বন্ধ ক্যানাল! জলমগ্ন পাট ক্ষেত, খতির আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছেন চাষির

51

হরিশ্চন্দ্রপুর: মাছ চাষের লক্ষ্যে বন্ধ ক্যানাল। এরই জেরে কোমর জলে ডুবেছে সংলগ্ন এলাকার পাট খেতগুলি। দীর্ঘ সময় নদীতে জল জমে থাকার দরুন পচন ধরতে শুরু করেছে পাট গাছে। চাষিদের আশঙ্কা দ্রুত কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ না হলে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির মুখে পড়তে হবে তাঁদের। অভিযোগ, স্থানীয় এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য ও তৃণমূল নেতা মাছ চাষ করার জন্য ক্যানালের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলত বৃষ্টির আটকে পড়ছে পাট খেতেই। বিষয়টি স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কোনও কাজ হয়নি। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হরিশচন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতে এলাকার চাষিরা।

মুকুন্দপুর-উত্তর রামপুর গ্রামের পূর্ব সীমানা থেকে মহানন্দা নদী পর্যন্ত ক্যানাল থাকলেও তা প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ। অভিযোগ, একপ্রকার ব্যক্তিগতভাবেই ক্যানালের মুখ বন্ধ রেখেছেন কুশিদা গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত সদস্য রেজাউল হক এবং এক স্থানীয় তৃণমূল নেতা। চাষিরা জানিয়েছেন দ্রুত ক্যানেল খোলা না হলে ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন প্রায় ৫০ জন চাষী। অন্যদিকে, ক্ষতির মুখে পরতে পারে উত্তর রামপুর গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ি। সমস্যা সমাধানে ক্যানালের মুখ খোলার দাবি জানিয়ে প্রশাসনিক স্তরে দরবারও করেছেন চাষিরা। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পঞ্চায়েত সদস্য রেজাউল হক। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই অভিযোগ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

রেজাউল হক বলেন, ‘ক্যানাল বন্ধ করে রাখার কোনও ব্যাপার নেই। উলটে আমি ক্যানাল সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে। তবে চাষীদের সমস্যার সমাধান করা হবে।’ জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ এটিএম রফিকুল হোসেন জানান, চাষীদের যদি ফসলের ইন্সুরেন্স করা থাকে তাহলে তাঁরা ফসলের ন্যায্যমূল্য পেয়ে যাবেন। অন্যদিকে, এবিষয়ে সার্ভে চলছে। হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নম্বর ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনির্বাণ বসু বলেন, ‘বিষয়টি সেচ দপ্তরের। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এবিষয়ে জানিয়েছি।’