নেপাল দেখে না, ভারতের ভরসায় তাশিগাঁওয়ের চাষিরা

2320

তাশিগাঁও (নেপাল): ঘুম থেকে লেপচাজগৎ, সুকিয়াপোখরি হয়ে মিরিক যাওয়ার রাস্তায় সীমানা পার করে বাঁক নিলেই নেপালের ছোট্ট জনপদ তাশিগাঁও। জনপদটি ভারতীয় এলাকার সঙ্গে এমনভাবে মিশে রয়েছে যে দেখে বোঝা যাবে না সেটা নেপালের অংশ। তবে এলাকাটি পুরোপুরিভাবে ভারতের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে ৭০-৭২টি পরিবারের বাস। প্রত্যেকেরই মূল জীবিকা সবজি চাষ। বছরভর বিভিন্ন সবজি চাষ করে সেগুলি ভারতের বাজারে বিক্রি করেই সংসার চলে অমৃত সুব্বা, মমতা তামাংদের। লকডাউনে দীর্ঘদিন থেকেই পাহাড়ে গণপরিবহণ বন্ধ। তাই তাঁরা আগের মতো  শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া বা সমতলের অন্য বাজারগুলোতে সবজি পাঠাতে পারছেন না। ফলে খেতেই নষ্ট হচ্ছে মুলো, গাজর সহ বিভিন্ন সবজি। পেটের টানে রাস্তার পাশে পসরা সাজিয়ে বসলেও ক্রেতা মিলছে না। কীভাবে দুবেলা খাবার জুটবে সেই চিন্তায় ঘুম ছুটেছে তাশিগাঁওয়ে বাসিন্দাদের।

গাজর, মুলো, বিট, বিভিন্ন প্রজাতির লংকা ছাড়াও ধনেপাতা, স্কোয়াশ, অল্প পরিমাণ আলুও চাষ করেন তাশিগাঁওয়ে বাসিন্দারা। বিশেষত্ব হল, গ্রামের সব চাষ হয় জৈব সারে। তাই তাঁদের সবজির আলাদা চাহিদা রয়েছে। ওই পাহাড়ি গ্রামে প্রায় ৩০ একর জমিজুড়ে সবজি চাষ হয় বলেই জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয় কৃষক কুমার সুব্বা বলেন, আগে সমতল থেকে অনেক পাইকার এসে লরি ভর্তি করে সবজি কিনে নিয়ে যেত। আমরাও লরিতে সবজি নিয়ে সমতলের বিভিন্ন হাটে গিয়ে সরাসরি বিক্রি করতাম। অনেকে চাহিদা অনুসারে আগাম বায়না দিত। লকডাউনের পর থেকে সবকিছুই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সমতল থেকে কেউ যেমন আসতে পারছেন না, তেমনি আমরাও সমতলে নামতে পারছি না। সরকারি উদ্যোগে তাঁদের সবজি কিনে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা এখনও পর্যন্ত নেপাল সরকার ঘোষণা করেনি বলেই জানিয়েছেন কুমার।

- Advertisement -

মিরিক থেকে দার্জিলিং যাওয়ার রাস্তার পাশেই বসে সবজি বিক্রি করছিলেন সবিতা সুব্বা। তিনি বলেন, কয়েক লক্ষ টাকার সবজি ইতিমধ্যে মাঠে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমরা যে পরিমাণ সবজি উৎপাদন করি তার প্রায় সবটাই ভারতে বিক্রি করি। ভারতীয় প্রশাসন বা জিটিএ যদি আমাদের সমস্যাগুলি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে তাহলে আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারব। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বাধ্য হয়ে অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেকটাই কম দামে সবজি বিক্রি করে দিচ্ছেন তাশিগাঁওয়ের চাষিরা।

জিটিএর প্রশাসনিক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপা বলেন, নেপালের এলাকা হওয়ায় তাশিগাঁওয়ে কৃষকদের জন্য সরাসরি কিছু করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে মানবিক দিক থেকে আমরা যতটা সম্ভব তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করব।