এফসি গোয়ার নতুন কোচ ফেরান্দোর মাথায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : কবে এ দেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, আর কবে থেকে খেলাধুলো শুরু হবে তা নিয়ে আপাতত গবেষণা করা ছাড়া কিছুই করার নেই এ দেশের মানুষের। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক থেকে সবুজ সংকেত আসার অপেক্ষায় বসে না থেকে অবশ্য অনুশীলনে নেমে পড়েছেন কেউ কেউ। তবে ফুটবলের মতো বডি কনট্যাক্ট গেমে সেটা সম্ভব নয় বলেই আপাতত অপেক্ষা। তবে সেখানেও কয়েকজন কোচ মাঠে নেমে সরাসরি কোচিং করাতে না পারলেও নিজেদের মতো প্রাক মরশুম প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। এফসি গোয়ার কোচ হুয়ান ফেরান্দো যেমন জানালেন, তাঁর দলের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।

এফসি গোয়া এবার আইএসএলে গ্রুপ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলবে সরাসরি। সাম্প্রতিক অতীতে এই প্রথম এ দেশের কোনও ক্লাব সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। নিশ্চিতভাবে ক্লাব সমর্থকদের কাছে এটা বড় ঘটনা। ডেম্পো স্পোর্টস ক্লাব, সালগাওকার, চার্চিল ব্রাদার্সের পর সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে গোয়ার কোনও ক্লাব বহুদিন পর বড় সাফল্য পেল। বছরদুয়েক আগে একবার সুপার কাপে চ্যাম্পিয়ন হলেও সেবার বহু ক্লাব টুর্নামেন্ট বয়কট করায় খুব একটা গুরুত্ব পায়নি গোয়ার এই সাফল্য। কিন্তু গত মরশুমের শুরু থেকেই সের্জিও লোবেরোর কোচিংয়ে গোয়া যে কর্তৃত্ব নিয়ে ফুটবল খেলেছে, তার ফসল এই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে যোগ্যতা অর্জন করা। তবে ক্লাবের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে লোবেরোকে বিদায় নিতে হয় টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই। শেষ পর্যন্ত ক্লিফোর্ড মিরান্ডার কোচিংয়ে আইএসএলের গ্রুপ পর্যায়ে গোয়া এক নম্বরে শেষ করে। তবে শেষ অবধি চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি এফসি গোয়া। এবার দায়িত্ব নিয়ে ফেরান্দোর বক্তব্যে ঘুরেফিরে এসেছে চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার প্রসঙ্গ। যদিও এএফসির কাছে আইএসএলের এই নকআউট পর্যায়ের কোনও গুরুত্ব নেই। তবু কোচরা কেন চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন জানতে চাইলে ফেরান্দো বলেন, দুটোই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। লিগ টেবিলে একনম্বরে থাকা প্রথম লক্ষ্য, তারপর কেকের উপর চেরির মতোই হবে যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারি। লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়ার তো কোনও মানে হয় না। আমার কাছে ফুটবল মানে হল প্রতি ম্যাচ, প্রতি সপ্তাহের লড়াই। তাই লিগ টেবিলে একনম্বর হওয়ার পরের চ্যালেঞ্জ তো ওটাই হওয়া উচিত। এর আগে এফসি গোয়া বেশ কয়েকবার চ্যাম্পিয়নশিপের সামনে এসেও পারেনি। তাহলে কি এটাই তাঁর কাছে চিন্তার ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে? ফেরান্দোর উত্তর, আমরা ক্লাবের তরফে একটা নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছি। তাই অতীতে কী হয়েছে তা নিয়ে না ভেবে, আমাদের উচিত সামনে তাকানো। অতীত ঘাঁটাঘাঁটি করে কিছুই পাওয়া যায় না। গত মরশুমে বা তারও আগে তো আমি ছিলাম না। তাহলে ওসব নিয়ে মন্তব্য করতে যাব কেন?

- Advertisement -

অতীত নিয়ে না ভাবলেও ভবিষ্যতের চিন্তাভাবনা এবং কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। যেহেতু এবার এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে হবে, তাই বাড়তি প্রস্তুতি খুব বেশি দরকার তা জানেন। বিশেষ করে এখন যখন সারা বিশ্বই প্রায় ধীরে ধীরে দরজা খুলে দিচ্ছে অনুশীলনের। বিশ্বের সেরা দেশগুলো তো ফের তাদের লিগও চালু করে দিয়েছে। এশিয়াতেও বিভিন্ন দেশে লিগ হচ্ছে। সেখানে ভারতবর্ষ হাত-পা গুটিয়ে বসে। আইএসএল যখনই হোক, তার আগে একমাস প্রস্তুতির সুযোগ পাবেন কোচরা। কিন্তু তাতে কি হয়ে যাবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি? এই প্রসঙ্গে ফেরান্দোর অবাক করা উত্তর, আমরা তো আমাদের প্রি-সিজন শুরু করে দিয়েছি। এরপর রহস্যের পর্দা ওঠান, দেখুন যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই সেটা নিয়ে ভেবে মাথা খারাপ করার কোনও মানে হয় না। তাতে খারাপ হয়। আমি তাই মানসিকভাবে সব সময় পজিটিভ থাকতে চেষ্টা করি। তাই এখন যে সমস্যা চলছে তার কোনও প্রভাবই পড়বে না যদি নিজেদের প্রস্তুতি এবং তার পরবর্তী সময়ে ১০০ শতাংশ দিই। তাই প্রাক-মরশুম প্রস্তুতি সব সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ দলের সাফল্যে। আমরা প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। ফুটবলারদের সবাইকে আলাদা আলাদা করে তাঁদের জন্য প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল ফিটনেস ট্রেনিংয়ের একটা চার্ট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। আর ওরা আমার নির্দেশিকা যেভাবে ঠিকঠাক পালন করছে, তাতে আমি খুশি। স্প্যানিশ কোচের লক্ষ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসে দলটাকে আইএসএল এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের জন্য মাঠে নেমে হাতেকলমে তৈরির কাজ শুরু করে দেবেন।