সামাজিক রক্ষণশীলতাকে এড়িয়ে আজ হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের অ্যাম্বুলেন্স চালক সেলিনা বেগম

497

রায়গঞ্জ ২৫ অক্টোবরঃ জ্ঞান হওয়া ইস্তক জীবনকে তিনি চিনেছেন এক অসম লড়াইয়ের ময়দানে। সেই লড়াই এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন, উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালক সেলিনা বেগম। যে গ্রামে সেলিনার জন্ম সেখানে বছর কয়েক আগেও মেয়েরা সাইকেল চালালে লোকে ভ্রু কুঁচকাত। এমন রক্ষনশীল সমাজে এক গ্রাম্য তরুণীর অ্যাম্বুলেন্স চালক হয়ে ওঠাটা সত্যিই এক আশ্চর্যের বিষয়। হেমতাবাদের বাসিন্দা আশি ছুঁইছুঁই দিনমজুর নাজিরুদ্দিন আহমেদের আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে সবচাইতে ছোট সেলিনা বেগম। অভাবী সংসারে দুবেলা পেটপুরে ভাত জোটেনি কতদিন! হাজারো বাধার দুর্গম পাহাড় ঠেলে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পেয়েছেন সেলিনা। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি জোটাতে পারেননি। একে একে বসেছেন গ্রুপ ডি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সিআরপিএফ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, এমনকী প্রাথমিকের পরীক্ষাতেও। কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি কোনোটিতেই। স্নাতক হওয়ার পর পাড়ার কয়েকজন মহিলাকে নিয়ে স্বর্ণজয়ন্তী দল গড়েন। বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখভালের জন্য প্রাইভেট টিউশন পড়ানো শুরু করেন তিনি। বড় দিদি কোহিনুর বেগম হেমতাবাদ বাজারে দর্জির কাজ করেন। দুই বোনের এই সামান্য উপার্জনে চার-চারটি পেট চালাতে হিমশিম। তাই গত বছর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে যখন সুযোগ এল অ্যাম্বুলেন্স চালক হওয়ার, এক মুহূর্ত ভাবেননি। সমস্ত বাঁকা চোখ উপেক্ষা করে সরকারি উদ্যোগে ট্রেনিং নিয়ে সেলিনা এখন অ্যাম্বুলেন্স চালক। গভীর রাত হোক বা কাকভোর ফোন পেলেই গাড়ি নিয়ে ছোটেন রোগী আনতে। মানুষকে ২৪ ঘণ্টা পরিসেবা দেওয়ার জন্য ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের একটি ছোট্ট ঘরে বরদিকে নিয়ে মাথা গুঁজেছেন তিনি। উপার্জন বিশেষ নয় তবু অ্যাম্বুলেন্সের স্টিয়ারিং ঘুরিয়ে সাত দিন ২৪ ঘন্টায় মানুষের জীবন বাঁচাতে তৎপর সেলিনা। গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছে আলো ফোটান নবজাতকের চোখে। তবে শুধু সেলিনাই নন রায়গঞ্জ ব্লকের মহিলা অ্যাম্বুলেন্স চালকদের তালিকায় রয়েছেন শিখা গাটুয়া, বিপুলা বর্মন, সুধা বর্মন সহ মোট পাঁচজন জানালেন, জেলা গ্রাম উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিক সুদেষ্ণা মিত্র।