অপুষ্টি কমাতে ফর্টিফায়েড চাল সরবরাহ করবে এফসিআই

96

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : যাতে দরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলির শিশুরাও পুষ্টি থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আগামী বছর থেকে মিড-ডে মিল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে ফর্টিফায়েড চাল সরবরাহ করবে ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এফসিআই)। ধান থেকে চাল তৈরির সময় চালের মধ্যে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ পদার্থ বাদ পড়ে যায়। এর ফলে চালের পুষ্টিগুণ কিছুটা নষ্ট হয়। ফর্টিফিকেশন পদ্ধতিতে সেই ভিটামিন, খনিজ পদার্থ আবার চালে যুক্ত করা হয়। সেই চালের ভাত খেলে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে দার্জিলিং, কালিম্পং ও সিকিমের কিছু জায়গায় এই চাল সরবরাহ করা হয়েছে। এফসিআই জানিয়েছে, আগামীদিনে রাইস মিলগুলির কাছ থেকে চাল কেনার সময় পুরোটাই ফর্টিফায়েড চাল নেওয়া হবে। এই ধরনের চাল যাতে রাইস মিলগুলিতে তৈরি হয় সেই বিষয়ে মঙ্গলবার মিল মালিকদের অবগত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার জলপাইগুড়ির তিস্তা পর্যটন আবাসে স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব উদযাপনের অনুষ্ঠানে মিল মালিকদের এই বিষয়ে অবগত করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এফসিআইয়ের শিলিগুড়ির বিভাগের ম্যানেজার ইন্দ্রনীল মণ্ডল, পদ্মশ্রী প্রাপক করিমুল হক সহ এফসিআইয়ের একাধিক আধিকারিক ও মিল মালিকরা।

- Advertisement -

প্রতি বছর অপুষ্টির জন্য বহু অন্তঃসত্ত্বা, শিশুর মৃত্যু হয়। পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সরকারি একাধিক প্রকল্প চালু রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছিলেন, অপুষ্টির জন্য দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা সমস্যায় ভুগছে। তাই সরকারিভাবে পুষ্টিকর চাল সরবরাহ করা হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে সারা দেশে এই পুষ্টিকর চাল পৌঁছে দেওয়া হবে। এদিনের অনুষ্ঠানের পর এফসিআইয়ের বিভাগীয় ম্যানেজার ইন্দ্রনীল মণ্ডল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরেই কাজ শুরু করে দেওয়া হয়। এই বিষয় নিয়ে সমস্ত মিল মালিকদের আগেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আজও তাঁদের এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ইন্দ্রনীলবাবুর বক্তব্য, মিড-ডে মিলের চাল মূলত সরবরাহ করে রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই রাজ্য এপ্রিল থেকে জুন এবং জুন থেকে সেপ্টেম্বর- এই দুই কোয়ার্টারের চাল দিয়েছে। তৃতীয় কোয়ার্টারে রাজ্য সরকার এফসিআইয়ের কাছ থেকে চাল নিলে যে ফর্টিফায়েড চাল তাঁদের কাছে আছে, তা সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে রাজ্যের দার্জিলিং, কালিম্পংয়ে এই চাল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সিকিমেও এই চাল দেওয়া হয়েছে।

ফর্টিফায়েড চাল নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলা কৃষি আধিকারিক কবীর হাজরা বলেন, চালের মধ্যে প্রোটিন, ভিটামিন (বি৬), থায়ামিন (বি১), নায়াসিন (বি৩), ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম থাকে। এছাড়া শর্করা, ফাইবার, স্নেহপদার্থও পাওয়া যায়। এই সবই থাকে চালের ওপরের স্তরে। মিলে ধান থেকে চাল তৈরির সময় ওপরের এই অংশ নষ্ট হয়ে যায়। যে কারণে মিলের চালের থেকে ঢেঁকিছাঁটা চাল অনেক ভালো।

এদিন এফসিআই আধিকারিকরা জানান, এই খাদ্যগুণগুলি চালে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রথমে কৃত্রিমভাবে ভিটামিন, শর্করা, প্রোটিনের মিশ্রণ তৈরি হবে। এরপর চালকে গুঁড়ো করে ওই মিশ্রণের সঙ্গে মিশিয়ে আটার মতো তৈরি করা হবে। এরপর ওই পুরো মিশ্রণটিকে মেশিনের সাহায্যে ফের চালের রূপ দেওয়া হবে। এরপরে প্রতি একশোটি সাধারণ চালের মধ্যে একটি ফর্টিফায়েড চালের দানা মেশানো হবে।

জলপাইগুড়ি জেলা রাইস মিল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সহ সভাপতি বিজয় আগরওয়াল বলেন, ফর্টিফায়েড চাল তৈরির জন্য এফসিআই থেকে আমাদের বলা হয়েছে। এতদিন যে চাল উৎপাদন করতাম, তাতে গুণগতমান কমে যেত। ফর্টিফায়েড চালের সঙ্গে সাধারণ চাল মেশানো হলে পুষ্টিগুণ বাড়বে। আমাদের ব্লেন্ডিং মেশিন বসানোর কথা বলা হয়েছে। আমরা উদ্যোগী হয়েছি।