এবার দু’ঘন্টায় কোভিড ধরবে ফেলুদা

525

নিউজ ডেস্ক: সমস্যার কথা মাথায় এলেই বাঙালির প্রথম যে নাম মাথায় আসে তা হল ফেলুদা। চুরি থেকে ডাকাতি; বহু জটিল রহস্য এক তুরিতে সমাধান করেছেন ফেলুদা। বর্তমান পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বই করোনা সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই এবার বিশ্ব সংকটের সময়ে করোনাকে ধরতে সেই ফেলুদাই শেষ ভরসা। কোমর বেঁধে আসরে নামতে চলেছেন।

কার করোনা হয়েছে আর কার হয়নি, তা বুঝতে ফেলুদার লাগবে শুধু মিনিট পাঁচেক। তার জন্য দক্ষিণা মাত্র চারশ থেকে পাঁচশ টাকা। হেঁয়ালি মনে হলেও সত্যি। কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ বা সিএসআইআরের দুই বাঙালি বৈজ্ঞানিক চটজলদি করোনা পরীক্ষার যে কিট তৈরি করেছেন, তার নাম দিয়েছেন ‘ফেলুদা’। এই দুই বৈজ্ঞানিক হলেন দেবজ্যোতি চক্রবর্তী ও সৌভিক মাইতি। ফেলুদাকে এখন পাঠানো হয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চের কাছে অনুমোদনের জন্য। সমস্ত খুঁটিনাটি বিষয় খতিয়ে দেখে দিন কয়েকের মধ্যেই সম্ভবত অনুমোদন এসে যাবে বলে আশা করছেন দেবজ্যোতি ও সৌভিক।

- Advertisement -

ফেলুদা যখন কোনও কেসে যেতেন তখন তিনি রিভলভার সঙ্গে রাখতেন বটে, কিন্তু সবচেয়ে বেশি যেটা ব্যবহার করতেন, তা হল মগজাস্ত্র। ঠিক সেই কনসেপ্টকে ব্যবহার করে এই বাঙালি বিজ্ঞানীরাও তাঁদের মগজাস্ত্র প্রয়োগ করে করোনাকে ধরার মোক্ষম হাতিয়ার বের করে ফেলেছেন। যার জন্য না লাগবে কোনও মেশিন আর না কোনও প্রশিক্ষিত লোক। এটা হল একটা বিশেষ প্রযুক্তি এবং কাগজের একটি স্ট্রিপ। যাঁর করোনা হয়েছে তাঁর সংস্পর্শে এলে স্ট্রিপে কালো রেখা দেখা যাবে।

তাঁদের এই উদ্ভাবন নিয়ে দেবজ্যোতি জানিয়েছেন, ‘আমরা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেছি, তার নাম হল ক্যাস নাইন। এমআইটি ও ক্যালিফর্নিয়ার বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই জায়গা থেকে রিপোর্ট করা হয়েছে, তাঁরা ক্যাস ১২, ক্যাস ১৩ দিয়ে কাজ করছে। ওদের টেকনলজির নাম দেওয়া হয়েছিল শার্লক ও ডিটেক্টর। তাই আমাদের মাথাতেও ছিল, আমাদের দেশীয় টেকনলজির নামও দেশীয় গোয়েন্দার নামে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ফেলুদার থেকে ভালো নাম আর কী হতে পারে? আমাদের এই ফেলুদা হল আসলে এফ এম ক্যাস নাইন লিঙ্কড এডিটর লিঙ্ক ইউনিফর্ম ডিটেকটর অ্যাসেট।’

দেবজ্যোতি বাবু আরও বলেন, ‘আমরা আসলে দুই বছর ধরে কাজ করছি। ফেলুদা টেকনলজি এটা কেবল কোভিড-১৯ এর জন্য নয়। ভাইরাস থেকে যে কোনও অসুখ হলে  তা ফেলুদা ধরে ফেলবে। আমাদের যেমন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে, তেমনই ব্যাকটেরিয়ারও থাকে। তাদের যে ভাইরাস আক্রমণ করে, তাদের বিরুদ্ধে সেই ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। তাদের কিছু প্রোটিন আছে। এই ক্যাচ নাইন তেমনই একটা প্রোটিন। যখন কোনও ভাইরাস তাকে আক্রমণ করে, তখন ক্যাচ নাইন দিয়েই ভাইরাসের ডিএনএ চিহ্নিত করে তাকে ছোট ছোট টুকরো করে কেটে দেয়। যার ফলে ভাইরাস নিজের বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। এটা ভাইরাসের মধ্যে হয়, মানুষের শরীরে নয়। ক্যাস নাইন হলো আমাদের চিঠি পাঠানোর মতো। একটা ঠিকানা দিয়ে যদি বলা হয়, এই ভাইরাসকে চিহ্নিত করতে হবে, তা হলে সে তার কাজ করবেই। প্রোটিনটা গিয়ে ডিএনএকে খুঁজবে। এতে যদি কোভিডের ঠিকানা দিয়ে দিই, তা হলে সে করোনাকে খুঁজে বের করবে। আমরা এখানে যে ক্যাস নাইন তৈরি করেছি, সে অনেক ডিএমএ-র মধ্যে কোভিড ১৯  খুঁজে বের করতে সক্ষম। তারপর একটা পেপার স্ট্রিপ দিলে তাতে একটা লাইন দেখা যাবে। এটা নিখুঁতভাবে করে।’

তবে ফেলুদা প্রসঙ্গে দেবজ্যোতি বাবু জানিয়েছেন, যে স্ট্রিপে লাইন দেখা যাবে, সেই কাগজ আসে জার্মানি থেকে। স্বভাবতই তাঁদের গবেষণার ক্ষেত্রে জার্মানিরও একটা ভূমিকা আছে। তবে এখন সেই স্ট্রিপ ভারতেই বানাবার চেষ্টা করছেন তাঁরা। অন্যদিকে, তাঁদের উদ্বাবিত এই কিট দিয়ে করোনা পরীক্ষা করতে লাগবে মাত্র চারশ থেকে পাঁচশ টাকা। সময় লাগবে মিনিট পাঁচেকের মতো। এমনিতে এখন যে কিটের সাহায্যে পরীক্ষা করা হয়, তাতে এক জনের করোনা পরীক্ষার খরচ সাড়ে চার হাজার টাকা। ফলে চারশ থেকে পাঁচশ টাকার মধ্যে যদি করোনার পরীক্ষা সম্ভব হয় তাহলে অবশ্যই সাধারণ মানুষের অনেকটা কষ্ট লাঘব হবে।