ভাঙনে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় ছিট সাকাতি

অমিতকুমার রায়, মানিকগঞ্জ : অনেকদিন আগেই ভাঙন শুরু হয়েছে রাস্তার। অতিবর্ষণেও ভাঙন অব্যাহত। পরিস্থিতি যা তাতে নদীর জলের স্রোত বাড়লে রাস্তার বাকি অংশটুকু যেকোনো সময় বাংলাদেশের দিকে ভেসে চলে যেতে পারে। এমনটাই আশঙ্কা করছেন জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেরা কাঁটাতারের বেড়াবন্দি ছিট সাকাতির বাসিন্দারা। তাঁরা জানান, যেভাবে কুড়ুম নদীর পাড় সংলগ্ন রাস্তাটির ভাঙন অব্যাহত রয়েছে তাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে রাস্তার পাশাপাশি কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হবে। শুধু তাই নয়, গোটা গ্রামটি দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সর্বোপরি ওই গ্রামের নিরাপত্তাব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতে সমস্যায় পড়তে হবে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে।

ভৌগোলিক দিক থেকে ছিট সাকাতি গ্রামটি চতুর্দিকে বাংলাদেশ পরিবেষ্টিত দ্বীপের মতো। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য মাত্র দুই মিটারের মতো চওড়া রাস্তার ওপর নির্ভর করতে হয় গোটা গ্রামের বাসিন্দাদের। গ্রাম থেকে বের হওয়ার একমাত্র এই রাস্তার ধার দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে কুড়ুম নদী। নদীতে পাড়বাঁধ না থাকায় প্রতি বছর পাড় ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে রাস্তা সহ কৃষিজমি। বর্তমানে ভাঙন এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে যে কয়েক জায়গায় রাস্তার অধিকাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তহিরুল সরকার, রবিউল সরকার, নুর রহমান, সেকেন্দার সরকার জানান, রাস্তা ভেঙে মূল ভূখণ্ডের অন্য জায়গার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা সংলগ্ন জমি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাঁদের। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে নিজেদের দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। কাঁটাতারের ভেতরে থাকা বাসিন্দাদের কাতর আবেদন, রাস্তা ঠিক করে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার হাত থেকে বাঁচান। এলাকাবাসী সেকেন্দার সরকার, নাহিদ সরকার, আব্দুল খালেক প্রমুখ জানান, নদীর ভাঙনে রাস্তার পাশাপাশি ভারতীয় ভূখণ্ডের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। প্রতি বছর নদীর ভাঙনে তাঁদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে। তাই ভাঙন আটকাতে কুড়ুম নদীতে বোল্ডার ফেলে বাঁধ নির্মাণ এবং রাস্তার ধার বাঁধাই করে দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

ছিট সাকাতির রাস্তার পরিস্থিতি যে মোটেই ভালো নয় সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন জেলাপরিষদের স্থানীয় সদস্য বিধানচন্দ্র রায়। তিনি জানান, ওই এলাকা তিনি ঘুরে দেখেছেন। নদীর ভাঙনে রাস্তাটির বেহাল অবস্থা। গোটা বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এনেছেন। দক্ষিণ বেরুবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিমল দাস ওই এলাকার রাস্তা সংস্কারে উদ্যোগী হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি নদীর পাড়বাঁধ তৈরির জন্য সেচ দপ্তরের দ্বারস্থ হবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।