খুনে অভিযুক্ত ছেলের ফাঁসি চাইছেন বাবা 

986

বীরপাড়া: একজন কলেজ পড়ুয়া! আরেকজন দশম শ্রেণির পর পড়াশোনার পাট চুকিয়েছে। কিন্তু দু’জনের ছিল গলায় গলায় ভাব! সুরিদের বাড়িতে মাংস রান্না হলে ডাক পড়ত আলিদের বাড়ির মা মরা ছেলেটার। প্রয়াত শাহিন বিবির ছেলে শাহবাজকে যে ভীষণ স্নেহ করতেন ইন্দ্রদেবের মা বিমলাদেবী, তা বারবার স্মরণ করছেন শাহবাজের বাবা সিরাজ আলি। অথচ, টাকা পয়সা নিয়ে বিবাদের জেরে শাহবাজের হাতে খুন হতে হল ইন্দ্রদেবকে। শনিবার শাহবাজের বাবা সিরাজ আলি বলেন, আমি চাই আমার ছেলেকে ফাঁসি দেওয়া হোক। ও শুধু একটা মানুষকে খুন করেনি, খুন করেছে একটা পরিবারের বিশ্বাস, ভালবাসাকে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিংহানিয়া চা বাগানের বাসিন্দা বীরপাড়া কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র ইন্দ্রদেব সুরিকে কুপিয়ে খুন করে খয়েরবাড়ির জঙ্গলে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে সেদিন রাতে। গ্রেপ্তার করা হয় শাহবাজ আলি, তাঁর মামা জাকির হোসেন ও আয়ুষ্মান লোহারকে। শুক্রবার সকালে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শাহবাজের বাড়িতে চড়াও হয় উত্তেজিত জনতা। যথেচ্ছ ভাঙচুরের পর ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পরই এলাকায় পুলিশ পিকেট বসে। একই বাড়িতে থাকতেন শাহবাজের বাবা সিরাজ আলি, তাঁর দুই ভাই মীরাজ আলি ও রবিউল ইসলাম এবং তাদের বোনজামাই হায়দর আলির পরিবার।

- Advertisement -

জনতার রোষ থেকে বাঁচতে পালিয়ে যান চারটি পরিবারের লোকজনই। সিরাজের বাড়িতেই থাকেন তাঁর বিবাহিতা মেয়ে নেহার খাতুনও। সদ্য মা হয়েছেন তিনি। কিন্তু জনতার রোষ থেকে বাঁচতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে। হায়দর আলির ছেলে মন্টু আলি বলেন, আমি কলেজে পড়ি। আমার বই খাতা সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুড়ে গিয়েছে মীরাজের মেয়ে দশম শ্রেণির ছাত্রী রিয়া খাতুনের বইও। আসবাবপত্র ভাঙচুর থেকে শুরু করে লুঠ হয়ে গিয়েছে বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র।

সিরাজ আলি বলেন, আমরা সিংহানিয়া চা বাগানে তো দূরের কথা, বীরপাড়া যেতেও সাহস পাচ্ছি না। পালিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকতে হচ্ছে। শুনছি, লোকজন আমাদের খুঁজছে। আমার ছেলে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছে। কিন্তু আমরা তো কিছু করিনি। আমরা চাই, পুলিশ আমাদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা করুক। বীরপাড়া থানার ওসি পালজার ভুটিয়া বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় পুলিশ পিকেট বসেছে। পরিস্থিতি আর একটু শান্ত হলেই ওরা বাড়ি ফিরতে পারবেন।

কলেজ পড়ুয়া মন্টু আলি বলেন, একসময় হয়তো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে! কিন্তু ভাইয়ের অপকর্মের জন্য সমাজে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারব না। “ওরা অনেক ভালবাসা দিয়েছে। আর ওদের ছেলেটাকেই খুন করল আমাদের ছেলে। এত বড় বেইমানি করবে ভাবিনি। সুরি পরিবারের কারও চোখে চোখ রাখতে পারব না কোনওদিনই!” ঝরঝর করে কেঁদে ফেললেন সিরাজ আলি!