জমি থেকে ফসল ঘরে আনতে রাস্তা সংস্কারে চাষিরা

রেজাউল হক, পুরাতন মালদা : জেলা পরিষদের সভাধিপতির উদ্যোগে টাঙন নদীতে বাঁশের সাঁকো তৈরি হয়েছে। সেই সাঁকো হয়ে যাওয়ায় আপাতত জমিতে যেতে কোনও বাধা নেই পুরাতন মালদার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধাইপুর এলাকার বোরোচাষিদের। কিন্তু তাঁদের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল অন্য জায়গায়। নদীর ওপারে থাকা প্রায় হাজার বিঘার জমির ধান ঘরে আনা হবে কী করে? কারণ, জমি থেকে ফসল ঘরে তোলার রাস্তা পুরোপুরি বেহাল। সেই রাস্তায় এতটাই কাদা, যে ট্র‌্যাক্টরও চলতে পারে না। চাষিদের এই সমস্যায় এগিয়ে এসেছে মাধাইপুর যুবসমাজ। এগিয়ে এসেছে সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষও। পঞ্চায়েতের অর্থে শনিবার থেকে রাস্তা সংস্কারে নেমে পড়েছেন গ্রামবাসীরা।

পুরাতন মালদার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোরগ্রাম, মাধাইপুর, ভাটরা, সুজাপুর প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দাদের প্রায় সবাই কৃষক। এসব গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে টাঙন নদী। নদীর ওপারে হবিবপুর ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। নদীর ওপারে এক হাজারের বেশি বিঘা জমিতে এবার বোরো ধানের চাষ হয়েছে। এই জমিগুলির মালিক পুরাতন মালদা ব্লকের চাষিরা। কিন্তু জমিতে যাওয়ার জন্য টাঙনে কোনও সাঁকো না থাকায় সমস্যা হচ্ছিল চাষিদের। জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডলের উদ্যোগে কয়েকদিন আগেই সেই সাঁকো তৈরি করেছেন চাষিরা। ফলে এখন জমিতে যাতায়াতে তাঁদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় অন্য জায়গায়। জমি থেকে ফসল নিয়ে আসার রাস্তা পুরোপুরি বেহাল। কাদা ভর্তি রাস্তায় আটকে যায় ট্র‌্যাক্টর। এই সমস্যা সমাধানে চাষিরা ফের মাধাইপুর যুবসমাজের দ্বারস্থ হন। সর্বদলীয় এই সমাজ চাষিদের পাশে এসে দাঁড়ায়। তারা যোগাযোগ করে সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের সঙ্গে। এগিয়ে আসেন প্রধান উকিল মণ্ডলও। তিনি এই রাস্তা সংস্কারের জন্য পঞ্চায়েতের সাধ্য অনুযায়ী কিছু টাকা বরাদ্দ করেন। আজ সকাল থেকে সেই রাস্তা সংস্কারের কাজে নেমে পড়েছেন চাষিরা। পঞ্চায়েত প্রধানের এই উদ্যোগে খুশি তাঁরা।

- Advertisement -

মাধাইপুর যুবসমাজের সদস্য হাসান রাজা বলেন, চাষিদের দুরাবস্থা দেখে আমরা এনিয়ে সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উকিল মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি সঙ্গে সঙ্গে পঞ্চায়েত তহবিলের কিছু অর্থ এই রাস্তা সংস্কারের জন্য বরাদ্দ করেন। শনিবার থেকেই চাষিরা রাস্তা সংস্কারের কাজে নেমে পড়েছেন। ফলে জমি থেকে ধান ঘরে তুলতে তাঁদের কোনও অসুবিধে হবে না। পঞ্চায়েত প্রধানের এই উদ্যোগে চাষিদের সঙ্গে আমরাও খুশি।