পথ দুর্ঘটনায় বাবা ও ছেলের মৃত্যু

0
1104
- Advertisement -

বর্ধমান: চারচাকা গাড়ি চড়ে পরিবারের সাথে উত্তরপ্রদেশ যাবার পথে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল বাবা ও ছেলের। মৃতরা হলেন ইসলাম শেখ (৪৫) ও ইনামুল শেখ (১৫)। গুরুতর জখম হয়েছেন ইসলামের স্ত্রী রেজিনা বিবি, মেয়ে তাসমিন খাতুন ও রেজিনার ভাই আলি শেখ। ঘটনাটি ঘটেছে, শনিবার জাতীয় সড়কে বিহারের ঔরঙ্গাবাদে। মৃত ও জখমরা সকলেই পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানার নিমো ১ পঞ্চায়েতের কাঁঠালগাছি গ্রামের বাসিন্দা। জখম পরিবার সদস্যদের বিহারের ঔরঙ্গাবাদ থেকে উদ্ধার করে এদিন বর্ধমানের বাইপাশের ধারে একটি বেসরকারী নার্সিং হোমে ভর্তি করা হয়। রবিবার সকালে বাবা ও ছেলের মৃতদেহ পৌছায় কাঁঠালগাছি গ্রামের বাড়িতে। এই ঘটনায় কাঁঠালগাছি গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মৃত ইসলাম সেখের ভাই দিলু শেখ এদিন জানান, উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে তাঁর দাদার সোনার গহনা ব্যবসার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেই কারণে স্বপরিবার ইসলাম ঝাঁসিতেই থাকতেন। করোনা অতিমারির কারণে দেশজুড়ে লকডাউন জারি হলে ইসলাম তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে স্বপরিবার কাঁঠালগাছি গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন। লকডাউন ওঠার পর বর্তমানে ঝাঁসিতে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। দোকান বাজারও চালু হয়েছে।

দিলু আরও জানান, দীর্ঘদিন সোনার গহনা ব্যবসার প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাঁর দাদা ইসলামের আর্থিক ক্ষতির পরিমান বাড়ছিল। সেই কারণে দাদা ঝাঁসিতে ফিরে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু করার সিদ্ধান্ত নেন।

এদিন দিলু জানান, আগে বাড়িতে আসলে তাঁর দাদা পরিবার সদস্যদের নিয়ে ট্রেনে চড়েই ঝাঁসি যাতায়াত করতেন। কিন্তু এখন ট্রেন না চলায় ঝাঁসি পৌছনোর জন্য তাঁর দাদাকে চারচাকা গাড়ি ভাড়া করতে হয়। শুক্রবার রাতে দাদা স্বপরিবার চারচাকা গাড়িতে চড়ে মেমারির কাঁঠালগাছি থেকে ঝাঁসির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। শনিবার ভোরে জাতীয় সড়কে বিহারের ঔরঙ্গাবাদে ঘটে যায় ভয়াভহ পথ দুর্ঘটনা।

দিলু শেখ জানান, তাঁর দাদা পরিবারের সাথে যে গাড়িতে ছিল সেই গাড়ি চালাতে চালাতেই চালক ঘুমিয়ে পড়ে। তখনই গাড়িটি সজোরে ধাক্কা মারে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিতে। ঘটনাস্থলেই তাঁর দাদা ও ভাইপোর মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম হয় দাদার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালক। তাঁদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। চিকিৎসার জন্য তাদের সবাইকে উদ্ধার করে বর্ধমানে আনা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিহারের হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে গাড়ির চালক। এদিনই কাঁঠালগাছি গ্রামের কবরস্থানে বাবা ও ছেলের মৃতদেহ কবরস্থ করা হয়। মেমারি থানার পুলিশ দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

- Advertisement -