পুজোয় অনাহারের আশঙ্কা রেডব্যাংক চা বাগানে

121

শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : দুমাস ধরে মিলছে না জিআর-এর চাল। একশো দিনের কাজের মজুরিও বকেয়া। রুটিরুজির অন্যতম অবলম্বন ডায়না নদী থেকে ট্রাকে বোল্ডার বোঝাইয়ের কাজও বন্ধ। ফলে বন্ধ রেডব্যাংক চা বাগানে এখন অভাব-অনটন বাড়ছে। আশপাশের চালু চা বাগানে এখন বোনাস শুরু হয়ে গিয়েছে। তালা ঝোলানো রেডব্যাংকে সেসবের প্রশ্নই নেই। সবমিলিয়ে পুজোর আগে এখন সেখানে হতাশার ছায়া। বানারহাটের বিডিও প্রহ্লাদ বিশ্বাসের মন্তব্য, সমস্ত কিছু খোঁজখবর নিয়ে দেখা হচ্ছে।

শ্রমিকরা জানিয়েছেন, একশো দিনের কাজ সেখানে নিয়মিতই হয। তবে কারও ১৪ দিনের, আবার কারও ২৮ দিনের মজুরি বকেয়া। ডায়না নদী থেকে ট্রাকে বালি-পাথরবোঝাইয়ের কাজ খুইয়ে রোজগার হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ বেকার হযে আছেন প্রায পাঁচশো শ্রমিক। তাঁদের অনেকের পকেটে কানাকড়িও নেই। আশপাশের চালু চা বাগানে কিছু শ্রমিক অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজে গেলেও রোজ তা জোটে না।

- Advertisement -

আপার লাইনের শ্রমিক ধনরাজ ওরাওঁয়ের কথায়, বড়জোর সপ্তাহে দুই থেকে তিনদিন অন্য বাগানে কাজ মেলে। এখানকার ৭০ শতাংশ পরিবারই বালি-পাথর লোডিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয যুবক রানা সরকারের কথায়, রেডব্যাংক আগে ধূপগুড়ি ব্লকের আওতায় ছিল। তখন সমস্ত বিষয় নিযে ওই ব্লকের প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। মাত্র কয়েক মাস আগে বাগানটি বানারহাট ব্লকের আওতায় এসেছে। ফলে সমস্যার কথা বানারহাট ব্লক অফিসকে বললে ধূপগুড়ি, আবার ধূপগুড়িকে বললে বানারহাট দেখিয়ে দেয়। বাগানের এক পঞ্চায়েত সদস্য অনিতা ওরাওঁয়ের বক্তব্য, জিআর-এর চাল ও ১০০ দিনের কাজের মজুরির জন্য সবাই এসে তাগাদা দিচ্ছে। ঠিকমতো জবাব দিতে পারছি না।

কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর নির্বাচনের পর বাগানে দুদফায় জিআর-এর চাল দেওযা হয়েছিল। পরিবারপিছু ১২ কিলোগ্রাম করে ওই চাল শেষবার মিলেছিল জুন মাসে। তারপর থেকে আর মেলেনি। পুজোর আগে জিআর-এর দাবি উঠেছে। আর্থিক সংকটের কারণে বাগানের বহু যুবক কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। কেরলে কাজে যাওযা এক যুবক কয়েকদিন আগে সেখানে মারা যান। তাঁর কফিনবন্দি দেহ বাগানে ফিরে আসার পর এখনও সেখানে শোকের ছাযা।

বযস ৫৮ হয়ে যাওয়ার কারণে অনেকের নাম ফাওলইয়ের তালিকা থেকে বাদ পড়ে। খাতায়-কলমে ৮৮৬ জন শ্রমিকের মধ্যে ওই দুটি কারণে এখন সেখানে ফাওলাইয়ের টাকা পাচ্ছেন ৫০০-৫৫০ জনের মতো। শ্রমিকরা জানান, প্রত্যেক পরিবারকেই যাতে ফাওলইয়ের আওতায় আনা হয়- এমন দাবির কথা বহুবার জানানো হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে তিন মাসের বকেয়া ফাওলইয়ের টাকা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। পুজোর আগে বোনাসবিহীন ওই বাগানে এটাই প্রাপ্তি।