চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন আংরাভাসার চাষিরা

71

জিষ্ণু চক্রবর্তী, গয়েরকাটা : সেচখাল আছে। তাতে নদীর জলও বইছে। কিন্তু যাঁদের জন্য সেচখাল তৈরি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে তাঁরা আজ সেচের জল থেকে বঞ্চিত। জলপাইগুড়ি জেলায় কৃষিপ্রধান এলাকা হিসেবে আলাদা পরিচিতি রয়েছে সাঁকোয়াঝোরা-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের। প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে চাষবাস হয়। বেশিরভাগ জমি রয়েছে আংরাভাসায়। এই এলাকায় প্রচুর জমিতে বছরে দু-তিনবার ফসল ফলান চাষিরা। তাই ওইসব কৃষিজমিতে সেচের জল পৌঁছে দিতে বেশ কয়েক বছর আগে ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে সেচখাল নির্মাণ করেছিল গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।

নিয়মিত নজরদারির অভাবে সেচখালগুলির আজ বেহাল দশা।  ক্রমাগত পলি জমে সেগুলি ভরাট হয়ে পড়েছে। তাছাড়া প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগে সেচখালে অবাধে চলছে দখলদারি। অভিযোগ, এলাকার কিছু বাসিন্দা সেচখাল দখলের পর সেখানেই চাষবাস শুরু করেছেন অবাধে।  গ্রাম পঞ্চায়েতের কৃষি বিভাগের কর্মাধ্যক্ষ রঞ্জিত লাকড়ার কথায়, দু-একটি নালা ইতিমধ্যে পাকা হয়েছে। ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে সেচনালাগুলি পরিষ্কার করা হয়। নির্বাচনিবিধির কারণে ১০০ দিনের কাজ বন্ধ রয়েছে।

- Advertisement -

এই অবস্থায় মাথায় হাত আংরাভাসার চাষিদের। সেচনালাগুলি দখল হয়ে যাওয়ায় এলাকার জমিতে আর সেভাবে সেচের জল পাচ্ছেন না চাষিরা। বাধ্য হয়ে নিজেরাই নদী থেকে সেচের ব্যবস্থা করেছেন। এতে চাষের খরচও বেড়েছে অনেক। এদিকে, উত্পাদিত ফসলের আশানুরূপ বাজারদাম না মেলায় ক্ষতির মুখে তাঁরা। সেচের জল না পেয়ে এলাকার প্রচুর জমি এখন একফসলি জমিতে পরিণত।

এই অবস্থায় এলাকার অনেক চাষিই চাষাবাস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এলাকার এক চাষি পরিতোষ মজুমদার। বেশ কয়েক বিঘা জমি রয়েছে তাঁর এই এলাকায়। কিন্তু সেচের জল না পেয়ে বেশ সমস্যায় পড়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এখন জমিতে আলু রয়েছে। এর আগে ধান চাষ করেছিলাম। প্রতিবারই নিজের খরচে সেচের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু বাজারে তেমন দাম নেই। তাই প্রতিবারই ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। একই সমস্যা এলাকার কার্তিক মজুমদার, মহম্মদ পিন্টুর মতো চাষিদের। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিনোদ ওরাওঁ চাষিদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।