মেখলিগঞ্জ ব্লকজুড়ে নদীবক্ষে অবৈধ চাষাবাদ, নীরব প্রশাসন

222

জামালদহ : কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন নদী দখল করে অবৈধভাবে চাষবাস করার প্রবণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীর নাব্যতা কমছে এবং স্বাভাবিক গতি রুদ্ধ হচ্ছে। অভিযোগ, পঞ্চায়েত এবং প্রশাসনের কোনও নজরদারি না থাকায় ব্লকের সুটুঙ্গা থেকে সানিয়াজান কিংবা জলঢাকা, তিস্তা, ধরলা সব নদীতে আলু বা অন্য সবজি চাষাবাদ হচ্ছে। তবে সিংহভাগ এলাকাজুড়ে নদীবক্ষে ব্যাপক হারে ধান চাষ হচ্ছে। আর এতেই মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে মাছ সহ নানা জলজ প্রাণীর। এতে উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা।

কারা এভাবে নদী দখল করে অবৈধভাবে চাষবাস করছেন? এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, মূলত নদী সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারাই প্রতিবছর ওই এলাকায় চাষবাস করেন। নদীর জলস্তর কম থাকার সুযোগে সেখানেই বীজতলা তৈরি করে বোরো ধান বুনছেন। এই নিয়ে তাঁদের কেউ বিশেষ বাধাও দেয় না। এর সুযোগ নিয়ে লাভের আশায় নদীর বুকে চাষবাস করে চলছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামালদহের কয়েকজন চাষি জানান, নদীতে এভাবে চাষবাস করা যে যায় না সেটা আমরা জানি না। বছরের পর বছর এভাবে নদীর জমি ব্যবহার করলেও কখনও বাধা পাইনি। তাই এখনও চাষাবাদ চলছে।

- Advertisement -

পরিবেশপ্রেমীদের মতে, নদীর বুকে দেদার চাষের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি বাধা পাচ্ছে। কমে যাচ্ছে নাব্যতাও। বিপন্ন হয়ে পড়ছে জলের বাস্তুতন্ত্র। পরিবেশের ভারসাম্য প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিবেশবিদ তুহিনশুভ্র মণ্ডল বলেন, নদীবক্ষে অবৈধ চাষাবাদ এবং কারবার বন্ধ করতে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ করা উচিত। পাশাপাশি, যাঁরা নদী নিয়ে ভাবেন তাঁদেরও এ সবের বিরুদ্ধে  রাস্তায় নেমে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। জামালদহের পরিবেশপ্রেমী নব্যেন্দু ঘোষ বলেন, মেখলিগঞ্জ ব্লকের সবকটি নদীর অবস্থা শোচনীয়। যেভাবে কীটনাশক প্রযোগ করে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে ঘুরিয়ে দিয়ে চাষাবাদ করা হচ্ছে তাতে মারাত্মকভাবে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এখনই এসব শক্ত হাতে দমন করা দরকার। না হলে জনজীবনে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। সেচ দপ্তরের আধিকারিক সমীর বর্মন বলেন, প্রকৃতিকে রক্ষায় সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে। সেইসঙ্গে এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় হতে হবে। দপ্তরের তরফে মাঝেমধ্যেই নদীবক্ষে অবৈধ চাষাবাদ বন্ধ করতে অভিযান চালানো হয়। কিন্তু দপ্তরের লোকবল এবং পরিকাঠামোগত সমস্যার জেরে সবসময় নজরদারি চালানো সম্ভব হয় না। সেজন্য স্থানীয়স্তর থেকেই বেশি করে মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তাহলেই এ সব রোধ করা সম্ভব।