মায়ের নিথর দেহ তোলার ব্যর্থ চেষ্টা শাবক গন্ডারের

324

মাদারিহাট : সম্ভবত নিজের মৃত্যুর সময় এসে গিয়েছে বুঝতে পেরেছিল সে। তাই নিজের দুগ্ধপোষ্য শাবকের নিরাপত্তায় জঙ্গল ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিল গ্রামের চাষের জমিতে। সন্তানকে নিরাপদ স্থানে এনে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মা। কোনও মানুষের কাহিনী নয়, এটি এক মা গন্ডার ও তার ছেলে শাবকের কাহিনী। মায়ের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলেও মাত্র আড়াই মাস বয়সের গন্ডার শাবকটি কিন্তু তা বুঝতে পারেনি। বারবারই সে মাকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করতে থাকে। বুধবার ঘটনাটি ঘটেছে  জলদাপাড়া পূর্ব রেঞ্জ সংলগ্ন সিধাবাড়ি গ্রামে বিদুর দাসের জমিতে। এ দৃশ্য দেখে অনেকেরই মন সিক্ত হয়ে ওঠে। মা গন্ডারটি পুরুষ গন্ডারের হাত থেকে নিজের শাবককে বাঁচাতে লোকালয়ে চলে আসে বলে বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের অনুমান। গন্ডারটির মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছেন বনকর্তারা।

বুধবার সকালে বিদুরবাবু তাঁর জমির ধারে পায়চারি করতে গিয়ে দেখেন একটি গন্ডার শুয়ে রয়েছে। আর মায়ের পাশে ছোট্ট গন্ডার শাবকটি বারবার মাকে তোলার চেষ্টা করছে। দীর্ঘসময় গন্ডারটিকে নড়াচড়া করতে না দেখে বিদুরবাবু বন দপ্তরে খবর দেন। এলাকার মানুষ জড়ো হয়ে য়ান। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের বনাধিকারিক কুমার বিমল বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পূর্ণবয়স্ক মা গন্ডারটি অসুস্থ ছিল। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার জানা যাবে। এদিন রাত হয়ে য়াওয়ায় ময়নাতদন্ত করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার গন্ডারটির ময়নাতদন্ত করা হবে। তিনি জানান, জঙ্গলের ধারেই সিধাবাড়ি গ্রাম। গন্ডারটি শাবকের নিরাপত্তার কথা ভেবেই হয়তো ওই জমিতে আশ্রয় নিয়েছিল। শাবকটিকে জলদাপাড়া পূর্ব রেঞ্জে আনা হয়েছে।

- Advertisement -

গন্ডারের মৃত্যুর কারণ নিয়ে বনকর্মীদের মধ্যেই ধোঁয়াশা রয়েছে। কারও মতে, বিষক্রিয়ায় গন্ডারটি মারা যেতে পারে। আবার কারও মতে, সাপের ছোবলে গন্ডারটির মৃত্যু হতে পারে। যেহেতু জঙ্গলের ধারেই সিধাবাড়ি গ্রাম, তাই গন্ডার ও অন্য বন্যপ্রাণীরা মাঝে মাঝে গ্রামে ঢুকে জমির ফসল সাবাড় করে। আবার ফসলকে পোকামাকড়ের হাত থেকে বাঁচাতে অনেকেই কীটনাশক স্প্রে করেন। এক্ষেত্রে কীটনাশক দেওয়া ফসল খেয়ে গন্ডারটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলেও অনেকে সন্দেহ করছেন।

বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক বন্যপ্রাণীই তাদের সন্তানকে মেরে ফেলে। বিশেষ করে সন্তান য়দি পুরুষ হয়। গন্ডারের ক্ষেত্রেও এই ঘটনা দেখা গিয়েছে। এক্ষেত্রেও পুরুষ সন্তানের জন্ম দেওয়া মা গন্ডারটি হয়তো তার শাবকের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে ঢুকে পড়ে। বনাধিকারিক কুমার বিমল বলেন, শাবকটিকে বাঁচানো আমাদের কাছে চ্যালেঞ্জ। তবে আপাতত সে সুস্থ আছে। মায়ের দুধের বিকল্প নেই। হাতির ক্ষেত্রে মায়ের দুধ কুনকি হাতি থেকে পাওয়া সম্ভব। গন্ডারের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। এতটুকু শাবক ঘাস খাওয়াও শেখেনি। বাইরের শুকনো দুধই ওর ভরসা।