জয়ে ফেরা হল না এটিকে মোহনবাগানের

162

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: জয়ে ফেরা হল না মেরিনার্সদের। এগিয়ে গিয়ে ১-১ করে ফিরতে হল এদিন। পয়েন্ট ভাগাভাগির এই খেলায় কিন্তু অনেক প্রশ্ন থেকে গেল হাবাসের দলের খেলা নিয়ে। আপাতত ১১ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয়স্থানে থাকলেও খেলায় উন্নতি না ঘটালে যে ক্রমশ সমস্যা বাড়বে, সেটাও যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাল এই ম্যাচ। সেট পিস থেকে দর্শনীয় গোল এটিকে মোহনবাগানের। ৭৫ মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে রয় কৃষ্ণাকে ফাউল করায় ফ্রি কিক মেরিনার্সদের। ডোনাচিদের দেওয়াল আটকাতে পারেনি এডু গার্সিয়ার দুরন্ত ফ্রি-কিকটা। গোলার মতো গিয়ে আছড়ে পড়ে এফসি গোয়ার গোলে। মনে হয়েছিল বাকি দশটা মিনিট সামলে দিলেন ডিফেন্ডাররা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। সেই আটকে যেতেই হল। হায়দরাবাদ এফসির মতোই ৮৫ মিনিটে এফসি গোয়ার গোলটা করলেন সুপার সাব ঈশান পন্ডিতা। কর্ণার থেকে ডোনাচির হেড অরিন্দম ফেরালে ফাঁকায় দাঁড়ান ঈশান গোলে ঠেলে দেন।

এর বাইরে অবশ্য এদিন দুই দলেরই এলোমেলো ফুটবল বেশি নজরে পড়েছে। তবু বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হল। আশা করা গিয়েছিল, দুই স্প্যানিশ কোচ পাসিং ফুটবলের ফুলঝুরি ছোটাবে। হল উলটোটা। গা জোয়ারি ফুটবল এবং একইসঙ্গে ভুল পাসের প্রতিযোগিতায় নামলেন দুই পক্ষের ফুটবলাররা। বল পজেশনে এফসি গোয়া এগিয়ে থাকলেও রয় কৃষ্ণা, এডু গার্সিযা কী প্রবীর দাশরা নিয়মিত পরীক্ষা  করেছেন নবীন কুমারকে। ২৭ মিনিটে দূর্ভাগ্যজনকভাবে এডু গার্সিয়ার কর্নার থেকে শুভাশিস বসুর হেড ক্রশপিসে লেগে ফিরে না এলে হয়ত এগিয়ে যেত এটিকে মোহনবাগান। ম্যাচের একেবারে শেষদিকে ১-১ অবস্থায় জাভি হার্নান্ডেজের ফ্রি-কিকও পোস্টে লাগে। এদিনের ম্যাচে পোস্টও যেন একটা ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে। কারণ ৩০ মিনিট ও বিরতির ঠিক পরপরই এফসি গোয়ার শেরিটন ফার্নান্ডেজের শটও প্রতিহত করে ওই পোস্টই। সুযোগ পেয়েছিলেন জোরগে ওর্তিজ বা আলবার্তো নগুয়েরাও। বিশেষকরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই নগুয়েরার বাড়ানো বলটা ধরতে ওর্তিজ দেরি না করলে প্রীতম ক্লিয়ার করার সুযোগটাই পেতেন না। এদিন প্রথম একাদশে কার্ল ম্যাকহিউ চলে আসায় মাঝমাঠে ব্লকিং আগেরদিনের থেকে ভালো হয়েছে। ৩-৫-২ ছকে দলকে খেলিয়ে যে মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে লোক বাড়াতে চেয়েছিলেন হাবাস সেটা তাঁর প্রথম একাদশে শেখ সাহিল ও প্রবীর দাশকে রাখাতেই পরিষ্কার।

- Advertisement -

মোহনবাগানের সমস্যা হল, এখনও রয় কৃষ্ণা এবং ডেভিড উইলিয়ামস জুটি গত মরশুমের মতো ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেনি। ফলে বিপক্ষ ডিফেন্সের উপর প্রয়োজনীয় চাপটা তৈরি হচ্ছে না। প্রথমদিকে বিরতির পর প্রেসিং ফুটবল খেলার যে স্ট্র্যাটেজিতে হাবাস ম্যাচ বার করে নিচ্ছিলেন সেটাও যেমন ধরা পড়ে গিয়েছে, তেমনি রয় কৃষ্ণাকে মার্কিংয়ে রেখে দিলেই যে সব জারিজুরি শেষ সেটাও বোঝা হয়ে গিয়েছে বাকি দলগুলির। তবু তিনিই গোলটা আদায় করেন। বিরতির পর হুয়ান ফেরান্দো পালটা প্রেসিং ফুটবলে চাপে ফেলে দিলেন তিরি-সন্দেশ-প্রীতমদের। তখনও নামেননি ইগর আঙ্গুলো। তবে এখনও পর্যন্ত অরিন্দমসহ সবুজ-মেরুণ ডিফেন্সকে বাড়তি নম্বর দিতেই হচ্ছে। আগেরদিন যেখানে থেকে বার্তেলোমিউ ওগবেচে গোলটা দিয়েছিলেন ঠিক সেখান থেকেই এদিন নষ্ট করলেন ব্রেন্ডন। ১-১ হওয়ার পরে একা কুম্ভ হয়ে অরিন্দমই রক্ষা করে গেলেন। নাহলে এদিন ফতোরদা থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরা হত না এটিকে মোহনবাগানের।