দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : শীতের মুখে ইতিমধ্যেই জল কমতে শুরু করেছে রায়গঞ্জ ব্লকের কুলিক নদীতে। আর জল কমে যাওয়ায় চর এলাকায় শুরু হয়ে গিয়েছে যথেচ্ছ চাষাবাদ। কুলিক নদীর পাশেই এভাবে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা। শুধু তাই নয়, নদীতে ডিটারজেন্ট দিয়ে কাপড় কাচার কাজও হচ্ছে। পরিবেশবিদরা বলেন, রায়গঞ্জের কুলিক সেতু সংলগ্ন আব্দুলঘাটা, পাথরমণিঘাট, এলেঙ্গিয়া, বিশাহার, গোড়াহার পর্যন্ত নদীর দুপাশের চরে সারাবছরই চলে ধান সহ বিভিন্ন ফসলের চাষ। এমনকি নদীতে ফেলা হয় আবর্জনাও। এমনিতেই দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় নদীর নাব্যতা অনেকটাই কমে গিয়েছে। তার ওপর নদীর চরে এভাবে চলতে থাকা কৃষিকাজ বন্ধ না হলে আগামীতে চাষিরাই সমস্যায় পড়বেন বলে মনে করছেন পরিবেশপ্রেমী ও কৃষিবিদরা।

উত্তর দিনাজপুর জেলায় শুধুমাত্র কুলিক নয়, নাগর, সুই, শ্রীমতী, গামারি, মহানন্দা সহ একাধিক নদীর চরে সারাবছর চাষাবাদ করেন কৃষকরা। শীত পড়লেই অনেকে আবার মাটি কেটে জলভাগ বুজিয়ে দেন চাষবাসের সুবিধের জন্য। সেসময় ধান, সরষে, পাট সহ বিভিন্ন ফসলের চাষ করেন তাঁরা। পরিবেশপ্রেমী চন্দ্রনারায়ণ সাহা বলেন, কুলিক নদীর চরে কোথাও না কোথাও সারাবছর চাষাবাদ হয়। পাশাপাশি নদীতে চলে কাপড় কাচা থেকে শুরু করে গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজকর্ম। আরেক পরিবেশবিদ কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, নদীর জলে বিভিন্ন ডিটারজেন্ট ব্যবহারের ফলে এমনিতেই দূষিত থাকে জল। অন্যদিকে, চরে চাষাবাদ করার সময় চাষিরা আবার বিভিন্ন কীটনাশক ব্যবহার করেন। এতে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হচ্ছে। পরিবেশবিদ গোপাল মিত্র বলেন, নদীর জলে কীটনাশক মেশায় এখন আর বিভিন্ন প্রজাতির নদীয়ালি মাছ পাওয়া যায় না। নদীর মাছ বিক্রি করে যাঁরা জীবিকানির্বাহ করতেন তাঁরা চরম বিপদে পড়েছেন। তাই অবিলম্বে নদীর চরে চাষাবাদ বন্ধ হওয়া দরকার।

দেবীনগর পাথরমণিঘাটে গিয়ে দেখা গেল গোপাল দাস নামে এক মৎস্যজীবী নদীতে জাল লাগিয়ে মাছ ধরছেন। তিনি জানান, নদীতে এখন আর ছোটো মাছ পাওয়া যায় না। সারারাত ধরে নদীর বুকে বসে থাকলেও এক থেকে দেড় কেজির বেশি মাছ পাওয়া যায় না। নদীর জল বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। নদী লাগোয়া দ্বীপনগরের বাসিন্দা বাসুদেব সরকার বলেন, আমাদের বাপঠাকুরদারা নদীতে মাছ চাষ করেই সংসার চালাতেন। কিন্তু এখন এই এলাকার অধিকাংশ মৎস্যজীবী মানুষই এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যোগ দিচ্ছেন। নদীর জল দূষিত হয়ে যাওয়ায় এখন আর তেমন মাছ মেলে না। নদী সংস্কার ও নদী সম্পর্কে সচেতনতাই একমাত্র নদীকে বাঁচাতে পারে। জেলাপরিষদের কৃষি ও সেচ কর্মাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন বলেন, বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে নদীর গুরুত্ব সাধারণ মানুষকে বোঝাতে ও নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। নদীর নাব্যতা বাড়াতে ১০০ দিনের কাজের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক খননের কাজ করা হবে।