি।‘

- Advertisement -

জেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭২০টি কৃষক পরিবার রয়েছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে রাজ্যের সরকার ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্প এনেছে। এই প্রকল্পে একজন কৃষক প্রতি বছর সর্বোচ্চ এক একর জমির জন্য ৫ হাজার টাকা অনুদান পাবেন। সর্বনিম্ন বছরে ২ হাজার টাকা অনুদান পাবেন। প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত জেলায় ২ লক্ষ ২ হাজার ৮৯২টি কৃষক পরিবার এই প্রকল্পের আওতায় এসেছেন।

কৃষি দপ্তরের দাবি, ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে দু’দফায় ১৮ হাজার  ১২৫ জন চাষি ‘কৃষকবন্ধু প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছেন। কৃষি দপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, আরও ষাট হাজারেরও বেশি কৃষক এই প্রকল্পের বাইরে থেকে গিয়েছেন। তাঁদের প্রকল্পের আওতায় আনতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্যের কৃষি দপ্তর।

জেলা কৃষি দপ্তরের উপ-কৃষি অধিকর্তা বিপ্লববাবু বলেছেন, ‘প্রকল্পের বাইরে যারা আছেন তাঁরা সকলে তো জমির রেকর্ডের জন্য আবেদন করতে পারেননি এমন নয়। কিছু কৃষক নিজে থেকে এগিয়ে আসেনি, এমন নজিরও রয়েছে। আমাদের ধারণা, আবেদনের যদি সরলীকরণ করা হয় তবে অনেক কৃষক উপকৃত হবেন।‘

জেলা কৃষি দপ্তর সূত্রে খবর, কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পেতে বাধ্যতামূলক ছিল ভোটার কার্ড, জমির রেকর্ড, ব্যাংকের পাশ বই, ফোন নম্বর সঙ্গে আধারকার্ড থাকলে তাও জমা দিতে হয়। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির অনেকের রেকর্ড নেই। অনেকে আবার রেকর্ডের জন্য আবেদন করেননি। এছাড়া অন্য কারণেও অনেক চাষির জমির রেকর্ড নেই। ফলে তাঁরা কৃষকবন্ধু প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন না। এবিষয়ে রাজ্যের কৃষি মন্ত্রী আশীষ বন্দ্যোপাধ্যায় কে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন না তোলায় তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।