সীমান্তের গেট সামলান মহিলা জওয়ানরা

100

দীপেন রায়, মেখলিগঞ্জ : বিধানসভায় দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ বিএসএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে সীমান্তে বাচ্চাদের সামনে মহিলাদের অশালীনভাবে স্পর্শ করার অভিযোগ তুলেছিলেন। একে কেন্দ্র করে বিধানসভা উত্তাল করে গেরুয়া শিবির। যদিও বিএসএফ এমন দাবি মানতে রাজি নয়। তাদের বক্তব্য, সীমান্তে গেলে ভিন্ন ছবি দেখা যাবে। যেমন, মেখলিগঞ্জ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় গেটের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মহিলা বিএসএফ জওয়ানরা। একটি বা দুটি নয়, বিএসএফের জলপাইগুড়ি সেক্টরের ১৪৮, ৪৫,  ৪০ নম্বর ব্যাটালিয়ন যে সমস্ত জায়গায় কাঁটাতারের বেড়ার গেটে রয়েছে, সেই গেটে পরিচয়পত্র দেখা থেকে শুরু করে নাম নথিভুক্তের দায়িত্বে রয়েছেন মহিলা বিএসএফ জওয়ানরা।

দিনেরবেলা খোলা সীমান্ত সহ অন্য সীমান্তের কিছু দূর অন্তর অন্তর মহিলা বিএসএফ জওয়ানরা থাকেন। গেট বা অন্য জায়গায় কোনও মহিলার তল্লাশি করতে হলে মহিলা বিএসএফ জওয়ানরাই করেন। এমনটাই দাবি বিএসএফ আধিকারিকদের। উত্তরবঙ্গের বিএসএফের আইজি রবি গান্ধির কথায়, বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। কোনও মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি করতে হলে তা মহিলা বিএসএফ জওয়ানরা করেন। প্রত্যেক ব্যাটালিয়নে মহিলা জওয়ান রয়েছেন। বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্তে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ডিউটি করেন। তাঁদের মনোবল ভেঙে দেওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক।

- Advertisement -

যদিও মেখলিগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে এরকম অভিযোগ যে নেই, তা নয়। মাঝেমধ্যে বিএসএফ জওয়ানদের বিরুদ্ধে সীমান্তের মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করার অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, অনেকসময় পাচারে বাধা পেলে পাচারকারীদের আত্মীয়রাও এমন অভিযোগ তুলে থাকেন। বেশ কয়েক মাস আগে এক জওয়ানের বিরুদ্ধে প্রাথমিক স্কুলের ছাত্রীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে কিছু গ্রামবাসী বিক্ষোভ দেখান। পরে তদন্তে দেখা যায়, ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছে।

মেখলিগঞ্জ সীমান্তের মায়া রায়, সুজাতা রায়, বিমলা রায়রা জানালেন, কাঁটাতারের ওপারে তাঁদের কৃষিজমি রয়েছে। সেই জমিতে যাওয়ার সময় কাঁটাতারের বেড়ার গেটে মহিলা বিএসএফ জওয়ানরাই তাঁদের পরিচয়পত্র দেখেন এবং নাম নথিভুক্ত করেন। সুজাতা রায়ের কথায়, কাঁটাতার তৈরির আগে থেকে কৃষিজমিতে চাষ করতে যাই। বিএসএফ জওয়ানরা কখনও খারাপ আচরণ করেননি। কুচলিবাড়ির ১০৮ কুচলিবাড়ি এলাকায় বিএসএফের বিরুদ্ধে কয়েকবার বাড়ি ভাঙচুর, তল্লাশি, মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় মহিলার মন্তব্য, আমাদের গ্রামের অনেকে গোরু পাচার করে। তাদের খোঁজে বিএসএফ যখন গ্রামে ঢোকে, তখন যারা পাচারের সঙ্গে যুক্ত নয়, তাদেরও হয়রান হতে হয়। তবে ওই গৃহবধূর দাবি, বিএসএফ অনেক সময় বাড়িঘর তল্লাশি করে। অনেকসময় পাচারকারীদের বাড়ির মহিলারা এধরনের অভিযোগ করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।