টেন্ডার ছাড়াই চলছে সদরঘাটের ফেরি

হরষিত সিংহ, মালদা : মালদা জেলার ফেরিঘাটগুলির সামনে সরকারি নির্দেশিকা ও নিয়মাবলি লেখা থাকলেও তা মানছে না ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারির অভাবে ঝুঁকি নিয়ে খেয়া পার করছেন সাধারণ মানুষ। বর্ষার মরশুমে ফুলেফেঁপে উঠেছে মালদা জেলার নদীগুলি। যে কোনো মুহূর্তে বড়ো দুর্ঘটনা হতে পারে। সেরকম কোনো সমস্যা দেখা দিলে আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পরিকাঠামোও নেই কোনো ফেরিঘাটে। এদিকে মহানন্দা নদীর সদরঘাট ফেরি প্রায় চার বছর ধরে বিনা অনুমতিতে চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সদরঘাটের ফেরিঘাটটি মালদা জেলাপরিষদের অধীনে। চার বছর ধরে মালদা জেলাপরিষদ ওই ঘাটের জন্য কোনোরকম টেন্ডার ডাকেনি। ঘাটের টেন্ডার না হওয়ায় তা বন্ধের দাবি জানিয়ে বিষয়টি জেলা পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছে জেলাপরিষদ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। ফলে প্রায় চার বছর ধরে বেআইনিভাবেই চলছে সদরঘাটের ফেরি। এই বিষয়ে মালদা জেলাপরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ওই ঘাটে যে ফেরি চালাচ্ছে সে নিজের দায়িত্বে ফেরি চালাচ্ছে। জেলাপরিষদের পক্ষ থেকে আমরা চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত ঘাটের টেন্ডার ডাকা যায়।

- Advertisement -

মালদা জেলাপরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলাপরিষদের অধীনে প্রায় ৩৫টি ফেরিঘাট রয়েছে। এছাড়াও পঞ্চায়েতগুলির পক্ষ থেকেও বেশ কিছু ফেরিঘাটে নজরদারি চালানো হয়। তার মধ্যে কয়েকটি ফেরিঘাট বন্ধ হয়েছে নদীর উপর সেতু তৈরির জন্য। তবে জেলার ফেরিঘাটগুলিতে সরকারি সতর্কতামূলক বিধি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। ফেরিঘাট সংক্রান্ত নির্দেশিকায় রয়েছে, প্রতিটি নৌকায় লাইফ জ্যাকেট রাখতে হবে। যাত্রীদের ক্রমিক নম্বর যুক্ত টিকিট দেওয়া বাধ্যতামূলক। নৌকায় সর্বোচ্চ যাত্রীবহন ক্ষমতা লিখে রাখতে হবে। ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকায় যাত্রী প্রতীক্ষালয় ও শৌচাগার তৈরি করা হবে ও নৌকায় ওঠানামার সুব্যবস্থা করতে হবে। কিন্তু মালদা জেলার কোনো ফেরিঘাটেই যাত্রী সুরক্ষার ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইংরেজবাজার ও পুরাতন মালদার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য মহানন্দা নদীর উপর প্রায় পাঁচটি ফেরিঘাট রয়েছে। কিন্তু কোনো ফেরিঘাটে যাত্রীদের টিকিট দেওয়া হয় না। এমনকি লাইফ জ্যাকেটও নেই। এর ফলে বছরের অন্যান্য সময়ে সমস্যা না হলেও বর্ষার মরশুমে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। যাত্রীদের অভিযোগ, নদীগুলিতে বর্ষার সময়ে ছোটো নৌকা চালানো হচ্ছে। বর্ষার সময় নদীর জল ও স্রোত বেশি থাকায় যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। ছোটো নৌকা তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নদী পারাপার করে। এই বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারির দাবি তুলেছেন যাত্রীরা। পাশাপাশি ফেরিঘাটে নিয়মিত নজরদারির দাবিও উঠেছে।

যদিও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ষার মরশুমে ফেরিঘাটে মাঝেমধ্যে নজরদারি চালানো হয়। পাশাপাশি যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করা হয়। জেলাপরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলেন, এই বর্ষার মরশুমে বেশ কিছু ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষকে লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছে জেলাপরিষদের তরফে। আমরা আরও কিছু লাইফ জ্যাকেট দেব। এছাড়াও যাত্রীসুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন নিয়ম নিয়ে সতর্ক করা হবে ঘাট কর্তৃপক্ষদের।