উদ্বেগের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন শচীন

মুম্বই : তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কেরিয়ারের মেয়াদ ছিল ২৪ বছর। আর সেই ২৪ বছরের মধ্যে ১০-১২ বছর তিনি উদ্বেগের সঙ্গে যুদ্ধ করেছেন।

মাঠে নামার আগের দিনই তিনি তাঁর ক্রিকেট কিট গুছিয়ে রাখতেন। সকালে নিজের হাতে চা বানাতেন। জামা ইস্ত্রি করতেন। আর সঙ্গে চলত মানসিক উদ্বেগের সঙ্গে যুদ্ধ!

- Advertisement -

বক্তার নাম শচীন তেন্ডুলকার। ১৯৮৩ সালে কপিলদেবের ভারত যখন প্রথম বিশ্বকাপ জিতেছিল, লর্ডসে ভিকট্রি ল্যাপ দিয়েছিল, মুম্বইয়ে বাড়তি বন্ধুদের সঙ্গে সেই দৃশ্য দেখে আবেগে ভেসেছিলেন লিটল মাস্টার। আর সেই দিনই তিনি প্রতিজ্ঞ করেছিলেন, অন্তত একবার বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়ার। ২০১১ সালে তাঁর নিজের শহর মুম্বইয়ে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছিল। ২ এপ্রিল ২০১১, আজও শচীনের জীবনে ভেরি স্পেশাল ডে হয়ে রয়েছে। যতদিন তিনি বেঁচে থাকবেন, ততদিনই এই অনুভূতিটা থাকবে।

শচীন মানেই সাফল্য। শচীন মানেই লড়াই। শচীন মানেই এগিয়ে চলার মন্ত্র। ভারতীয় ক্রিকেটমহলের সবার একথা জানা। আজ এক ওয়েবসাইটে পড়ুয়াদের সঙ্গে ক্রিকেট নিয়ে আড্ডা দিতে গিয়ে তাঁদের মনের মধ্যেও এই ভাবনা সঞ্চারিত করেছেন লিটল মাস্টার। শচীনের কথায়, ম্যাচের আগে রাতে ভালো করে ঘুম হত না। মনের মধ্যে থাকত উদ্বেগ। এই উদ্বেগের সঙ্গে ১০-১২ বছর ধরে যুদ্ধ করেছি আমি। একটা সময়, মানসিক শান্তি বজায় রাখার তাগিদে ব্যাপারটা আমার কাছে রুটিন হয়ে গিয়েছিল। কীভাবে তিনি উদ্বেগ কাটাতেন, সেকথাও জানিয়েছেন তিনি। লিটল মাস্টারের কথায়, ম্যাচের আগের রাতেই কিট ব্যাগ গুছিয়ে রাখতাম। আয়নার সামনে শ্যাডো করতাম। সকালে ঘুম ভাঙার পর নিজের হাতে চা বানাতাম। জামা ইস্ত্রি করতাম। এভাবেই উদ্বেগ কাটিয়ে ম্যাচের জন্য নিজেকে তৈরি করতাম।

দীর্ঘ কেরিয়ারে সাফল্যের পাশে ব্যর্থতাও রয়েছে তাঁর। তিনি ক্রিকেট ঈশ্বর হতে পারেন, কিন্তু বাইশ গজে তাঁকেও খারাপ সময়ে মোকাবিলা করতে হয়েছে। কীভাবে সামলাতের নিজের ব্যর্থতা? লিটল মাস্টার চেন্নাইয়ের এক হোটেল কর্মচারীর পরামর্শের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ঘটনাটা বেশ কয়েক বছর আগের। সকালে মাঠে যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছিলাম। রুম সার্ভিসে ধোসা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন এক হোটেল কর্মচারী। টেবিলে ধোসা রাখার পর আমায় আচমকা উনি বলেন, একটা কথা ছিল। আমি বলি, বলুন। জবাবে উনি বলেন, আমার কনুইয়ে গার্ডটা একটু বেশি উপরে উঠে যাওয়ায় ব্যাট সুইং নষ্ট হচ্ছে। শুনে অবাক হয়েছিলাম। পরে ওনার পরামর্শ মেনে সতর্ক থেকে সফলও হয়েছি।

সাফল্যের বীজটা তাঁর মধ্যে ঢুকেছিল ১৯৮৩ সালে। যখন লর্ডসে কপিলদেব বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। শচীনের কথায়, ১৯৮৩ সালে লর্ডসে কপিলদেবের বিশ্বকাপ হাতে তোলা, মাঠে পুরো দলের ভিকট্রি ল্যাপ দেওয়া, কখনও ভুলতে পারব না। সেদিন মনে হয়েছিল, এই বিশ্বকাপটা একবার জিততেই হবে। ২০১১ সালে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে আমার। বিশ্বজয়ে দিনটা কখনও ভুলব না। বরাবরই আমার জীবনের স্পেশাল ডে হয়ে থাকবে ২ এপ্রিল।