খেলার জন্য গরু বিক্রি শ্রীজেশের বাবার

মুম্বই : দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে সাফল্যের সিঁড়ি ভাঙা। ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে অপরিচিত নয় এই লড়াই। সেই জীবনকথাই ধরা দিল ভারতীয় হকির গোলদুর্গের প্রহরী পিআর শ্রীজেশের গলায়।

৪১ বছর পর অলিম্পিকের আসর থেকে ব্রোঞ্জ নিয়ে ফিরেছিল ভারতীয় হকি দল। টোকিযোয় গোটা টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরমেন্স ছিল ভারতীয় গোলরক্ষক শ্রীজেশের। ব্রোঞ্জ প্লে অফে জয়ের পর নিজের পদক তিনি উৎসর্গ করেছিলেন বাবাকে। কেন? সেই অজানা কাহিনি এক জনপ্রিয় হিন্দি কুইজ শো-তে এসে উদ্ঘাটন করেছেন শ্রীজেশ। পাশে বসে তখন টোকিও অলিম্পিকে একমাত্র সোনাজয়ী ভারতীয় অ্যাথলিট নীরজ চোপড়া। সঞ্চালকের আসনে অমিতাভ বচ্চন।

- Advertisement -

বিগ বি-র প্রশ্নের উত্তরে তাঁর জীবনে বাবা-র অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন শ্রীজেশ। আবেগঘন গলায় জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকে তিনি খুব দুরন্ত ছিলেন। যার জন্য মার খেতে হয়েছে বাবার হাতে। তবে হকি খেলার পিছনে সবসময় তাঁর বাবার উৎসাহ পেয়েছেন শ্রীজেশ। বলেন, আমি যেবার প্রথম খেলার ডাক পাই, সন্দিহান ছিলাম বাবা যাওয়ার অনুমতি দেবেন কি না। আমি সরাসরি তাঁকে গিয়ে বলেছিলাম আমি খেলতে চাই। বাবা আপত্তি করেননি।

কতটা ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন শ্রীজেশের বাবা? তাও জানিয়েছেন ভারতীয় হকির লাস্টম্যান। তাঁর কথায়, হকি গোলকিপার হওয়া আমরা বরাবরের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ব্যাপারটা সহজ ছিল না। যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন ছিল। আমাদের মতো কৃষক পরিবারে সেই অর্থব্যয় খুব কঠিন ছিল। আমাদের বাড়িতে একটা গরু ছিল। তা বিক্রি করে বাবা আমাকে প্যাড কেনার টাকা পাঠান।

টোকিও থেকে ফিরে বাবার গলায় পরিয়ে দিয়েছিলেন ব্রোঞ্জের পদক। শ্রীজেশ বলেন, বাবাকে কখনও কোনও উপহার দিইনি। আমার মনে হয়েছিল টোকিও-র পদক বাবার জন্য সেরা উপহার। আমি সেটা বাবাকে উৎসর্গ করেছিলাম। বাড়ি ফিরে সবার আগে সেটা বাবার গলায় পরিয়ে দিয়েছিলাম।