১২ দফা দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান কৃষক সংগঠনের

171

রায়গঞ্জ: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে চাষিদের ধানের দাম মেটানোর কথা খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের। কিন্তু সেই টাকা পেতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ধান কেনার সময়ও চাষিদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। চাষিরা তাই হয়রানি এড়াতে বাধ্য হয়ে ফড়েদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ধান বিক্রিতে কৃষকদের হয়রানি সহ ১২ দফা দাবি নিয়ে রায়গঞ্জ বিডিও অফিস ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখাল সারা ভারত কৃষক খেতমজুর সংগঠন। এদিন বিকেল ৪টে নাগাদ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রায়গঞ্জের বিডিও অফিস ক্যাম্পাসে। রায়গঞ্জ রেল স্টেশন সংলগ্ন মাঠ থেকে মিছিল করে বিডিও অফিসের সামনে বল্লম তীর-ধনুক নিয়ে হাজির হন কৃষকরা।

কৃষকদের দাবি, কেন্দ্রে কালা কৃষি আইন বাতিল করতে হবে, কৃষকদের কর্পোরেটদের হাতে ছেড়ে না দিয়ে সরকারি উদ্যোগে সস্তায় সার্টিফায়েড সার কীটনাশক ও কৃষি উপকরণ সরবরাহ করতে হবে, সরকারি উদ্যোগে সেচের বন্দোবস্ত করতে হবে, সস্তায় ডিজেল ও বিদ্যুৎ চাষের জন্য সরবরাহ করতে হবে, বিভিন্ন হাটে সহায়ক মূল্য নগদে ধান কিনতে হবে, কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে, রায়গঞ্জ ব্লকের বেহাল গ্রাম্য রাস্তা হালে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে হবে, ফড়ে রাজ বন্ধ করতে হবে। এদিন বিকেল ৫টা নাগাদ সারা ভারত কৃষক খেতমজুর সংগঠনের ৬ সদস্যের প্রতিনিধি দল রায়গঞ্জের বিডিও রাজু লামাকে স্মারকলিপি দেন। যদিও এ প্রসঙ্গে রায়গঞ্জ ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক রাজু লামা বলেন, ‘স্মারকলিপি পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সেই স্মারকলিপি পাঠানো হবে।‘

- Advertisement -

সারা ভারত কৃষক খেতমজুর সংগঠনের জেলা নেতা দুলাল রাজবংশী বলেন, ‘আজকে আমরা কৃষকরা এসেছেন অল ইন্ডিয়া কিষাণ খেতমজুর সংগঠনের ব্যানারে। দিল্লিতে কৃষকরা প্রবল ঠাণ্ডায় কৃষি আইন কালা বিদ্যুৎ আইন ২০২০ বাতিলের দাবিতে দীর্ঘ ৪৬ দিন ধরে আন্দোলন করছেন। ইতিমধ্যেই ৬০ জন কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। তাদেরকে আমরা কুর্নিশ জানাই। সংগ্রামরত কৃষকদের আমরা লাল সেলাম জানাই। এবং এই কালা কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে বিডিও সাহেবকে আমরা জানাতে এসেছি তার মাধ্যমে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। সেই সঙ্গে আমাদের এই জেলার এই রাজ্যের কৃষকদের অনেকগুলি দাবি রয়েছে, তাদের মধ্যে একটি আমাদের এখানে যে সহায়ক মূল্য ধানের দাম ধার্য করা হয়েছে কৃষকরা তা থেকে বঞ্চিত, বিভিন্ন হাটগুলোতে কম দামে ফড়েদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। হাটে হাটে ধান ক্রয়ের শিবির করতে হবে সরকারকে। পাশের রাজ্য বিহার থেকেও ফড়েরা ধান কিনে সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রি করছেন ফড়েরা। ব্লগ প্রশাসন জেনেও না জানার ভান করে রয়েছে।‘ এদিন এই স্মারকলিপি ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় রায়গঞ্জ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।