ব্লাঁ-র দলকে আটকে আত্মবিশ্বাসী শেরিটনরা

সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা : এই এক ড্র-তেই শেষ নয়। হুঙ্কার ছেড়ে রাখলেন এফসি গোয়া কোচ হুয়ান ফেরান্দো।

বিদেশি দলগুলির বিরুদ্ধে ভালো খেলার এক লম্বা ইতিহাস রয়েছে ভারতীয় বেশকিছু ক্লাব দলের। যার মধ্যে যদি এগিয়ে থাকে কলকাতার ইস্টবেঙ্গল, তাহলে বেঙ্গালুরু এফসি বা গোয়ার ডেম্পো স্পোর্টস ক্লাবের নামও অবশ্যই আসবে। তবে এশিয়ার সেরাদের সঙ্গে টক্কর দেওয়ার সুযোগ সেভাবে কখনওই আসেনি এই ক্লাবগুলোর। আগেরকার ফরম্যাটেও এদেশের ক্লাবগুলি কখনও প্লে অফ পর্যায় থেকে উপরের টায়ারে খেলার সুযোগ করে নিতে পারত না। ফলে এএফসি কাপে খেলেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। সেখানে গত মরশুম থেকেই আইএসএলের লিগ-শিল্ড জয়ী দল এএফসির চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সুযোগ পাচ্ছে।

- Advertisement -

ফলে গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল হিসাবে এবারই প্রথম এফসি গোয়া এই সুযোগ পেলেও ফেরান্দোর দল দারুনকিছু করে ফেলবে এমনটা ভাবেননি কোনও ফুটবল বোদ্ধাই। অথচ বুধবার রাতে ভারতীয়দের গর্বিত এবং এশিয়ান ফুটবলকে অবাক করে দিয়ে কাতারের চ্যাম্পিয়ন দলকে আটকে দিলেন শেরিটন ফার্নান্ডেজ, গ্লেন মার্টিন্সরা। এখান থেকেই যে ভারতীয় ফুটবলকে এশিয়ার আরও চেনা শুরু হল, এমন কথাই এখন বলছেন ফেরান্দো, এটা ভারতীয় ফুটবলে জন্য একটা সেরা মুহূর্ত। কারণ এবার সবাই এদেশের ফুটবল সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানবে। পাঁচ-ছয় বছর আগেও এরকম পরিস্থিতি ছিল না। তবে ক্লাবগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে ভালো অ্যাকাডেমি তৈরির কাজে। যেখানে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড়ো টুর্নামেন্টের গুরুত্ব ছোট থেকে ফুটবলারদের বোঝাতে হবে।

হয়ত সেই কাজটা গোয়াতে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই কিছুটা হলেও শুরু হয়েছে। যার ফসল ব্রেন্ডন ফার্নান্ডেজ, শেরিটন, গ্লেনের মতো ফুটবলাররা। গত রাতের ম্যাচে শেরিটনের মতো তরুন যেভাবে ইয়াসিন ব্রাহিমীর মতো প্রাক্তন পোর্তো তারকাকে যেভাবে আটকে দিয়েছেন আবার একইসঙ্গে আক্রমনেও সাহায্য করেছেন তাতে ফেরান্দোও উচ্ছসিত। শেরিটন নিজে বলছেন, আমাকে সবাই বলেছিল যে ব্রাহিমী দারুন ফুটবলার। ওদের লিগেও দূর্দান্ত পারফরমেন্স করেছে। কিন্তু আমাদের কোচ বলেছিলেন, তুমি অতকিছু ভেবো না। নিজের স্বাভাবিক ফুটবল খেলো। ডিফেন্স নিয়ে ভাবতে হবে না। যখন নিজে দরকার মনে করবে তখন সামনে ফুটবলারদের সাহায্য করতে উঠে যাবে। আমি সেটাই করেছি।

গ্লেন মার্টিন্সও নিজে খুশি তাঁর এবং দলের পারফরমেন্সে। তাঁর কথায়, আল রায়ান দারুন দল জেনেও কোচ আমাদের প্রেসিং করতে বলেছিলেন। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করে গিয়েছি। যার ফলে ওরা সেভাবে আমাদের উপর জাঁকিয়ে বসতে পারেনি। দলের অধিনায়ক এডু বেদিয়া গত চার বছর ধরে এদেশে খেলছেন। ম্যাচের হাইলাইটস দেখতে দেখতে জানিয়ে দিলেন, গর্বিত দলের পারফরমেন্সে। বলতে পারেন গত চার বছরে এটাই আমার এদেশে সেরা ম্যাচ। এত ভালো খেলতে এখানকার কোনও দলকে কখনও দেখিনি। ম্যাচে রোমারিও একটা শট অল্পের জন্য গোলে ঢোকেনি। ট্যাকটিক্যালি আমরা ভালো খেলেছি। জিততে পারতাম বলছি না। কিন্তু এটাও খুব খারাপ নয়। সবথেকে বড়ো কথা এই ড্র-টা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে, পারফরমেন্স আরও ভালো করতে সাহায্য করবে আমীরশাহির দলের বিরুদ্ধে।

এফসি গোয়ার পরের ম্যাচ শনিবার আবু ধাবির আল ওয়াহাদার বিরুদ্ধে। যারা নাকি আবার প্রথম ম্যাচেই পার্সিপোলিসের কাছে হেরে বসে আছে। নিশ্চিতভাবেই তারাও প্রথম জয় পেতে ঝাঁপাবে এই ম্যাচে। কিন্তু ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার লরা ব্লাঁ-র কোচিংয়ে থাকা দলের বিরুদ্ধে যেভাবে খেললেন ভারতীয় ফুটবলাররা তাতে গর্বিত এবং উচ্ছাকাঙ্খী হতেই পারেন এদেশের ফুটবল ভক্তরা।