লকডাউনে ভুট্টা বিক্রি করতে না পেরে ভোগান্তি চাষিদের

249

তপন কুমার বিশ্বাস, ডালখোলা: ডালখোলা রেককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ভুট্টা রপ্তানিকেন্দ্র। আর তাঁকে ঘিরেই জেলায় ভুট্টার বাজার তৈরি হয়েছে। কিন্ত লকডাউনের ফলে রপ্তানি বন্ধ থাকায় উত্তর দিনাজপুর জেলার ভুট্টা চাষিদের মাথায় হাত পড়েছে।

ভালো চাহিদা থাকায় চাষিরা বোরো ধানের চাষ কমিয়ে দিয়ে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মাঠ থেকে অনেক কষ্টে ভুট্টা ঘরে তোলার পর তা বাজারজাত করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, অন্যান্য সময়ে ওই এলাকায় উৎপাদিত ভুট্টা ফড়েরা চাষিদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে ডালখোলায় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। পাইকাররা ডালখোলা স্টেশনের রেক থেকে ভিন রাজ্যে রপ্তানি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন।

বর্তমানে দেশজুড়ে লকডাউনের ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় ভুট্টা বাজারজাত করতে না পেরে ভুট্টা ঘরেই জমা হয়ে পড়ে রয়েছে।

আরও পড়ুন: কুমলাই চা বাগানে শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

সারাবছর পরিশ্রম করে চাষিরা ভুট্টা চাষ করে সংসার চালান। ভুট্টা বিক্রি করতে না পারলে তাঁদের সারা বছরের পরিশ্রম পণ্ড হয়ে যাবে। সংসার চালানোও দায় হয়ে পড়বে বলে ভুট্টা চাষিরা জানিয়েছেন। অনেক চাষি জমি লিজ নিয়ে ভুট্টা চাষ করে থাকেন। ভুট্টা বিক্রি করেই তাঁরা জমির মালিককে লিজের অর্থ চুকিয়ে থাকেন। লকডাউনের জেরে রপ্তানি বন্ধ থাকায় সেইসব চাষিরাই আরও বেশি বিপাকে পড়েছেন। এখন ঘর থেকে সেই জমির লিজের টাকা শোধ দিতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

লকডাউনে ভুট্টা বিক্রি করতে না পেরে ভোগান্তি চাষিদের| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal India

চাকুলিয়া এলাকার ভুট্টা চাষি শাহজাহান আলি, আনন্দ সরকার, বিশেশ্বর ঘরামীরা জানান, পরিবহণ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না থাকায় ফড়েরা ভুট্টা কিনতে এগিয়ে আসছেন।

ভুট্টা একটি প্রধান অর্থকরী ফসল হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে জেলার চাষিদের কাছে। এবছর ফলনও ভালো হয়েছে কিন্তু বাজারজাত করতে না পারায় সংকটে পড়েছেন চাষিরা।

আরও পড়ুন: করোনা আবহে বাসচালকদের ফেরত আনার ঘটনায় ক্ষোভ জলপাইগুড়িতে

এইবিষয়ে উত্তর দিনাজপুর জেলার সহ কৃষি অধিকর্তা বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, ‘বিকল্প চাষ হিসেবে এলাকায় ভুট্টা চাষ খুবই জনপ্রিয় হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে চাষ করায় ফলনও ভালো হচ্ছে। গত বছর জেলায় ৮০ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছিল এবং ৮ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫৬৮ মেট্রিক টন ভুট্টা ফলে। এবার জেলায় চাষ অনেকটাই বেড়েছে।’

এদিকে ডালখোলা মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক রাজেশ গুপ্তা বলেন, ‘ডালখোলায় প্রায় ৩০০ জনের বেশি মানুষ ভুট্টা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। খাদ্যসামগ্রী পরিবহণের জন্য রেকে কোন সমস্যা নেই। চাষিদের ঘরে ভুট্টা ওঠা শুরু হয়ে গিয়েছে। পরিস্থিতি সবাইকে মানতে হবে। কিছু করার নেই। আমরা যেহেতু ‘গ্রীণ জোন’এ রয়েছি আশাকরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।’