বিধায়কের চিঠি দেখিয়েও ছেলের চিকিৎসা করাতে পারলেন না বাবা

419

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: জন্মের সময় থেকেই পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ ব্লকের একটি শিশুর কোমরের অংশে দলা পাকিয়ে রয়েছে বড় মাংস পিন্ড। সেটি অনেকটা বড় টিউমারের মতো দেখতে। জন্মের পরই চিকিৎসকরা বলেছিলেন, অস্ত্রোপচার ছাড়া শিশুর শরীর থেকে ওই মাংসপিন্ড আলাদা করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলেও কোথাও কোনও সুরাহা না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় শিশুর অভিভাবকরা।

পূর্ব বর্ধমানের রায়না ২ ব্লকের উচালন গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘুসটিয়া গ্রামে বসবাস শিশুর পরিবারের। তার বাবা বিশ্বজিৎ মহন্ত ফুটপাতে সব্জি বিক্রি করেন। এতে যা রোজগার হয় তা দিয়ে তিনি কোনওরকমে সংসার চালান। তাঁর স্ত্রী মণিকাদেবী গৃহবধূ।

- Advertisement -

বিশ্বজিৎবাবু জানান, তাঁর ছেলের বয়স সাড়ে চার মাস। চিকিৎসকরা বলেছিলেন, দ্রত অস্ত্রোপচার করে শরীর থেকে ওই মাংসপিণ্ড আলাদা করা না হলে ছেলের জীবন সংশয় দেখা দিতে পারে। অস্ত্রোপচারের জন্য তিনি প্রথমে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যান। সেখানকার চিকিৎসকরা কলকাতার এনআরএস হাসপাতালে রেফার করেন। বিশ্বজিৎবাবুর অভিযোগ, তাঁরা প্রায় তিনি মাস ধরে এনআরএস হাসপাতালে যাওয়া আসা করছেন। কিন্তু প্রতিবারই বেড খালি নেই বলে তাঁদের ফেরৎ পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দিন যত যাচ্ছে ছেলের কোমরের অংশে থাকা মাংসপিণ্ডের আকার ততই বড় হচ্ছে।

বিশ্বজিৎবাবুর আরও অভিযোগ, ছেলেকে যাতে এনআরএস হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেন, সেজন্য ‘দিদিকে বলো’-র নম্বরে ফোন করে সাহায্যও চেয়েছিলেন। এনআরএস হাসপাতালে ছেলেকে ভর্তির আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। রায়নার বিধায়ক নেপাল ঘড়ুইয়ের চিঠি নিয়ে এনআরএস হাসপাতালের সুপারের কাছে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎবাবু। কিন্তু লাভ হয়নি। এবিষয়ে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহায্য প্রার্থনা করেছেন।

বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডেপুটি সুপার চিকিৎসক কুণালকান্তি দে জানিয়েছেন, জন্মগত ত্রুটির কারণে শিশুদের এই ধরনের শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়। ডাক্তারি পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘নিউরো মাইরোসিল’ বা ‘পিঙ্গো মাইরোসিল’। এর অস্ত্রোপচার খুবই জটিল। শিশুর প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে যায়। তাই অস্ত্রোপচারের জন্য কলকাতার হাসপাতালেই রেফার করা হয়েছে।’

রায়নার বিধায়ক নেপাল ঘড়ুই এদিন সব শুনে জানান, প্রয়োজনে তিনি ওই শিশুকে কলকাতার হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে আসবেন।