তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধি লাভের জন্য সন্তানকে মাটিতে পোঁতার অভিযোগ, গ্রেপ্তার বাবা ও তান্ত্রিক

495

কালিয়াগঞ্জ, ৩০ এপ্রিলঃ তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য নিজের সন্তানকে মাটিতে পোঁতার পরিকল্পনা ভেস্তে দিলেন গ্রামবাসীরা।বুধবার রাতে কালিয়াগঞ্জ থানার ৭ নম্বর ভান্ডার গ্রাম পঞ্চায়েতের টুঙ্গল বিলপাড়া এলাকায় এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযাগের ভিত্তিতে ওই রাতেই কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ বাবা দিলীপ সরকার এবং তান্ত্রিক গলিচাঁদ বর্মনকে থানায় নিয়ে যায়।বৃহস্পতিবার তিস্তা সরকার তাঁর স্বামী দিলিপ সরকার এবং তান্ত্রিক গলিচাঁদ বর্মনের বিরুদ্ধে কালিয়াগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।পরে অভিযোগের ভিত্তিতে ২ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বুধবার রাতে পেশায় শিশু শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক তথা তান্ত্রিক গলিচাঁদ বর্মন তাঁর পাড়ার বাসিন্দা দিলিপ সরকারকে জানায় তিনি স্বপ্ন দেখেছেন তাঁর বাড়ির উঠোনে পূর্ব পুরুষেরা গুপ্তধন রেখেছে। সেই কথা শুনেই দিলীপ সরকার তাঁর ১০ বছরের পুত্র সাগরকে নিয়ে তান্ত্রিকের বাড়িতে যান। এরপর রাতের অন্ধকারে গলিচাঁদ তার বাড়িতে গর্ত খুঁড়তে শুরু করেন। এরপর ছেলে সাগরের মাপে গর্ত খুঁড়ে ফেলেন দিলিপ। প্রতিবেশিরা দেখতে পান দিলীপ তাঁর ছেলেকে গর্তের মধ্যে নামিয়ে দিয়ে মন্ত্রচ্চারণ করছেন। বিষয়টা সন্দেহজনক হওয়ায় গ্রামবাসীরা কালিয়াগঞ্জ থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করে। শিশুটির বাবা দিলীপ ও তান্ত্রিক গলিচাঁদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা অতুল বর্মন জানান, শিশুটি কাঁপতে কাঁপতে কালো হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি সবাইকে ডাকেন৷ তিনি আরও জানিয়েছেন, দিলীপ সরকার তাঁদের জানিয়েছিল, সে মা কালির তন্ত্র শিখতে এসেছিল। কিন্ত, তাঁদের ধারণা বাবা দিলীপ এবং তান্ত্রিক গলি শিশুটিকে গুম করে ঠাকুরের সামনে পুঁতে ফেলতে চেয়েছিল। তাঁরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে না এলে, কোনও অঘটন ঘটে যেত। গ্রামবাসী রত্না রায় সরকার জানান, গলিচাঁদের বাড়িতে একটা বড় গর্ত করতে তিনি দেখেছিলেন। পাশে ধুপকাঠি জ্বলছে এবং সিঁদুরও পড়ে ছিল। একটা বাচ্চাকে গর্তে নামানোর পর মন্ত্রচ্চারণ করা হচ্ছিল। ঘটনা দেখে তিনি ভয় পেয়ে যান। গলিচাঁদ বাচ্চাটিকে গর্ত থেকে তুলে নেয় এবং গর্ত ভরে দেয়। এতেই সন্দেহ হয়। শিশুটি জানায়, টাকার হান্ডি মাটির ভিতরে ছিল। সেটা ওঠানোর জন্য তাঁকে গর্তের মধ্যে নামানো হয়েছিল। তাঁর গলা পর্যন্ত গর্ত করা ছিল। পরে হান্ডিটা বুড়াবুড়ির মন্দিরের ভিতরে রাখা হয়। সেই রাতের ঘটনা বলতে গিয়ে ছোট্ট সাগর ভয়ে কাঁপছিল। তাঁর কথা বন্ধ হয়ে যায়। চতুর্থ শ্রেণিতে পাঠরত সাগর কিছুই বুঝতে পারছে না। টাকার হান্ডিটার জন্যই যে বাবার সঙ্গে গিয়েছিল, তা তাঁর মুখ দিয়ে উচ্চারিত হতে শোনা গিয়েছে।

সাগরের মা তিস্তা সরকার জানান, ওই রাতে তাঁর স্বামী দিলীপ সরকার পরিকল্পনামাফিক ছেলে সাগরকে অসৎ উদ্দেশ্যে তুলে নিয়ে যায় গলিচাঁদের বাড়িতে। মাটিতে গর্ত খুঁড়ে মেরে ফেলার জন্য ছেলেকে পুঁতে দিতে চেয়েছিল।স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর ছেলেকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে। তিনি ঘটনার সঠিক বিচার চেয়েছেন। কালিয়াগঞ্জ থানার আইসি আশিস দলুই জানান, শিশুটির মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।