বুক ভরাট জয়ন্তীর, নিশ্চিহ্ন হওয়ার শঙ্কা ২ গ্রামের

158

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : নদীবুক উঁচু হতে হতে জয়ন্তী নদীর অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছে। এর জেরে এই নদীর পাড়ে থাকা গ্রাম জয়ন্তী ও ভুটিয়াবস্তি নিশ্চিহ্ন হওয়ার আশঙ্কা ছড়িয়েছে। পাশাপাশি, সান্তালাবাড়ি, আঠাইবস্তি, উনত্রিশ মাইল সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও ছড়িয়েছে। এমনটা হলে কয়েক হাজার মানুষ সমস্যায় পড়তে পারেন। পাশাপাশি, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অভিযোগ, সবকিছু জানা থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর এনিয়ে কোনও পদক্ষেপই করছে না।

জয়ন্তীর বাসিন্দা তথা রাজাভাতখাওয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ববি লামা বলেন, আমরা গ্রাম পঞ্চায়েতের থেকে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা খরচে জয়ন্তী নদী ঘেঁষে একটি বাঁধ তৈরি করেছি। বড় বাঁধের জন্য আমরা বহুবার বন দপ্তরকে বলেছি। কিন্তু তারা কোনও পদক্ষেপ করেনি। ফলে জয়ন্তী নদীর জন্য আমরাও চিন্তিত আছি।

- Advertisement -

১৯৩২ সালে বেঙ্গল লাইম অ্যান্ড স্টোন কোম্পানি জয়ন্তীতে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ডলোমাইট উত্তোলন শুরু করে। এরপরই ধীরে ধীরে জয়ন্তীর গুরুত্ব বাড়তে থাকে। স্থানীয় এবং দেশি-বিদেশি প্রচুর মানুষ সেসময় থেকে জয়ন্তীতে আস্তানা গাড়তে থাকেন। ওই সময় থেকেই কোচবিহার-আলিপুরদুয়ার, কুমারগ্রাম-অসম ও পূর্ব ভারতে যাতায়াতে জয়ন্তী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। ভরা বর্ষায় নদী পারাপারের জন্য নদীর ওপর রোপওয়ে বানানো হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার পরে জয়ন্তীতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করে। ১৯৯৩ সালে ভয়ংকর বন্যায় গোটা জয়ন্তী সহ আলিপুরদুয়ারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জয়ন্তী ব্রিজ সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। শুধু চারটি পিলার দাঁড়িয়ে ছিল। ২০১৮ সালের বন্যাতেও জয়ন্তীর ব্যাপক ক্ষতি হয়। হাইকোর্টে মামলা থাকায় জয়ন্তী নদী থেকে বালি-পাথর তোলা যাচ্ছে না। ফলে বালি-পাথরের জেরে প্রতি বছর নদীবুক ভরে উঠেছে। নদীখাত ভরাট হয়ে জয়ন্তী গ্রামের থেকেও কিছু কিছু জায়গায় উঁচু হয়ে আছে। পাশের গ্রাম ভুটিয়াবস্তি  সহ অন্য বনবস্তিরও একই অবস্থা। হড়পা নামলে জয়ন্তী ও ভুটিয়াবস্তি সহ অন্যান্য গ্রামের নিশ্চিহ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আলিপুরদুয়ার নেচার ক্লাবের সভাপতি অমল দত্ত বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে জয়ন্তী নদীর রিভারবেড উঁচু হতে হতে নদী আর গ্রাম প্রায় সমান হয়ে গিয়েছে। ভুটিয়াবস্তিরও একই অবস্থা। ফলে বড় ধরনের বন্যা হলে নদীপাড়ের দুই গ্রাম যে কোনও সময় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ডলোমাইট মিশ্রিত জল জঙ্গলে ঢুকে গাছের শিকড় নষ্ট করে দেবে। এমনকি বনের ভিতরে থাকা ছোট নদীগুলিতেও জল ঢুকে ছোট নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জয়ন্তীর যুবক মনোজ ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিন থেকে নদীতে  ড্রেজিং না হওয়ার ফলে আজ নদীপাড়ের তুলনায় নদীবুক অনেকটাই উঁচু হয়ে গিয়েছে। নদীর বালি, পাথরে চাপা পড়তে পড়তে নদী আর জয়ন্তী ও ভুটিয়া বস্তি সমানভাবে অবস্থান করছে। কিন্তু প্রশাসন এ বিষয়ে উদাসীন। বড় ধরনের বন্যা হলে আমরা যে কোনও মুহূর্তে নিশ্চিহ্ন হতে পারি।