জৈব সারে ফসল ফলিযে তাক লাগাচ্ছেন শহিদুল

289

জলপাইগুড়ি : তাঁর চাষের জমিতে কী নেই? লাল বাঁধাকপি থেকে হলুদ ও কালো রংযে স্কোয়াশ। ব্রোকোলি থেকে অসময়ে বিশালাকৃতি মুলো। জৈব সারে ফলানো এসব সবজি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনই স্বাস্থ্যসম্মতও। মাটিয়ালির উত্তর মাটিয়ালি গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ক্লাস এইটের বেশি পড়াশোনা করেননি। কিন্তু নিজের কাজের প্রতি যত্নশীল হলে কী হয় তা তিনি বিলক্ষণ জানেন। তাঁর উৎপাদিত ফসল কিনতে শহিদুলের তিনটি বিপণনকেন্দ্রে ক্রেতারা রোজই ভিড় জমান। কাজের প্রতি তাঁর এই অবদানকে স্বীকৃতি দিতে কৃষি দপ্তর শহিদুলের হাতে কৃষিরত্ন পুরস্কার তুলে দিয়েছে। পাশাপাশি, জেলা জলপাইগুড়ির স্বার্থে ক্ষুদ্র সেচ অনুসন্ধান দপ্তর প্রচারবিমুখ ৩৫ বয়সি এই কৃষককে প্রচারের আলোয় আনতে উদ্যোগী হয়েছে। দপ্তরের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি সুব্রত মিত্র বলেন, ’২৬-২৭ জানুযারি জলপাইগুড়িতে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার কৃষকরা বিশেষ কর্মশালায় শামিল হচ্ছেন। আমরা সেখানে শহিদুলকে হাজির করছি। সবুজ বিপ্লবে শামিল হযে তিনি কীভাবে সাফল্য পেলেন তা শহিদুল সেখানে তুলে ধরে সবাইকে উৎসাহিত করবেন।

শহিদুল উত্তর মাটিয়ালি উদয়ন জল ব্যবহারকারী সমিতির সদস্য। সৌরচালিত জলসেচ প্রকল্পের মাধ্যমে উত্তর মাটিয়ালি গ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ভুক্তদের পাশাপাশি আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্তরা চাষাবাদ করছেন। ক্ষুদ্র সেচ অনুসন্ধান দপ্তরের উদ্যোগে চাষের জল পেযে শহিদুলের পাশাপাশি এখানে সোমরা খেরিয়া, শুক্রা খেরিয়া, ভারত রায, বুধু খেরিয়া, ফুলাচান্দ নাগাশিয়া, শফিকুল ইসলামের মতো অনেকেই উপকৃত হয়েছেন। সুস্বাদু সবজি উৎপাদন করে উত্তর মাটিয়ালি উদয়ন জল ব্যবহারকারী সমিতি ব্যাংকে এখনও পর্যন্ত ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭৯০ টাকা জমা করেছে। মঞ্জুযারা বেগম, আলো বেগমদের পরিবার এখন কিছুটা স্বচ্ছন্দ হয়েছে। সমিতির ৪০ জন সদস্যই লাভের অংশীদার হয়েছেন। চাষাবাদে মনপ্রাণ ঢেলে দেওয়ায় এঁদের মধ্যে শহিদুল অনেকটাই উজ্জ্বল। শহিদুলের ব্যক্তিগত উদ্যোগের জেরে উত্তর মাটিয়ালির প্রায এক হাজার কৃষক পরিবারে হাসি ফুটেছে। তাঁর উৎ‌পাদিত সবজি ক্রান্তি, মৌলানি ও লাটাগুড়ি বাজারে বিক্রি হয়। তিনটি জায়গাতেই শহিদুলের নিজস্ব বিপণনকেন্দ্র রয়েছে। তাঁর উৎপাদিত সবজি কিনতে এই কেন্দ্রগুলিতে ক্রেতারা রোজই ভিড় জমান। এহেন কৃতিত্বের সুবাদে তিনি এখন সবুজ বিপ্লবের সৈনিক। এলাকার বাসিন্দারাই তাঁকে এই বিশেষণে চিহ্নিত করছেন। জেলার সেরা কৃষক পুরস্কারের পাশাপাশি কৃষকবন্ধু পুরস্কার পাওয়ায় তাঁকে ঘিরে এলাকা গর্বে বিভোর।

- Advertisement -

নিজের বিষয়ে কথা বলতে ঠিক ততটা স্বচ্ছন্দ নন। জোরাজুরি করায শহিদুল বলছেন, ‘যতটা পেরেছি কাজে মন দেওযার চেষ্টা করেছি। তবে এলাকার বাসিন্দারা সহায়তা না করলে কোনোমতেই সাফল্য পেতাম না।’ সাফল্য মেলায তিনি রামশাই কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের সমান কৃত্বিত্ব দিচ্ছেন। শহিদুল বলেন, ‘এই বিজ্ঞানীরা আমাকে প্রতিদিন সবজি চাষে পরামর্শ দেন। পাশাপাশি, চাষের জন্য প্রযোজনীয় বীজ জোগাড় করতে সাহায্য করেন।’ চাষাবাদে উল্লেখযোগ্য কাজ করে উত্তরবঙ্গকে গর্বিত করার স্বপ্ন যুবকের দুচোখে।

 

ছবি- নিজের জমিতে শহিদুল

তথ্য ও ছবি- জ্যোতি সরকার