কৃষি আইনের বিরোধীতায় কৃষি মেলায় কৃষক পুজো

111

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: পরিকল্পিতভাবে কৃষি আইনের বিরোধীতা করা হচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় দাবি করেছেন। কিন্তু সেই দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে দেশের কৃষক সংগঠনগুলি। আর সেই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের ‘বসুন্ধরা’ কৃষি মেলায় অনুষ্টিত হল ‘কৃষক পুজো’। পুজো শেষে কৃষি মেলার উদ্বোধক স্বামী মুক্তানন্দজী মহারাজ অন্নদাতা কৃষকদের হাতে পূজার্ঘ্য তুলেদেন। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধিতায় এহেন ‘কৃষক পুজোর’ আয়োজন নিয়ে তুঙ্গে উঠেছে শাসক ও বিরোধীদের রাজনৈতিক তর্জা।

রাজ্যের শস্যগোলা বলে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলা। এই জেলার সিংহভাগ মানুষই কৃষিজীবী। কৃষি কাজে কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রতিবছর শীতের মরশুমে জেলার বিভিন্ন ব্লকে কৃষি মেলার আয়োজন করা হয়েথাকে। জামালপুরের শুড়েকালনার ‘বসুন্ধরা’ উৎসব কমিটি এবছরও কৃষিজ ফসল, পুষ্প ও হস্তশিল্প মেলার আয়োজন করেছে। ‘কৃষক পুজোর’ মধ্য দিয়েই বুধবার এই কৃষি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন হয়। বসুন্ধরা উৎসব প্রাঙ্গনে পূজিত হন এলাকার তিন কৃষক অনন্ত মাজি, জয়দেব মাজি ও সংকর পাত্র। বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে লাঙল, কাস্তে, কোদাল হাতে দণ্ডায়মান থাকা ওই তিন কৃষককে অন্নদাতারুপে পুজো করেন পুজারী দিলীপ ভট্টাচার্য্য ও নিমপীঠ রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী মুক্তানন্দজী। মেলা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক পুজোয়’ এলাকার বহু মহিলা ও পুরুষ অংশ নেন। পুজো শেষে রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ ও মুক্তানন্দজী মহারাজ ‘বসুন্ধরা’ কৃষি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

- Advertisement -

পূজিত হওয়া কৃষক অনন্ত মাজি বলেন, ‘আমরা কৃষকরা রোদ, ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত মাথায় নিয়ে কঠোর কায়িক পরিশ্রম করে ফসল ফলাই। কৃষকদের উৎপাদিত ফসলেই দেশের মানুষের অন্নের সংস্থান হয়। তবুও আমরা কৃষকরা উপেক্ষিতই রয়েগেছি।‘ পূজিত হওয়া অনন্ত মাজি সহ অপর দুই কৃষক বলেন, ‘কৃষক পুজোর আয়োজন করে কৃষকদের সামাজিক মর্যাদা দেওয়া হল ঠিকই। তবে আমরা চাই কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় সরকারই কৃষকদের সামাজিক উন্নয়নের উদ্যোগ নিক। কৃষকরা বিপদে পড়ে যায় এমন কোন সিদ্ধান্ত কেন্দ্র বা রাজ্যের সরকার না নিলেই কৃষকদের মঙ্গল হবে বলে পূজিত হওয়া কৃষকরা মন্তব্য করেছে।‘

কৃষক পুজোর আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে স্বামী মুক্তানন্দজী মহারাজ বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, প্রতিটি মানুষ কৃষি কাজের দ্বারাই কেবল মাত্র সৎ ভাবে জীবনযাপন করতে পারে। কৃষকদের মধ্যেই সৎচিন্তা ভাবনা থাকে। যে চিন্তা ভাবনায় কোন খাদ মেশানো থাকে না। তাই সমাজে কৃষকদের সন্মানিত করাটা অনেবেশী তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রীয় কৃষি আইন প্রসঙ্গে মুক্তানন্দজী মহারাজ বলেন, ’নতুন কৃষি আইন চাষিদের স্বার্থের পরিপন্থী হলে আমার কাছে তা সমর্থনযোগ্য নয়।’

এদিন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ জানান, কৃষি মেলায় কৃষক পুজোর আয়োজন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও তাৎপর্যপূর্ণ। মন্ত্রী মেলার আয়োজকদের এই ভাবনার তারিফ করেছেন। অন্যদিকে, বিজেপির জামালপুরের কনভেনার জিতেন ডকাল যদিও কৃষক পুজোর আয়োজনকে কটাক্ষ করেছেন।তিনি বলেন, ’আন্দোলনজীবীরা কৃষি আইনকে বরবাদ করতে চাইছে বলে বুধবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যথার্থই মন্তব্য করেছেন। যারা লোক দেখানো কৃষক পুজোর আয়োজন করছে তাঁরাই কৃষকদের ভুল বোঝাচ্ছে, মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে বলে জিতেনবাবু মন্তব্য করেছেন।’