জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : নদী দূষণ রোধের জন্য সরকারি উদ্যোগে প্রদর্শনী থেকে শুরু করে আলোচনা সভা হচ্ছে। সচেতনতা তৈরিতে মোটা অঙ্কের টাকা খরচও হচ্ছে। অথচ জলপাইগুড়ি শহরের পাশে তিস্তা নদীর পাড়ে বিঘার পর বিঘা জমিতে রাসায়নিক ব্যবহার করে অবাধে কৃষিকাজ হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগাতে এ কাজ হলেও কর্তৃপক্ষের কোনও হেলদোল নেই। সেচ দপ্তর বিষয়টি নিয়ে উদাসীন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে দপ্তরের কাছে কোনও তথ্যই নেই। জলপাইগুড়ি সেচ দপ্তরের সহকারী বাস্তুকার শান্তনু ধর জানিয়েছেন, বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক। মঙ্গলবারই তিনি এলাকা পরিদর্শন করবেন।

জলপাইগুড়ি শহরের জুবিলি পার্ক সংলগ্ন এলাকাতে যথেচ্ছভাবে কীটনাশক ব্যবহার করে তিস্তা নদীর পাশের জমিতে চাষ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, চাষের কাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রভাবে নদীর বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি হবে। বর্তমানে জুবিলি পার্ক সংলগ্ন এলাকায় তিস্তা নদীতে জল নেই বললেই চলে। নদীর পাশে উর্বর মাটিতে বিঘার পর বিঘা জমিতে, আলু, মুলো, কাঁচালংকা, মটরশুঁটি, সরষে, বেগুন চাষ হচ্ছে। একদল চাষি রীতিমতো ক্যাম্প করে এলাকায় কৃষিকাজ করছেন। ইউরিয়া, পটাশ সহ বিভিন্ন রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হচ্ছে। শীতের সবজি উৎপাদন করে তা জলপাইগুড়ি এবং শিলিগুড়ির বাজারে পাঠানো হচ্ছে। অথচ এ ব্যাপারে সেচ দপ্তরের কোনও নজরদারি নেই। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক রাজা রাউত বলেন, তিস্তা নদীর মাটিতে চাষ করা অন্যায়। চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক জলজ প্রাণীর বংশবিস্তারের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। শুধু তাই নয়, কীটনাশক ব্যবহারের জেরে তিস্তায় নদীয়ালি মাছের সংখ্যাও হ্রাস পাচ্ছে।

- Advertisement -

দিলীপ বিশ্বাস, মন্টু সরকার, বলাই পালরা দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরিতে চাষ করাচ্ছেন। দিলীপ বিশ্বাস বলেন, শহরের লোকেদের চাকরি আছে। আমরা কয়েক পুরুষ ধরে নদীর চর এলাকায় বাস করছি। নদীতে চাষ করা দোষের কিছু নয় বলে দিলীপবাবুর বক্তব্য। মন্টু সরকার বলেন, বিকল্প কোনও পথ না থাকায় চাষ করার জন্য আমরা নদীকেই বেছে নিয়েছি। এ প্রসঙ্গে জলপাইগুড়ি সদরের মহকুমা শাসক রঞ্জন দাস বলেন, এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।