মজে যাওয়া নদীতে অবাধেই চাষবাস, সরব পরিবেশবিদরা

323

তুষার দেব, দেওয়ানহাট : প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় মজে আসছে নদী। বর্ষার সময়টুকু বাদ দিয়ে বছরের অন্যান্য সময় নদীবক্ষে ব্যাপক চাষাবাদ চলছে। এভাবেই ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে নদী। নদী মজে যাওয়ায় পরিবেশের উপর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোচবিহার-১ ব্লকের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বানিয়াদহ (মরা মানসাই) ঝলঝলি, মোরঙ্গা, ধরলা প্রভৃতি মৃতপ্রায় নদীতে এই চাষাবাদ করা হচ্ছে। অবিলম্বে এই কাজ বন্ধে পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলি প্রশাসনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।

শুখা মরশুমে নদীবক্ষে চাষাবাদের রেওয়াজ বেশ পুরোনো। এতে নদীর নাব্যতা কমার পাশাপাশি নদী দূষণ নিয়ে বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠন বহুদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে। যদিও তাতে অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। সম্প্রতি কোচবিহার-১ ব্লকের বিভিন্ন নদীতে একই কাজ শুরু হয়েছে। বর্ষার পর জল কমলে বহু কৃষক মরা মানসাই নদীতে কচু চাষ করেন। ঝলঝলি, ধরলা, মোরঙ্গা নদীর ক্ষেত্রে তা বদলে যায় বোরো চাষে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, একজন কৃষক প্রথম বছর নদীর যে জায়গায় চাষ করেন, পরের বছরেও সেই জায়গা তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট থাকে। অর্থাত্ নদীর উপর তাঁদের অলিখিত মালিকানা তৈরি হয়ে যায়। দখলে থাকা জমি ভবিষ্যতে অর্থের বিনিময়ে হাতবদল করা যাবে, এমন প্রত্যাশা রয়েছে সিংহভাগ কৃষকের। মরা মানসাই, ঝলঝলি নদীর একাংশ দখল করে তাতে কৃত্রিম জলাশয় তৈরি করে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

- Advertisement -

ফি বছর ঝলঝলি নদীবক্ষে চাষ করেন এমন এক কৃষক পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে নদীতে চাষে আগ্রহ ছিল না। কিন্তু নদী ধীরে ধীরে মজে আসায় খানিকটা জায়গা দখলে রেখে কয়ে বছর থেকে চাষাবাদ করছি। ভবিষ্যতেও এই জায়গায় চাষ করব। আরেক কৃষক বলেন, নদী সংলগ্ন বাসিন্দারের প্রায় সকলেই কমবেশি জমি নিজেদের দখলে রেখেছেন। এ বিষয়ে পরিবেশপ্রেমী সংগঠন ন্যাস গ্রুপের সম্পাদক অরূপ গুহ বলেন, নদী কখনও কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। চাষাবাদের নামে নদী দখল এক মারাত্মক প্রবণতা। অবিলম্বে প্রশাসন কড়া হতে তা বন্ধ করুক। এ বিষয়ে সেচ দপ্তরের জেলা নির্বাহী বাস্তুকার স্বপনকুমার সাহা বলেন, নদী দখল করে কোনও প্রকার কর্মকাণ্ড কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা এর বিরুদ্ধে নজরদারি চালাচ্ছি। একইসঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।