নদীগর্ভে যাচ্ছে চাষের জমি, বসতবাড়ি খোয়ানোর শঙ্কা

অমিতকুমার রায়, মানিকগঞ্জ : ইতিমধ্যে সাত বিঘা চাষের জমি তার গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছে। তবুও থামার কোনও ইচ্ছে নেই। স্থানীয় কৃষকদের দিশাহারা করে উদ্ধত ভঙ্গিমায় এগোচ্ছে সে। শুধু চাষের জমি নয়, গোটা গ্রামের বসতবাড়িগুলিকে নিজের গর্ভে নেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। সুই নদীর ভাঙনে সংকটাপন্ন দক্ষিণ বেরুবাড়ির বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী পাঠানপাড়া গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন এমনটাই মনে করছেন। ভাঙন রোধ করে উর্বর আবাদি জমি, চা বাগান সহ গোটা গ্রামকে টিকিয়ে রাখা যাবে কি না সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। যদিও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, বিধায়ক, যুগ্ম বিডিও, সেচ দপ্তরের আধিকারিক আলাদাভাবে এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা দিয়ে বইছে সুই নদী। নদীর ডান তীরেই রয়েছে পাঠানপাড়া গ্রাম। এখানকার প্রায় ৪৫০ মিটার এলাকা ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে। চাষের জমি সহ বসতবাড়ির অস্তিত্ব এখন সংকটের মুখে। স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলি, আজিবর প্রামাণিক, রমজান আলি, হামিদার রহমান জানান, বছর দুয়েক আগে ভাঙনের বিষয়টি তাঁদের নজরে আসে। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনিক মহলে দরবার করেন তাঁরা। ইতিমধ্যে চা বাগান সহ উর্বর চাষের জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আর কয়েক মিটার এগোলেই বিপুল পরিমাণ চাষের জমি সহ বহু বাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। স্থানীয় বাসিন্দা সাবেদ আলি, বিমল রায়, আইছার আলি জানান, নদীর পাড় সংলগ্ন এই গ্রামটির ভূমিরূপ অপেক্ষাকৃত নীচু। সংলগ্ন সাতকুড়া, গর্তেশ্বরী সহ বিভিন্ন এলাকায় জমা বৃষ্টির জল এই গ্রামের আবাদি জমির উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সুই নদীতে গিয়ে পড়ে। এতেই চাষের জমির ভাঙন প্রকট হয়।

- Advertisement -

মূলত চা ও ধান চাষের ওপর নির্ভরশীল এই এলাকা। চা বাগান ও ধানের উর্বর জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় আগামীদিনে কীভাবে পরিবারের মুখে অন্ন জোগাবেন সেটাই প্রশ্ন সকলের। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিমল দাস বলেন, নদীভাঙনের বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যে তা সেচ দপ্তর ও পঞ্চায়েত সমিতির নজরে এনেছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আমি আশাবাদী। জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সদস্য বিধানচন্দ্র রায় বলেন, বিষয়টি সেচ দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয় বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা বলেন, পরিস্থিতি যথেষ্ট উদ্বেগের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তরের জুনিয়ার ইঞ্জিনিয়ার শুভ্র সরকার ও বিডিও তাপসী সরকার ফোন না ধরায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।