ফিভার ক্লিনিক বন্ধ, সব রোগী এক লাইনে

462

শিলিগুড়ি : বিনা নোটিশে আচমকাই সোমবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিক বন্ধ রাখা হল। এর জেরে সন্দেহজনক কোভিড রোগী থেকে শুরু করে অন্যান্য সমস্ত রোগীকে ভিড়ে ঠাসাঠাসি লাইনে দাঁড়িয়ে বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হয়েছে। করোনা সংক্রামিত বলে সন্দেহ হলে বহির্বিভাগ থেকেই তাঁদের লালার নমুনা পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে। এদিন বিভিন্ন বহির্বিভাগ থেকে প্রায় ১০০ জন রোগীকে লালার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অর্থাৎ এঁদের সংক্রমণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এঁদের থেকেই সোমবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা করাতে আসা সাধারণ রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবল। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ফিভার ক্লিনিক কেন বন্ধ রাখা হল? ফিভার ক্লিনিক বন্ধ থাকলেও বহির্বিভাগের লাইনে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে কর্তপক্ষ কেন তৎপর হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সূত্রের খবর, ফিভার ক্লিনিকের চিকিৎসক না থাকায় এদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল ক্লিনিক। কিন্তু বিকল্প চিকিৎসকের ব্যবস্থা না করে হাসপাতালের এই সিদ্ধান্তে কেন সায় দিল জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে দার্জিলিংয়ে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রলয় আচার্য  এবং শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মণ্ডলের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন না ধরায় বক্তব্য জানা যায়নি।

এমনিতেই শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে চিকিৎসকের অভাবে বহির্বিভাগের বিভিন্ন পরিষেবা বন্ধ থাকছে। শল্য বহির্বিভাগের পাশাপাশি ইএনটি, অর্থোপেডিক্স বহির্বিভাগেও চিকিৎসকের সমস্যা রয়েছে। শল্য বহির্বিভাগের দুই স্থায়ী চিকিৎসকের একজনের বাবা মারা যাওয়ায় এবং একজনের বাবা করোনা সংক্রামিত হওয়ায় শনিবার ওই বহির্বিভাগ বন্ধ ছিল। বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় এমনিতেই সমস্যায় পড়তে হয় রোগীদের। এর উপর সোমবার সকালে আচমকাই বন্ধ রাখা হয় শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের ফিভার ক্লিনিক। ফলে সকাল থেকে সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই সন্দেহজনক করোনা সংক্রামিতদের লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে দেখা যায়। এরপর বহির্বিভাগের সামনে লম্বা লাইন পড়ে যায়। অভিযোগ, ওই লাইনে শারীরিক দূরত্ববিধি মানা তো দূর, ৯০ শতাংশ মানুষের মুখেই মাস্ক ছিল না। দূর থেকে দাঁড়িয়ে হাসপাতালের কর্মীরা বিষয়টি দেখলেও রোগীদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে কাউকে কোনও ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞদের মত অনুয়ায়ী, সোমবার শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের বহির্বিভাগের যা ছবি ছিল তাতে যে কেউ পরবর্তীতে করোনা সংক্রামিত হতে পারেন। সাধারণ রোগীদের কেউ করোনা সংক্রামিত হলে তার দায় কে নেবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ রোগী এবং তাঁদের পরিজনেরা। হাকিমপাড়ার বাসিন্দা শেফালি বণিক তাঁর শাশুড়িকে নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। টিকিট কাটার লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হতেই তিনি শাশুড়িকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। তিনি বলেন, এভাবে কোভিড সন্দেহজনক এবং সাধারণ রোগীদের এক লাইনে দাঁড় করিয়ে সাধারণ মানুষকে নিয়ে ছেলেখেলা করেছে কর্তৃপক্ষ।

ছবি- শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে রোগীদের লাইন

তথ্য – রাহুল মজুমদার, ছবি- তপন দাস