সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির দাবিতে চাষিদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত রাইস মিল চত্বর

0

বর্ধমান: সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করতে না পেরে রাইস মিলের গেটে বিক্ষোভ দেখালেন চাষিরা। শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের বেলকাশ পঞ্চায়েতের চাণ্ডুলে। চাষিদের বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে চাণ্ডুলের রাইস মিল চত্বর। ক্ষুব্ধ চাষিরা রাইস মিলের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে সব ইউনিটগুলি বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছোয়। পুলিশের সামনেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন রাইস মিল কর্তৃপক্ষ ও চাষিরা। কোনও রকমে দু’পক্ষকে বুঝিয়ে আলোচনায় বসার আশ্বাস দিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বেলায় বেলকাশ পঞ্চায়েতের চাণ্ডুল, ঢোলনা, ফাগুপুর, ইউসুফাবাদ, মাটিয়াল সহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় তিন শতাধিক চাষি এলাকায় ওই রাইস মিলের গেটের সামনে হাজির হন। সরকারি নিয়ম মেনে ধান কেনার দাবি তুলে তাঁরা মিলের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া চাষি শেখ জুলফিকার, শেখ নওসাদ আলি প্রমুখের অভিযোগ, ‘মিল কর্তৃপক্ষ সরকারি নিয়ম মেনে ধান নিতে চাইছে না। প্রতিদিন মাত্র ৩০ জন চাষির কাছ থেকে ধান নেওয়া হবে বলে মিল কর্তৃপক্ষ ফরমান জারি করেছে।’ অপর চাষি শেখ ডালিম বলেন, ‘গত বছরও মিল কর্তৃপক্ষ একই ফরমান জারি করেছিল। তারজন্য অনেক চাষির ধান নষ্ট হয়। এছাড়াও সরকারি নিয়ম বহির্ভূতভাবে বস্তা প্রতি সাড়ে ৫ কেজি ধান বাদ দেওয়া হচ্ছে।’

- Advertisement -

যদিও ওই রাইস মিলের মালিক তপন আগরওয়ালা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই নানারকম অজুহাত খাড়া করে তাঁদের মিলে গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করা হয়। সরকারের নিয়মনীতি শিকেয় তুলে দিয়ে ধান কেনার জন্যে তাঁদের চাপ দেওয়া হয়। এদিন চাষিদের প্রস্তাবগুলি নিয়ে আলোচনার জন্যে তাঁরা তিনদিন সময় চেয়েছিলেন। চাষিরা তা মানতে চাননি। আলোচনার কথা শুনেই চাষিরা উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে দেন। বর্ধমান রাইসমিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কার্যকরী সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, ‘কিছু ফড়ে নিজেদের স্বার্থে চাষিদের উত্তেজিত করে। এইভাবে মিলে অশান্তি চললে মিল চালানো মুশকিল হয়ে যাবে।’

বর্ধমান ১ ব্লকের বিডিও মৃণালকান্তি বিশ্বাস জানিয়েছেন, সোমবার দুপুরে খাদ্য দপ্তর, মিল মালিকদের সংগঠন ও চাষি প্রতিনিধিদের আলোচনায় ডাকা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কেন্দ্র খুলে সমবায়ের মাধ্যমে চাষিদের কাছ থেকে সহায়ক মূল্যের ধান কেনার ব্যবস্থা হবে।