ব্যাটসম্যানদের হাতে সিরিজের ভাগ্য, একান্ত সাক্ষাৎকারে ঋদ্ধিমান

74

অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই নানা কথা বলছেন এখন! বলছি তো। যতদূর মনে পড়ে, ২০১০ সালে নাগপুরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আমার অভিষেক টেস্টের পর আপনি পরামর্শ দিয়েছিলেন আমায়। বলেছিলেন, আরও স্মার্ট হতে। গুছিয়ে কথা বলতে। সেই চেষ্টাই করছি এখন। কথা শেষ করেই হো হো হাসিতে ফেটে পড়লেন ঋদ্ধিমান সাহা!

করোনা থেকে মুক্তির পর বিরাট কোহলির সংসারের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান কি বদলে গেলেন? না কি পরিস্থিতি তাঁকে বদলাতে বাধ্য করল? কে জানে। আগামীকাল মিশন ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে কলকাতা থেকে মুম্বই উড়ে গিয়ে ফের কোয়ারান্টিনে ঢুকে পড়ার আগে আজ উত্তরবঙ্গ সংবাদকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিলেন পাপালি। জানিয়ে দিলেন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপ ফাইনাল সহ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্ট ম্যাচের সিরিজ জয়ে ভালোরকম সম্ভাবনা রয়েছে টিম ইন্ডিয়ার। জয়ের মূল শর্ত একটাই, দলের ব্যাটসম্যানদের ধারাবাহিকভাবে রান করতে হবে। ঋদ্ধি মনে করেন, ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে সিরিজের ভাগ্য লুকিয়ে।

- Advertisement -

আসন্ন মিশন ইংল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ
চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটে নতুন কিছু নয়। সব ম্যাচেই থাকে। প্রথম একাদশে থাকলে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি হয়। এবারের চ্যালেঞ্জটা সিরিজের শুরুতে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের সময় বেশি থাকবে। কারণ, আমরা ওখানকার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বেশি অনুশীলনের সুযোগ পাব না। তবে পেশাদার ক্রিকেটারকে চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলতে হয়।

প্রথম একাদশে ঋষভ
আমি বলেছি, ঋষভ পন্থ ভালো খেলছে। সাম্প্রতিক অতীতে নিয়মিত সফল হয়েছে। কিন্তু প্রথম একাদশে কে থাকবে, কে কিপিং করবে, সেটা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। আমি সম্ভাবনার কথা বলেছি শুধু।

সলমন বাটের প্রশংসা
কী বলেছে? জানি না।

সতীর্থ ঋষভের জন্য পেশাদার মন্তব্য
সলমন বাটের যা মনে হয়েছে, বলেছে। আমার মনের কথাও আমি বলেছি। এর বেশি কিছু বলার নেই।

স্ট্যান্ডবাই কোনা ভরত
হ্যাঁ জানি, দলের সঙ্গে মুম্বইয়ে রয়েছে ও। ইংল্যান্ডেও যাওয়ার কথা। ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়, দীর্ঘ সিরিজে দলে বিশেষজ্ঞ উইকেটকিপার বেশি থাকলে ভালো। ঘরের মাঠে মাস খানেক আগে ইংল্যান্ড সিরিজের সময় চেন্নাই, আহমেদাবাদে ভরত স্ট্যান্ডবাই হিসেবে ছিল। দীর্ঘ সিরিজে এমন ব্যাকআপের প্রয়োজন হয়। আপনার নিশ্চয় মনে আছে, সিডনি টেস্টে ঋষভ হাতে চোট পাওয়ার পর আমায় কিপিং করতে নামতে হয়েছিল।

মোট ৬ টেস্টের দীর্ঘ সিরিজ
যতদূর মনে পড়ে, এমন সিরিজে আগে গিয়েছি আমি। পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখতে পাবেন, ২০১৪ সালে আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলে ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম ৪ টেস্টের সিরিজ খেলতে। ফলে দীর্ঘ সিরিজের অভিজ্ঞতা আমার নতুন নয়। এই দলের অনেকেরই এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল
আমার কাছে সব ম্যাচই সমান। তবে গুরুত্বের বিচারে বিশ্বকাপ ফাইনালের মতোই এই ম্যাচটা। অনেকেই এভাবে দেখছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালকে। আমার মতে, আমরা মাঠে সেরাটা দিতে পারলে সমস্যা হবে না সফল হতে।

ক্রিকেটারদের করোনা আতঙ্ক
দলে কারোর কোনও করোনা আতঙ্ক রয়েছে বলে শুনিনি। তাছাড়া আমি শুনেছি, ভারতের তুলনায় ইংল্যান্ডের করোনা সংক্রমণের ছবিটা অনেক ভালো। তাই ভয় পাওয়ার কিছুই নেই।

পেস বনাম পেস
ভারতের পাশে নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড- সব দলেই ভালো পেসার রয়েছে। কিন্তু তারপরও বলছি, আসল লড়াইটা হবে ব্যাটসম্যানদের। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়ানশিপ ফাইনাল হোক বা ইংল্যান্ড সিরিজ, ব্যাটসম্যানরাই ফারাক গড়বে। ব্যাটসম্যানদের ব্যাটেই নির্ভর করবে ম্যাচ বা সিরিজের ভাগ্য।

বল নড়লে ভারতীয় ব্যাটিং কাঁপে
একটু পরিসংখ্যানটা চেক করে নিন। শুধু ভারত নয়, সব দলের ব্যাটসম্যানরাই কাঁপে। মহম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা, জসপ্রীত বুমরাহদের ক্ষমতা রয়েছে দুনিয়ার যে কোনও ব্যাটিংকে কাঁপিয়ে দেওয়ার। তাই ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দোষ দেওয়ার মানে হয় না। আর ইংল্যান্ডের মাটিতে, ওখানকার আবহাওয়ায় পেসাররা সাহায্য পাবেই।

মিশন ইংল্যান্ডে ভারতের ভাগ্য
সিরিজের স্কোরলাইন বলতে পারব না। আমি কি জ্যোতিষী নাকি! (হো হো হাসি)। তবে ভারতীয় দলের সদস্য হিসেবে সবসময় চাইব, আমরা যেন সব ম্যাচ জিততে পারি। অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ জয়ে পর এবার ইংল্যান্ডেও জেতার জন্য ঝাঁপাব আমরা। কিন্তু সিরিজের ফলের পূর্বাভাস করতে পারব না।

 স্থগিত আইপিএল সম্ভাবনা
আমি জানি না প্রতিযোগিতার বাকি ৩১টি ম্যাচ আদৌ হবে কি না। হলে কোথায়, কীভাবে হবে, সেটাও জানি না। শুনেছি সম্ভাবনা কম। বোর্ড ভারতের বদলে আইপিএলের পুরোটা সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে করলেই ভালো করত।

ঋদ্ধিমানের ভ্যাকসিন পরিকল্পনা
সবে করোনা থেকে উঠেছি। এখন ভ্যাকসিন নেওয়া সম্ভব হবে না বলেই শুনেছি। সম্ভবত ইংল্যান্ডে আমাদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে বোর্ড। তবে সেটা কীভাবে, জানি না এখনও।