ভুটানের জলে ফের বানভাসি হওয়ার শঙ্কা

175

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : বন্ধু দেশ ভুটানকে চিঠি দিয়ে কোনও উত্তর মিলছে না। ফলে পাহাড়ে কী পরিমাণে বৃষ্টি হবে, জলই বা কখন ছাড়া হবে সে সম্পর্কে  আলিপুরদুয়ার সেচ দপ্তরের কাছে কোনও তথ্য থাকছে না। প্রতি বছর ভুটানের বৃষ্টির জলে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার ভাসে। তোর্ষা, ডিমা, কালজানি সহ বেশ কিছু নদীর জল আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার শহরকেও ভাসায়। বৃষ্টির বিষয়ে ভুটান আগাম তথ্য না দেওয়ার জেরেই এমনটি হচ্ছে বলে সেচ দপ্তরের অভিযোগ। একই সমস্যায় এবারেও ভাসতে হতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন গঠনেরও দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে সেচ দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার প্রিয়ম গোস্বামী বলেন, ভুটান পাহাড়ে ঘণ্টায় কত মিলিমিটার বৃষ্টি হচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই। এই তথ্য জানতে আমরা প্রতি বছরই ভুটানকে চিঠি দিই। কিন্তু তারা আমাদের চিঠির কোনও উত্তর দেয় না। সমস্যা মেটাতে আমরা সেন্ট্রাল ওয়াটারওয়ে কমিশনকে চিঠি দিয়েছি।

- Advertisement -

ভুটান পাহাড় থেকে নেমে প্রচুর নদী আলিপুরদুয়ার জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে। এই নদীগুলিই আবার কোচবিহার জেলা হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। পাহাড়ি এই নদীগুলির জন্যই উত্তরের এই দুই জেলায় বানভাসি পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘরবাড়ি ভাসে, প্রচুর কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে যায়। সমস্যা মেটাতে ভুটানে কত পরিমাণে বৃষ্টি হয় তা জানতে প্রতিবারেই আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন, সেচ দপ্তর চেষ্টা চালায়। কিন্তু ভুটানের তরফে সেভাবে তথ্য মেলে না বলে অভিযোগ। সেচ দপ্তর গতবার ভুটানকে চিঠি দিয়েছিল। ভুটান সেই চিঠিরও জবাব দেয়নি। সমস্যা মেটাতে জেলা থেকে আলাদাভাবে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে অবগত করা হলেও এখনও তার কোনও সুরাহা হয়নি। এই সমস্যার জেরে প্রশাসন আলিপুরদুয়ারে বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় সেভাবে কোনও কাজ করতে পারছে না।

১৯৯৩  সালে আলিপুরদুয়ার বিধ্বংসী বন্যার সম্মুখীন হয়েছিল। সে বছর ১৩ জুলাই পর্যন্ত আলিপুরদুয়ারে ১,৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল।  গত বছর একই তারিখ পর্যন্ত জেলায় ৩,৫২১.৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। আলিপুরদুয়ার জেলায় যেখানে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৩,৩০০ মিলিমিটার। কয়েক বছর ধরে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের গড় এই পরিমাণকে ছাপিয়ে যাচ্ছে। তাই সমস্যা মেটাতে ভুটান যাতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করে সেই দাবি জোরালো হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের আলিপুরদুয়ারের সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ভুটানের বৃষ্টির জন্য আমাদের প্রতি বছর ভুগতে হচ্ছে। বিষয়টি দুই দেশের হওয়ায় আমরা প্রশাসনিকভাবে তা সেন্ট্রাল ওয়াটারওয়ে কমিশনকে জানিয়েছি। কিন্তু কেন্দ্রীয় ওই সংস্থা আমাদের সহযোগিতা করছে না। স্থানীয় সাংসদ ও বিধায়কও এ বিষয়ে নির্বিকার। আলিপুরদুয়ার শহর সহ সারা জেলার মানুষকে এর ফল ভুগতে হচ্ছে। বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, আমাদের দলের টিকিটে জয়ী কোনও জনপ্রতিনিধিকেই প্রশাসন বৈঠকে ডাকে না। তাই কোথায় কী জানাতে হবে সে বিষয়ে তাঁরা অবগত থাকেন না। তবে আমরাও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে বিষয়টি আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানাব।